হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

পোস্টপার্টাম নিয়ে কিয়ারা আদভানির জরুরি টিপস

ফিচার ডেস্ক

ছবি: ইনস্টাগ্রাম

গত ২৬ আগস্ট মুক্তি পেয়েছে কিয়ারা আদভানি অভিনীত ‘টক্সিক’ চলচ্চিত্র। মুক্তির বহু আগে থেকে আলোচনায় ছিল এই সিনেমা। টক্সিকের গান ও কিয়ারার উপস্থাপন—সব নিয়েই আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনাও হয়েছে। সমালোচনার উত্তরে বিভিন্ন তারকা পাল্টা জবাব দিয়েছেন এই বলে, ‘মা হলে বুঝি এমন দৃশ্য়ে অভিনয় করতে নেই!’ সাধারণ নারী হোক বা নায়িকা; মাতৃত্বের পর শরীর ও মন—দুটোই বদলায় সবার।

ছবি: ইনস্টাগ্রাম

বেশ কিছুদিন আগে অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি সন্তান জন্মদানের পরের জীবন নিয়ে একটি পডকাস্টে কথা বলেন। আবেগে চোখে জলও চলে আসে তাঁর। পডকাস্টের ছোট ছোট ক্লিপস সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়। তিনি মা হওয়ার পরের মাসগুলোকে একজন নারীর মানসিক ও শারীরিক পুনর্গঠন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা তাঁকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ হিসেবে অনুভব করিয়েছে। কিয়ারা জানান, মাতৃত্ব তাঁর পরিচয়ে এমন এক পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল, যে জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন না। এর পাশাপাশি ছিল প্রসব-পরবর্তী সুস্থতার সময়কার মানসিক চাপ ও নীরবতা। নতুন বাবা-মায়েদের জন্য তিনি কয়েকটি পরামর্শও দিয়েছেন।

প্রসব-পরবর্তী আবেগগুলোর যথাযথ গুরুত্ব প্রয়োজন

কিয়ারা আদভানির বক্তব্য থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্দৃষ্টিগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, প্রসব-পরবর্তী সমস্যাগুলো অনেকের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তি, আত্ম-সন্দেহের অনুভূতি এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের পরিবর্তন—সবকিছু নতুন মাকে ভারাক্রান্ত করে তুলতে পারে। নতুন বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রসব-পরবর্তী এই পুনরুদ্ধারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক যাত্রা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। এটিকে এমন একটি পর্যায় হিসেবে দেখা উচিত নয়, যেখান থেকে একজন মা নীরবে এবং কোনো সহযোগিতা ছাড়াই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারবে বলে মনে করা হবে। সবার উচিত নতুন অতিথির মতো নতুন মাকেও যত্ন করা এবং তাঁর প্রতি সহনশীল হওয়া।

ছবি: ইনস্টাগ্রাম

সমর্থন মানেই সব সময় সমাধানের পথ খোঁজা নয়

মানসিক অস্থিরতার সময় সিদ্ধার্থ মালহোত্রা কীভাবে কিয়ারাকে গভীর রাতে গাড়িতে করে ঘুরতে নিয়ে যেতেন, সেই কথাও তিনি উল্লেখ করেন। কিয়ারার ভাষ্য, ‘কখনো কখনো কষ্টের মুহূর্তে যা সত্যিই প্রয়োজন হয়, তা অজস্র সমাধান নয়, বরং একজন সহযোগী সঙ্গীর ইতিবাচক উপস্থিতি।’ বিশেষ করে নতুন মায়েরা প্রায়ই অগণিত উপদেশের বন্যায় ভেসে যান। কিন্তু কাঁধে হাত রাখার মতো মানুষ তাঁরা খুঁজে পান না। কেউ যখন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, তখন তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ করার চেষ্টায় ঝাঁপিয়ে পড়ার চেয়ে, কোনো রকম বিচারের বোঝা ছাড়াই মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শোনা অনেক বেশি অর্থবহ হতে পারে।

অভিভাবকত্ব যেন একজন ব্যক্তিকে মুছে না ফেলে

কিয়ারা আদভানি বারবার মাতৃত্বের সঙ্গে আসা পরিচয়ের পরিবর্তন এবং কীভাবে তাঁকে নিজের প্রতি সদয় হতে নতুন করে শিখতে হয়েছিল, সে সম্পর্কে কথা বলেছেন। একজন মা হঠাৎ করে দেখেন, তাঁর পুরো দৈনন্দিন জীবনটাই অন্য একজন মানুষকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে; বিশেষ করে প্রথম মাসগুলোতে ক্লান্তি, হরমোনের পরিবর্তন এবং মানসিক চাপ নীরবে একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস ও স্বকীয়তা ম্লান করে দিতে পারে। একা সময় কাটানো, বিশ্রাম নেওয়া বা এমন কিছু মুহূর্ত; যা সন্তানের যত্ন নেওয়ার সঙ্গে জড়িত নয়—এসব চাওয়ার জন্য অনেক বাবা-মা অপরাধবোধে ভোগেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য নিজের মানসিক স্বাস্থ্য, সীমা বা আত্মপরিচয়কে পুরোপুরি বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়। আত্মযত্ন, আত্মবিশ্লেষণ এবং মানসিক পুনরুদ্ধারের জন্য জায়গা করে দেওয়া স্বার্থপরতা নয়; এটি ভালো অভিভাবকত্বেরই একটি অংশ।

সূত্র: এমএসএন ও অন্যান্য