আজ রাত ২টায় মাঠে নামবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। টেলিভিশনের পর্দায় কিংবা লাইভ স্ট্রিমে কোটি কোটি সমর্থকের চোখ থাকবে ফুটবল মাঠে। ম্যাচ শুরুর আগের এই উত্তেজনার সময়ে জেনে নিতে পারেন ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ‘ফুল ইংলিশ ব্রেকফাস্ট’ বা ফ্রাই আপ সম্পর্কে। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো সুস্বাদু ও ভারী খাবারগুলো সমন্বয় করা।
এক কাপ কফি কিংবা চায়ের সঙ্গে ধীরেসুস্থে এই খাবার উপভোগ করা অনেকের কাছে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। এই ইংলিশ ব্রেকফাস্ট যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডজুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ফুল ইংলিশ ব্রেকফাস্টের কোনো নির্দিষ্ট রেসিপি নেই। তবে কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলোকে এই খাবারের মূল অংশ হিসেবে ধরা হয়। চাইলে ব্রেকফাস্ট বা সকালের নাশতায় এই ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় খাবারটি বানিয়ে উপভোগ করতে পারেন। এ ছাড়া ঢাকার আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন ক্যাফে ও রেস্টুরেন্টে গিয়েও উপভোগ করতে পারেন।
সাধারণত বেকড বেকন ব্যবহার করা হয়, যা আমেরিকান বেকনের তুলনায় বেশি মাংসল ও কম চর্বিযুক্ত। সসেজ, ডিম, বেকড বিনস, টমেটো সসে রান্না করা বিনস, গ্রিল বা ভাজা টমেটো, মাশরুম, টোস্ট বা ফ্রাইড ব্রেড, মাখন, জ্যাম বা মার্মালেডের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। বাড়তি স্বাদের জন্য হ্যাশ ব্রাউন বা আলু, বাবল আ্যান্ড স্কুইক খাওয়া হয়। সঙ্গে থাকে চা বা কফি কিংবা কমলার জুস। এসব উপাদান মিলিয়ে তৈরি খাবার প্রোটিন, শর্করা ও চর্বির ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয় ঘটায় এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে কাজ করে। এই খাবারের সঠিক উৎপত্তি নিয়ে স্পষ্ট তথ্য না থাকলেও ধারণা করা হয়, গ্রামীণ ইংল্যান্ডে এটি এমন পুষ্টিকর খাবার হিসেবে গড়ে ওঠে, যা দীর্ঘ সময়ের শারীরিক পরিশ্রমে মানুষের শক্তি জোগাত।
ফুল ব্রেকফাস্টের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর আঞ্চলিক ভিন্নতা। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে এতে স্থানীয় উপাদান ও খাদ্যসংস্কৃতির প্রভাব দেখা যায়।
এটি সবচেয়ে পরিচিত সংস্করণ। সাধারণত বেকন, সসেজ, ডিম, বেকড বিনস, মাশরুম, টমেটো ও টোস্ট ইত্যাদি থাকে এতে। অনেক সময় ব্ল্যাক পুডিং বা বাবল অ্যান্ড স্কুইকও যোগ করা হয়।
এর স্কটল্যান্ড সংস্করণে কিছু বিশেষ স্থানীয় খাবার যুক্ত হয়। যেমন লর্ন সসেজ (চৌকো আকৃতির সসেজ), ট্যাটি স্কোনস (আলুর তৈরি স্কোন), হ্যাগিস (ভেড়ার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, ওটস ও মসলা দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবার)। এ ছাড়া কখনো কখনো যোগ করা হয় ব্ল্যাক ও হোয়াইট পুডিং।
ওয়েলসের ব্রেকফাস্টে যোগ করা হয় সামুদ্রিক শৈবাল দিয়ে তৈরি খাবার লাভারব্রেড এবং ছোট আকারের ঝিনুকজাতীয় সামুদ্রিক খাদ্য ককলেস। এগুলো বেকন, সসেজ ও ডিমের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
আইরিশ সংস্করণের বিশেষ উপাদানগুলো হলো ওটমিল, মাংস ও মসলা দিয়ে তৈরি সসেজ হোয়াইট পুডিং, খামিরের বদলে বেকিং সোডা দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী রুটি সোডা ব্রেড, আলুর রুটি পটেটো ফার্লস। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বেকন ও সসেজ এই খাবারের স্বাদ আরও বাড়িয়ে তোলে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিখ্যাত ব্রেকফাস্ট হলো আলস্টার ফ্রাই। এখানে সোডা ব্রেড, পটেটো ব্রেড, ব্ল্যাক পুডিং, হোয়াইট পুডিং—এসবের সঙ্গে বেকন, সসেজ, ডিম, টমেটো ও মাশরুম পরিবেশন করা হয়।
যদিও এটি মূলত সকালের খাবার, তবু বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অনেক ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় অল ডে ব্রেকফাস্ট হিসেবে সারা দিন পরিবেশন করা হয়। ভ্রমণকারী, পরিবার কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় এই খাবার বেশ জনপ্রিয়।
সময়ের সঙ্গে মানুষের খাদ্যাভ্যাস বদলাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পছন্দ করেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে বেকন বা সসেজের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় আ্যাভোকাডো বা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। তবে ঐতিহ্যবাহী ফুল ব্রেকফাস্টের মূল বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত রয়েছে।
ব্রিটিশ খাদ্যসংস্কৃতিতে শতকের পর শতক ধরে এটি মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ইংল্যান্ডের কোনো এক গ্রামাঞ্চলের ব্রেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট হোক, স্কটল্যান্ডের ব্যস্ত শহরের কোনো ক্যাফে হোক কিংবা আয়ারল্যান্ডের কোনো রেস্তোরাঁ; প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব স্বাদ ও বৈচিত্র্য এই খাবারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে অধিকাংশ মানুষ ভারী ও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার; যেমন পরোটা, সবজি, ডাল ও ডিম দিয়ে সকালের নাশতা করে থাকেন। তবে এখন অনেকে খাদ্যাভ্যাসের বৈচিত্র্যে আগ্রহী। ফলে বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবার পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে।
সূত্র: সিক্রেট ফুড ট্যুর, ক্যাপ্রি ক্যাফে।