মাথার ত্বকে একবার খুশকি হলে তা আর সহজে যেতে চায় না। বিশেষ করে শীতকালে যখন বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে, তখন এ সমস্যা আরও প্রবল হয়ে দাঁড়ায়। খুশকির কারণে অনেককেই চুলকানি, সাদা ফ্লেক্স বা চামড়া ওঠা এবং শেষমেশ চুল ওঠার মতো সমস্যায় পড়তে হয়। বাজারের কেমিক্যালযুক্ত অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু সাময়িকভাবে কাজ করলেও, এগুলো দীর্ঘ মেয়াদে চুলের অনেক ক্ষতি করে থাকে। খুশকির সহজ সমাধান হতে পারে ঘরোয়া ভেষজ তেল। আজকের লেখা খুশকি দূর করার কিছু ভেষজ তেল ও তার ব্যবহার নিয়ে।
খুশকির কারণ কী?
খুশকির পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে, যেমন
খুশকি দূর করতে কিছু সেরা ভেষজ তেল
ভেষজ তেলের নিয়মিত ব্যবহার কেবল খুশকিই দূর করে না; বরং আপনার চুলকেও করে তোলে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। তাই আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী সঠিক তেলটি বেছে নিন।
নারকেল তেল
এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য। নারকেল তেল মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ছত্রাক নিরোধক গুণাবলির কারণে খুশকি কমাতে দারুণ কার্যকর।
রোজমেরি অয়েল
রোজমেরি তেলে রয়েছে অ্যান্টি-সেপটিক এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান। এটি মাথার ত্বকের চুলকানি কমায় এবং চুল গোড়া থেকে মজবুত করে। তবে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের আগে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
টি-ট্রি অয়েল
এতে শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ থাকার কারণে এটি মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং খুশকি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
অলিভ অয়েল
জলপাই তেল বা অলিভ অয়েল চুলের জন্য প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এটি মাথার ত্বকের মরা চামড়া তুলতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে খুশকি দূর করতে সাহায্য করে।
যাঁদের মাথায় প্রচুর খুশকি, তাঁরা আধা কাপ লেবুর রসের সঙ্গে আধা কাপ পানি ও দুই চা-চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বক থেকে শুরু করে পুরো চুলে লাগিয়ে ভালো করে চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে নিন। এরপর আধা ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে চুল ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে ধীরে ধীরে খুশকি কমবে।
শারমিন কচি, রূপ বিশেষজ্ঞ, বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ কেয়ার
লেমনগ্রাস অয়েল
গবেষণায় দেখা গেছে, লেমনগ্রাস তেল খুশকির লক্ষণগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে। তা ছাড়া এর সুন্দর গন্ধ মনকেও ভালো রাখে।
পেপারমিন্ট অয়েল
এই তেল মাথার ত্বকে রক্ত সরবরাহ বাড়ায় এবং এর অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ খুশকি সারাতে সাহায্য করে। তবে যাদের অ্যালার্জি আছে, এটি ব্যবহারে তাদেরকে সাবধান হতে হবে।
ল্যাভেন্ডার অয়েল
ল্যাভেন্ডার তেল শুধু সুগন্ধের জন্যই নয়; বরং এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণের জন্য খুশকির চিকিৎসায় কার্যকর। এটি ব্যবহারের সময় অবশ্যই অন্য কোনো তেল যেমন নারকেল বা জলপাই তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ তেল ব্যবহারের নিয়ম আসলে খুবই সহজ। হাতের আঙুল দিয়ে অল্প করে তেল নিয়ে মাথার ত্বকে খুব ভালো করে ম্যাসাজ করুন। তেল মেখে অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করুণ, তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। খুব ভালো হয় রাতে তেল দিয়ে রেখে সকালে শ্যাম্পু করলে।
তেল দেওয়ার পর যা করবেন না
তেল দেওয়ার পর কখনোই খুব শক্ত করে চুল বাঁধবেন না, এতে চুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
তেল দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই শ্যাম্পু করবেন না। অন্তত ১ ঘণ্টা রাখবেন।
খুব জোরে চিরুনি দিয়ে চুল আচড়াবেন না।
খুশকির সমস্যায় কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
ঘরোয়া উপায়ে যদি কয়েক সপ্তাহেও খুশকি না কমে তখন অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। এ ছাড়া যদি মাথার ত্বক লাল হয়ে যায়, অস্বাভাবিকহারে চুল পড়ে বা চুলকানি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তবে দেরি না করে খুব দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।
সূত্র: স্টাইলক্রেজ, হেলথলাইন, বি বিউটিফুল ও অন্যান্য