হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

সুস্থ থাকতে কতটুকু রোদ দরকার, অতিরিক্ত সূর্যালোক কি ঝুঁকিপূর্ণ

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

অতিরিক্ত সূর্যালোক ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়—এ বিষয়ে প্রমাণ এখন শক্তিশালী। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, সীমিত ও পরিমিত সূর্যালোক শরীরের কিছু উপকারও করে। ছবি: পেক্সেলস

রোদ পোহানোকে একসময় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অন্যতম অংশ হিসেবে দেখা হতো। ১৯২৩ সালের একদিন। ভূমধ্যসাগর ভ্রমণ শেষে ব্রোঞ্জ রঙের ত্বক নিয়ে বাড়ি ফিরলেন ফরাসি ফ্যাশন আইকন কোকো শ্যানেল। সেই ছবি প্রকাশিত হলে ট্যান করা ত্বক সূর্যস্নান এবং রোদ পোহানো পশ্চিমা সমাজে মর্যাদাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপর ২০ শতকের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত রোদ বা সূর্যালোক চিকিৎসার অংশ হিসেবেও ব্যবহার হয়েছে। রিকেটস ও যক্ষ্মার চিকিৎসায় স্যানাটোরিয়ামে ‘হেলিওথেরাপি’ বা সূর্যালোকভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হতো।

তবে গত ৫০ বছরে ত্বকের ক্যানসারের হার বাড়তে থাকায় সূর্যের আলো নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। অতিরিক্ত সূর্যালোক ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়—এ বিষয়ে প্রমাণ এখন শক্তিশালী। ফলে সূর্যের আলো এড়িয়ে চলা এবং সানস্ক্রিন ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, সীমিত ও পরিমিত সূর্যালোক শরীরের কিছু উপকারও করে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা, শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এমনকি কিছু গবেষণায় নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো, ঘুম ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করার সঙ্গেও পরিমিত সূর্যালোকের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাহলে প্রশ্ন হলো, সুস্থ থাকতে আসলে কতটুকু রোদ দরকার?

কেন সূর্যের আলো প্রয়োজন

পরিমিত সূর্যালোক শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করে। হাড়ের স্বাস্থ্য ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য এই ভিটামিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিছু গবেষণায় উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ডির সঙ্গে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার এবং মৃত্যুঝুঁকি কমার পাশাপাশি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

১৯২৩ সালের দিকে ফরাসি ফ্যাশন আইকন কোকো শ্যানেল সৈকতে র‍ৌদ্রস্নান বিষয়টিকে জনপ্রিয় করে তোলেন। ছবি: সংগৃহীত

সূর্যের আলো রক্তচাপ কমাতেও সহায়তা করতে পারে। সূর্যের ইউভিএ রশ্মি ত্বকে পড়লে নাইট্রিক অক্সাইড নিঃসরণ হয়। এতে রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয় এবং রক্তচাপ কমতে পারে। ফলে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।

সুইডেনে ২৯ হাজার ৫১৮ নারীর ওপর ২০ বছর ধরে চালানো একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা সূর্যের আলো এড়িয়ে চলতেন, তাঁদের বিভিন্ন কারণে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি সূর্যালোক গ্রহণকারী নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ ছিল। তবে সূর্যালোকের বদলে কৃত্রিমভাবে ট্যান করার জন্য সানবেড ব্যবহারের সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ২০১১ সালের সুইডিশ এক গবেষণায় দেখা যায়, অন্তত এক দশক ধরে মাসে একবার বা তার বেশি সানবেড ব্যবহার করা নারীদের বিভিন্ন কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ৯০ শতাংশ বেশি ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনির ফিজিওলজির অধ্যাপক রেবেকা মেসনের মতে, শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি প্রদাহ কমানো, রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানো এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা করে।

মস্তিষ্ক ও ঘুমেও প্রভাব

সূর্যালোক ঘুম ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সকালের সূর্যের আলোতে থাকা নীল আলোর তরঙ্গ মস্তিষ্ককে দিনের সময় সম্পর্কে সংকেত দেয়। এতে কর্টিসল বাড়ে এবং ঘুম ঘুম ভাব সৃষ্টিকারী হরমোন মেলাটোনিনের মাত্রা কমে। ফলে মানুষ আরও সতেজ ও কর্মক্ষম বোধ করতে পারে।

সূর্যালোক ঘুম ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

দিনের আলোতে বেশি সময় কাটানোর সঙ্গে জ্ঞানীয় সক্ষমতা, প্রতিক্রিয়ার গতি ও স্মৃতিশক্তি উন্নত হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে প্রায় দেড় ঘণ্টা সূর্যালোক পাওয়ার সঙ্গে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমার সম্পর্ক রয়েছে।

সূর্যের আলো মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের মাত্রাও বাড়ায়। এই রাসায়নিক বার্তাবাহক মানুষকে শান্ত ও মনোযোগী থাকতে সহায়তা করে। তীব্র বিষণ্নতায় আক্রান্ত রোগীদের রোদযুক্ত কক্ষে রাখলে দ্রুত সুস্থ হওয়ার প্রমাণও রয়েছে। বিপরীতে পর্যাপ্ত দিনের আলো না পাওয়া বিষণ্নতার উপসর্গ, মন খারাপ আর অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কতক্ষণ রোদে থাকা উচিত

সূর্যালোক পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সবার জন্য এক নয়। বয়স, ভৌগোলিক অবস্থান, ত্বকের রং এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকির ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত দীর্ঘ সময় একটানা রোদে থাকার বদলে অল্প সময়ের জন্য নিয়মিত সূর্যালোক নেওয়ার পরামর্শ দেন।

অধ্যাপক রেবেকা মেসনের মতে, ভিটামিন ডি তৈরির জন্য দিনের মাঝামাঝি সময় সূর্যের আলো সবচেয়ে কার্যকর। কারণ, তখন ইউভিবি রশ্মির মাত্রা বেশি থাকে। হালকা ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন কয়েক মিনিট করে হাত, বাহু বা পায়ের কিছু অংশ অনাবৃত রেখে রোদে থাকা যথেষ্ট হতে পারে। তবে যেসব এলাকায় ইউভি রশ্মির মাত্রা খুব বেশি, সেখানে সকাল বা বিকেলের মাঝামাঝি সময় বেছে নেওয়া ভালো।

গাঢ় ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সূর্যালোকের সময় তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি তৈরি হতে বেশি সময় লাগে। যুক্তরাজ্যে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বসন্ত ও গ্রীষ্মে গাঢ় বাদামি ত্বকের মানুষের পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরির জন্য দুপুরে প্রায় ২৫ মিনিট সূর্যালোক প্রয়োজন হতে পারে।

ইউভি ইনডেক্স কেন গুরুত্বপূর্ণ

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা বোঝার জন্য ইউভি ইনডেক্স ব্যবহার করা হয়। মাটিতে পৌঁছানো ইউভিএ ও ইউভিবি—দুই ধরনের রশ্মির মোট পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক নির্ধারণ করা হয়। এর মাত্রা শূন্য থেকে ১১ বা তার বেশি পর্যন্ত হতে পারে। ১১ বা তার বেশি হলে তা অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার ইউভি বিকিরণ বোঝায়।

যাঁদের ত্বক অত্যন্ত ফরসা, নিজের বা পরিবারের কারও মেলানোমার ইতিহাস রয়েছে কিংবা শরীরে অনেক তিল আছে, তাঁদের ত্বক ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ গ্রহণকারীদেরও অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।

তাঁদের ক্ষেত্রেও অল্প সময়ের জন্য কিছুটা ত্বক অনাবৃত রেখে সূর্যালোক নেওয়া যেতে পারে। তবে দীর্ঘ সময়ের বদলে কম সময় রোদে থাকাই ভালো। দুপুরের কাছাকাছি সময়ে ইউভিবির অনুপাত তুলনামূলক বেশি থাকায় ভিটামিন ডি তৈরিতে তা কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে দিনের শুরু বা শেষের দিকে ইউভিবি কম থাকলেও ইউভিএর অনুপাত তুলনামূলক বেশি থাকে, যা ত্বকের বার্ধক্য এবং ক্যানসারের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখে।

শীতকালে কী করবেন

শীতকালে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরির জন্য বাইরে তুলনামূলক বেশি সময় কাটাতে হতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় সময় নির্ভর করে শরীরের কতটুকু অংশ সূর্যালোক পাচ্ছে এবং ব্যক্তি কোন অঞ্চলে বসবাস করছেন, তার ওপর।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেনস হাসপাতালের মেডিসিনের অধ্যাপক জোয়ান ম্যানসনের মতে, সুস্থ থাকার জন্য মানুষের অল্প থেকে মাঝারি মাত্রার সূর্যালোকই যথেষ্ট। তবে দীর্ঘ সময় সুরক্ষা ছাড়া রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ সরাসরি রোদে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। ব্যায়াম করা বা দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের সময় পাওয়া সূর্যালোকও উপকারী হতে পারে।

অতিরিক্ত সময় রোদে থাকলে শরীরে ভিটামিন ডি উৎপাদন বাড়তে থাকে না; বরং রোদে পোড়া, ত্বকে কালচে দাগ, অকালবার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত সূর্যালোক ত্বকের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ।

ত্বকের রং অনুযায়ী ঝুঁকি ভিন্ন

ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডার্মাটোলজি ও ফোটোবায়োলজির অধ্যাপক লেসলি রোডস বলেন, সূর্যালোকের উপকার ও ঝুঁকির ভারসাম্য ব্যক্তির ত্বকের ধরন ও রঙের ওপর নির্ভর করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গাঢ় ত্বক ইউভি রশ্মি থেকে ডিএনএকে সুরক্ষা দেয়। অন্যদিকে হালকা ত্বক খুব কম মাত্রার ইউভি রশ্মিতেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গাঢ় ত্বকে বেশি পরিমাণ মেলানিন থাকে, যা ক্ষতিকর ইউ রশ্মির বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে কাজ করে।

তবে ত্বকের রং যা-ই হোক, সূর্যের আলোতে সবারই চোখ সুরক্ষিত রাখা জরুরি। তাই বিশেষজ্ঞরা রোদ পোহানোর সময় ইউভি-৪০০ লেন্সযুক্ত সানগ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সূর্যালোক গ্রহণের নির্দেশনায় ব্যক্তিভেদে ঝুঁকি বিবেচনার একটি নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করে। সেখানে ত্বকের ধরন ও ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকির ভিত্তিতে জনগণকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত রোদে কী ক্ষতি

অতিরিক্ত সময় রোদে থাকলে শরীরে ভিটামিন ডি উৎপাদন বাড়তে থাকে না; বরং রোদে পোড়া, ত্বকে কালচে দাগ, অকালবার্ধক্য এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত সূর্যালোক ত্বকের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ।

যুক্তরাজ্যে মেলানোমা ত্বকের ক্যানসারের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধরন। সম্প্রতি এতে আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বছরে প্রথমবারের মতো নতুন মেলানোমা রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। ক্যানসার রিসার্চ ইউকে জানিয়েছে, অতিরিক্ত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শ বা সানবেড ব্যবহারের সঙ্গে এর বড় একটি অংশের সম্পর্ক রয়েছে এবং ১০টির মধ্যে ৯টি মেলানোমা প্রতিরোধযোগ্য।

জলবায়ু পরিবর্তনেও বাড়ছে ঝুঁকি

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সূর্যের ইউভি রশ্মির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। উষ্ণ আবহাওয়া এবং দীর্ঘ গ্রীষ্মের ফলে কিছু অঞ্চলে মানুষ বেশি সময় সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় গত দুই দশকে মেলানোমা আক্রান্তের হার বছরে ৪ শতাংশের কম বেড়েছে, যা ঘন ঘন তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘ গ্রীষ্মের সঙ্গে সম্পর্কিত।

আগে যেসব অঞ্চলের মানুষ তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ায় অভ্যস্ত ছিল, তারাও এখন সূর্য থেকে সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সব সময় প্রস্তুত থাকে না। টুপি, অতিরিক্ত সূর্যের আলো প্রতিরোধী পোশাক এবং সানস্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস তাই গুরুত্বপূর্ণ।

শৈশব ও কৈশোরে সূর্যালোকের অতিরিক্ত সংস্পর্শ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা বলছে, জীবনের প্রথম ২০ বছরে একজন মানুষের মোট সূর্যালোক গ্রহণের মাত্রা ভবিষ্যতে ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।

অতিরিক্ত সূর্যালোক চোখেরও ক্ষতি করতে পারে। এতে ছানি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসা না করলে ছানি শেষ পর্যন্ত দৃষ্টিশক্তি হারানোর কারণ হতে পারে।

রোদ কম পেলেও সমস্যা

যাঁরা খুব কম সূর্যালোক পাওয়া এলাকায় বসবাস করেন, তাঁদের বিশেষ করে শীতকালে ভিটামিন ডির মাত্রা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। গাঢ় ত্বকের মানুষ, বাইরে যাওয়ার সুযোগ কম এমন ব্যক্তি, অতিরিক্ত আলোতে সংবেদনশীলতা রয়েছে এমন মানুষ এবং যাঁরা শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঢেকে রাখেন, তাঁদের ভিটামিন ডির ঘাটতির ঝুঁকি বেশি।

দীর্ঘস্থায়ী ভিটামিন ডি ঘাটতি রিকেটস বা অস্টিওম্যালেশিয়ার মতো হাড়ের সমস্যার কারণ হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

তবে অতিরিক্ত ভিটামিন ডিও ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ৪ হাজার আইউ বা ১০০ মাইক্রোগ্রামের বেশি ভিটামিন ডি গ্রহণ ক্ষতিকর হতে পারে। এতে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে হাড় দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি কিডনি ও হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সূর্যালোক থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা যেমন ঠিক নয়, তেমনি দীর্ঘ সময় সুরক্ষা ছাড়া রোদে থাকাও নিরাপদ নয়। অল্প সময়ের জন্য নিয়মিত সূর্যালোক নেওয়া, ত্বকের ধরন ও স্থানীয় ইউভি মাত্রা বিবেচনা করা এবং প্রয়োজনের পর শরীর ও চোখ সুরক্ষিত রাখাই হতে পারে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র: বিবিসি