হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

ফিরিয়ে আনুন বই পড়ার অভ্যাস

ফিচার ডেস্ক

ছবি: পেক্সেলস

একসময় ছিল যখন পাড়ার মোড়ের আড্ডায় কিংবা চায়ের কাপে ঝড় তোলার মূল রসদ ছিল বই। কোনো এক নতুন রহস্য উপন্যাসের রোমাঞ্চ অথবা দস্তয়েভস্কি-রবীন্দ্রনাথের কোনো জটিল দর্শন নিয়ে আলোচনা চলে যেত তুঙ্গে। কে কোন বই পড়ল, কার কোন চরিত্রের প্রতি মায়া জন্মাল সেসব আলোচনা না থাকলে যেন আড্ডাটাই জমত না। কার পড়ার টেবিলে কোন নতুন বইয়ের মলাট চকচক করছে, তা না জানলে যেন আড্ডার অধিকারই হারিয়ে যেত। অথচ আজ সেই আড্ডার জায়গা দখল করেছে নীল আলোর স্মার্টফোন। এদিকে বইয়ের আলমারিতে জমেছে অবহেলার ধুলা। বইয়ের ভাঁজে রাখা শুকনা গোলাপের মতো আমাদের পড়ার অভ্যাসটাও আজ যেন বইয়ের তাকেই বন্দী।

বই পড়ার অভ্যাসের পরিসংখ্যানে দুঃসংবাদ

আমাদের হাতের তালুতেই এখন সারাক্ষণ বাজতে থাকে ডোপামিন দেওয়ার যন্ত্রটি। সেকেন্ডের ব্যবধানে রিলস বা টিকটকের দুনিয়া আমাদের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে। ফলে বই পড়ার সেই গভীর একাগ্রতা আজ এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। ২০২৪ সালের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জরিপ আমাদের এক রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আমেরিকার ‘টাইম ইউজ’ সমীক্ষা বলছে, ১৫ বছরের বেশি বয়সী একজন মানুষ দিনে গড়ে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ মিনিট বই পড়ে কাটান। অথচ সেই মানুষটিই টিভির পর্দায় বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে পার করে দেন প্রায় আড়াই ঘণ্টা! যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতিও আলাদা নয়। সেখানের অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এখন আর নিয়মিত বই পড়েন না। এমনকি ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের প্রতি চারজনে একজন দাবি করছেন যে তাঁরা কখনো বইয়ের পাঠক ছিলেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্তহীন ‘স্ক্রলিং’ আর দ্রুত শেষ হওয়া ভিডিও ক্লিপ আমাদের মনোযোগের সময়কালকে কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে কয়েক শ পাতার একটি বই পড়ার ধৈর্য আমরা ক্রমেই হারিয়ে ফেলছি।

কেন ফিরবেন বইয়ের টানে

স্ক্রিনের নীল আলো সরিয়ে আবার সেই পুরোনো দিনে ফেরার অনেক কারণ আছে। যেখানে গল্পের বই পড়া থাকলে তবেই আড্ডা জমত, আর একেকটি চরিত্র আমাদের সঙ্গী হয়ে থাকত সারা জীবন। সেই জাদুর দুনিয়া আপনার জন্য আজও অপেক্ষা করছে। বই পড়া কেবল সময় কাটানো নয়, এটি এক ধরনের আত্মিক সাধনা। বই পড়া মস্তিষ্কের একধরনের ব্যায়াম। গবেষণায় দেখা গেছে, ফিকশন বা গল্প পড়লে মানুষের সহানুভূতি এবং অন্যের আবেগ বোঝার ক্ষমতা বাড়ে। শুধু তাই নয়, বই পড়ার অভ্যাস স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। বই পড়ার অভ্যাস বার্ধক্যে স্মৃতিভ্রংশ বা ‘কগনিটিভ ডিক্লাইন’ রোধ করে। সর্বোপরি বই পড়া মানসিক প্রশান্তি দেয়। মাত্র ১০ মিনিটের নিবিড় পাঠ আপনার রক্তচাপ কমাতে এবং মনের দুশ্চিন্তা দূর করতে মেডিটেশনের মতো কাজ করে। বইয়ের প্রতিটি পাতা আসলে একেকটি নতুন পৃথিবীর দরজা। স্ক্রিনের নীল আলো আমাদের সাময়িক আনন্দ দিলেও বইয়ের অক্ষরগুলো আমাদের চিন্তা ও কল্পনাকে দেয় এক দীর্ঘস্থায়ী আকাশ। তাই ধুলা জমা মলাটগুলো পরিষ্কার করুন। যান্ত্রিকতা ছেড়ে ফিরে আসুন সেই শব্দমালার ঘ্রাণে। আবার সেই দিন ফিরিয়ে আনুন, যেখানে গল্পের বই ছাড়া আড্ডা অপূর্ণ থাকবে।

ছবি: পেক্সেলস

বই পড়া শুরু করার ৭ উপায়

১. পছন্দ হোক একান্তই আপনার: লোকে কী ভাববে বা কোন বই পড়লে আপনাকে ‘বুদ্ধিজীবী’ মনে হবে সেই চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন। আপনার যদি হালকা কোনো ভূতের গল্প বা প্রেমের উপন্যাস পড়তে ভালো লাগে, তবে তা দিয়েই শুরু করুন। নিজের ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিলে অভ্যাসটা বোঝা মনে হবে না।

২. ছোট ছোট পদক্ষেপ: প্রথম দিনেই বিশাল কোনো মহাকাব্য নিয়ে বসবেন না। ছোট গল্পের বই বা কম পাতলা উপন্যাস বেছে নিন। প্রতিদিন মাত্র ৫ বা ১০ পাতা পড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। লক্ষ্য পূরণ হওয়ার তৃপ্তিই আপনাকে পরের পাতায় নিয়ে যাবে।

৩. পরিবেশ হোক মায়াবী: বই পড়াকে একধরনের উৎসবে রূপান্তর করুন। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি, মৃদু আলো আর একটি আরামদায়ক চেয়ার। এই তিনটা জিনিসই আপনার পড়ার সময়টাকে রোমান্টিক করে তুলবে। ফোনটিকে অন্য ঘরে রেখে এই সময়টুকু কেবল নিজের এবং বইয়ের করুন।

৪. যা ভালো লাগে তাই পড়ুন: কোনো বই ৫০ পাতা পড়ার পরও যদি ভালো না লাগে, তবে তা জোর করে শেষ করার দরকার নেই। পৃথিবীর সব বই আপনার জন্য নয়। কোনো বই বিরক্তির কারণ হলে সেটি রেখে দিয়ে নতুন কিছু শুরু করুন। মনে রাখবেন, জীবন ছোট, তাই প্রিয় বইগুলো পড়ার সুযোগ নষ্ট করবেন না।

৫. প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার: যদি বই হাতে নিয়ে বসার সময় না মেলে, তবে অডিও বুক শোনা অভ্যাস করতে পারেন। অফিসে যাওয়ার পথে কিংবা ব্যায়াম করার সময় হেডফোনে গল্পের বর্ণনা শোনাও একধরনের পাঠ। এটি আপনার কল্পনার জগৎকে সজাগ রাখবে।

৬. আড্ডায় ফিরিয়ে আনুন সাহিত্য: বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় নতুন কী মুভি দেখলেন তার পাশাপাশি কোন বইটা আপনার জীবনকে একটু হলেও স্পর্শ করেছে তা নিয়ে কথা বলুন। বই নিয়ে আলোচনা মানুষের সামাজিক যোগাযোগকে আরও সমৃদ্ধ ও গভীর করে।

৭. লাইব্রেরির সেই মায়া: মাঝে মাঝে স্থানীয় লাইব্রেরিতে যান। হাজার হাজার বইয়ের মাঝে সময় কাটানো বা অপরিচিত বইয়ের মলাট ওলটানো আপনার ভেতরের সেই হারিয়ে যাওয়া পাঠককে জাগিয়ে তুলবে।

সূত্র: ভোগ, দ্য গার্ডিয়ান, স্টার্স ইনসাইডার

মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে মানুষ হাঁটাহাঁটি করে কেন?

আজকের রাশিফল: নিজেকে জাহির করতে চাইলে উল্টো মানসম্মান যাবে, সহকর্মীর হাসির আড়ালে ছুরি

ভালো ঘুমের জন্য ৮টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

আজকের রাশিফল: যা ছোঁবেন সেটাই সোনা হবে, তবে অন্যের জিনিসে হাত দেবেন না

জব বার্ন আউট: কাজই যখন হয়ে ওঠে ক্লান্তির কারণ

রাসায়নিক ছাড়া বাড়িতে তৈরি তেলেই রঙিন হবে চুল, জেনে নিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

আজকের রাশিফল: প্রাক্তনের বিয়েতে গিফট বা ‘মিস ইউ’ মেসেজ পাঠাবেন না, দরজায় বিপদ

জবা ফুলের রঙিন চা

জুতার দুর্গন্ধ দূর করার ৪ উপায়

কোটিপতি ভিক্ষুক: রয়েছে তিনটি বাড়ি ও ব্যবসা