সমরেশ মজুমদার বলেছিলেন, ‘ব্যক্তির রুচি বোঝা যায় তাঁর গোড়ালি আর স্নানঘর দেখে।’ কথাটা একেবারে অগ্রাহ্য করার মতো নয়। দিন শেষে বাড়ি ফিরে গোসলখানায় গিয়ে আমরা সব ক্লান্তি এবং শরীরের ধুলো, ময়লা, দূষণ ধুয়ে নিই। ফলে ওই জায়গা পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রয়েছে কি না, সেটিও বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। গোসলখানার পরিচ্ছন্নতায় কয়েকটি উপকরণ ব্যবহার করতেই হবে। সেগুলো হলো—
দুর্গন্ধ ও জীবাণু দূর করতে ব্লিচিং পাউডার
গোসলখানার মেঝে পরিষ্কারের জন্য ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ ও জীবাণু—দুটোই দূর হয়। মেঝে ছাড়াও বাথটাব ও বেসিন পরিষ্কারের জন্য এই উপকরণ কাজে লাগে। তবে গোসলখানা পরিষ্কারের সময় জানালা ও দরজা খোলা রাখুন। এতে ব্লিচিং পাউডারে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ বেরিয়ে যাবে। ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে ব্রাশ দিয়ে ঘষে ঘষে মেঝে পরিষ্কার করে নিতে হবে। সবশেষে গরম পানি ঢালতে হবে।
ঝকঝকে মেঝের জন্য গুঁড়া সাবান
কাপড় পরিষ্কার করা ছাড়াও গুঁড়া সাবান পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন কাজে দারুণ ভূমিকা রাখে। গোসলখানার দেয়াল ও মেঝে পরিষ্কারের জন্য ব্লিচিং পাউডারের সঙ্গে গুঁড়া সাবান মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। তা ছাড়া সব সময় ঝকঝকে মেঝে পেতে পানিতে গুঁড়া সাবান মিশিয়ে মেঝে পরিষ্কার করে নিতে পারেন।
জীবাণুনাশক চাই-ই চাই
এখন সবার বাড়িতে জীবাণুনাশক স্যাভলন বা ডেটল থাকে। গোসলখানা পরিষ্কার করার জন্য পানিতে এসব জীবাণুনাশকের যেকোনো একটি মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
গরম পানি
প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বাসার সব গোসলখানার মেঝে, বেসিন ও কমোডে গরম পানি ঢেলে দিতে হবে। এতে পোকামাকড়ের উপদ্রব ধীরে ধীরে কমে যাবে। এ ছাড়া গোসলখানার ভারী ময়লাও জমতে পারবে না।
বেসিন, টাইলসের দেয়াল পরিষ্কারে বেকিং সোডা ও ভিনেগার
বেকিং সোডা ও ভিনেগার মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এটি বাথরুমের দেয়ালের টাইলস, বেসিন ও চাইলে কমোডে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এরপর ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। ঝকঝকে হয়ে উঠবে সেগুলো।
এয়ার ফ্রেশনার
গোসলখানা পরিষ্কার করার পর ফ্রেশনেস আনতে ছড়িয়ে দিতে পারেন এয়ার ফ্রেশনার। সে জন্য গোসলখানার র্যাকে রাখতে পারেন লেবু বা কমলার সুগন্ধযুক্ত এয়ার ফ্রেশনার। তা ছাড়া দুর্গন্ধ দূর করার আরও অনেক উপকরণ বাজারে পাওয়া যায়। চাইলে সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।
সূত্র: ব্লুল্যান্ড ও অন্যান্য