চুল ঝলমলে আর রেশমের মতো করতে সব সময় অনেক সরঞ্জাম বা বিদেশি টিপস খোঁজার দরকার নেই; বরং আমাদের মা-খালাদের চুলের কথা ভাবুন; অথবা দাদি-নানিদের চুলের যত্নের কথা। চলতি সময়ে চুল সোজা করার নানান যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়। চাইলেই ঘরে বসে অনলাইনে মোটামুটি দামে চুল সোজা করার যন্ত্র অর্ডার করে ফেলা যায়। কিন্তু সে সময় এসব যন্ত্র এ দেশে পাওয়া যেত না। বিদেশ থেকে আনতে হলেও চড়া দামে কিনতে হতো। তবু কি চুল সিল্কি হতো না? হতো। আর তা চটজলদি নয়, সময় নিয়ে কেশচর্চা করে। প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার, চুল নিয়মিত আঁচড়ানো, বাঁধার ধরন এবং আরও টুকিটাকি যত্ন নিয়ে সিল্কি চুল পেতে হতো আগেকার দিনের নারীদের। এখনকার সঙ্গে সে সময়ের পার্থক্য হলো, ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে চুলের যে ক্ষতি হয় এখন, তখনকার দিনের প্রাকৃতিক কেশচর্চায় তা হওয়ার আশঙ্কা ছিল না। চুল সিল্কি তো হতোই, প্রাকৃতিক উপকরণগুলো চুলের গোড়া মজবুত বা চুল বড় করাসহ আরও বিভিন্নভাবে সহায়তাও করত।
জেন-জিদের মধ্য়ে যাঁরা ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে চুল সোজা করছেন এবং চুলের ক্ষতিও হয়েছে, তাঁরা পুরোনো দিনের টোটকাগুলো মেনে চলতে পারেন। চুলের ক্ষতি ছাড়াই চুল সোজা করতে যা যা করতে পারেন, সেগুলো জেনে নিন একঝলকে।
টক দই ও লেবুর রস
এক কাপ টক দইয়ের সঙ্গে একটি লেবুর রস ও ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। প্যাকটি চুলে লাগিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি খুশকি দূর করে এবং চুল সিল্কি দেখায়।
পাকা কলা ও মধু
একটি পাকা কলা ভালো করে চটকে নিয়ে তাতে এক চামচ মধু ও নারকেল তেল মেশান। চুলে ১ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেললে রুক্ষতা দূর হবে।
ডিম ও অলিভ অয়েল
একটি ডিমের কুসুমের সঙ্গে দুই চামচ অলিভ অয়েল এবং এক চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এটি চুলে ৪৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি ও মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
অ্যালোভেরা জেল
ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল সরাসরি চুলে ও মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে থাকা এনজাইম চুলের ক্ষতিপূরণ করে মসৃণতা আনে।
হট অয়েল ট্রিটমেন্ট
নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে মাথার ত্বকে ও চুলে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। রাতে ঘুমানোর আগে ম্যাসাজ করে সকালে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলা সবচেয়ে ভালো। এটি রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং চুলে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয়।
আপেল সিডার ভিনেগার
শ্যাম্পু করার পর এক মগ পানিতে ৩০ মিলি অ্যাপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এটি চুলের কিউটিকল মসৃণ করে চুলে দারুণ উজ্জ্বলতা আনে।
চালের পানি
ভাত রান্নার চাল ধোয়া পানি দিয়ে চুল ধুলে চুলে ভিটামিন বি, সি এবং ই এর পুষ্টি পৌঁছায়, যা চুল নরম করে।
গরম পানি বাদ দিন
চুল ধোয়ার জন্য কখনো অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না। এটি চুলের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয়। সব সময় সাধারণ বা হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।
হিট স্টাইলিং কমানো
হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনারের মতো গরম যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমাতে হবে। অতিরিক্ত হিট চুল ভঙ্গুর ও রুক্ষ করে তোলে।
সিল্ক বা সাটিনের বালিশের কভার
সুতির বদলে সাটিনের বালিশের কভার ব্যবহার করলে চুলে ঘর্ষণ কম হয়। ফলে চুলে কম জট পাকে ও মসৃণ থাকে।
শ্যাম্পু করার সময় তা শুধু মাথার ত্বকে ব্যবহার করুন, পুরো চুলে নয়। ফেনা ধুয়ে যাওয়ার সময় চুল এমনিতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন। এটি চুলের গোড়া বা মাথার ত্বকে না লাগিয়ে কান থেকে চুলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত লাগান এবং ২ থেকে ৩ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোয়ার জন্য সব সময় ঠান্ডা বা সাধারণ তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করুন। হালকা গরম পানি চুল রুক্ষ করে দেয়।
শ্যাম্পু করার পর তোয়ালে দিয়ে চুল জোরে ঘষবেন না। এতে চুলের কিউটিকল নষ্ট হয়ে চুল রুক্ষ হয়ে যায়। নরম সুতি টি-শার্ট বা মাইক্রোফাইবার তোয়ালে দিয়ে চুল চেপে পানি শুকিয়ে নিন। ভেজা চুল নরম ও দুর্বল থাকে, তাই ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়াবেন না। চুল আধা-শুকনো হলে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে নিচ থেকে জট ছাড়ানো শুরু করুন।
সূত্র: ফরেস্ট অ্যাসেনশিয়ালস ও ফার্ম ইজি