চুল শুধু সৌন্দর্যের অংশ নয়, নিজের যত্ন ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশেরও একটি অনুষঙ্গ। তাই চুল পরিপাটি রাখতে কিংবা সাজে একটু ভিন্নতা আনতে হেয়ার ক্লিপের ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। কখনো ব্যস্ত সকালে দ্রুত চুল গুছিয়ে নিতে, আবার কখনো পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ছোট্ট এই অনুষঙ্গ সহজে বদলে দিতে পারে পুরো লুক। তবে সৌন্দর্যের আড়ালে থেকে যায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—চুলের সুস্থতা। প্রতিদিন একইভাবে, খুব শক্ত করে কিংবা দীর্ঘ সময় ক্লিপ ব্যবহার করলে চুলের ওপর তৈরি হতে পারে অতিরিক্ত টান ও ঘর্ষণ। এর প্রভাবে চুল দুর্বল হয়ে ভেঙে যেতে পারে, এমনকি দীর্ঘদিন একই জায়গায় চাপ পড়লে নির্দিষ্ট অংশে চুল পাতলা হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই চুল সাজানোর পাশাপাশি ক্লিপ ব্যবহারের ধরন নিয়েও একটু সচেতন হওয়া জরুরি।
হেয়ার ক্লিপ মূলত দুভাবে চুলের ক্ষতি করতে পারে, এর একটি হলো অতিরিক্ত টান ও ঘর্ষণের মাধ্যমে। শক্ত করে ক্লিপ লাগালে চুলের গোড়ার ওপর চাপ পড়ে। অন্যটি হলো ক্লিপের ধারালো অংশের মাধ্যমে। এই অংশ চুলের বাইরের স্তরে ঘর্ষণ তৈরি করে। বারবার এমন হলে চুলের ওপরের দিক দুর্বল হয়ে সহজে ভেঙে যায়।
ক্লিপ ব্যবহারে চুল মাঝখান থেকে ভেঙে গেলে সেটিকে হেয়ার ব্রেকেজ বলা হয়। এতে সাধারণত চুলের গোড়া অক্ষত থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন একই জায়গায় শক্ত করে চুল আটকে রাখলে গোড়ায় অতিরিক্ত টান পড়ে। এর ফলে ধীরে ধীরে চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে। ক্লিপ ব্যবহারের শুরুতে অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি। কারণ, দীর্ঘস্থায়ী টানে ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সব ক্লিপ চুলের জন্য সমান নয়। বড় আকারের ক্ল ক্লিপ চুলের বেশি অংশ ধরে রাখে এবং চাপ তুলনামূলকভাবে ছড়িয়ে দেয়। তাই খুব ছোট বা শক্ত ক্লিপের বদলে চুলের পরিমাণ অনুযায়ী বড় ক্লিপ বেছে নেওয়া ভালো। ক্লিপের উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ। মসৃণ ও পালিশ করা ক্লিপ চুলে কম ঘর্ষণ তৈরি করে।
ভেজা চুল তুলনামূলক বেশি ভঙ্গুর। এই অবস্থায় শক্ত করে ক্লিপ লাগালে চুল ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই গোসলের পর চুল কিছুটা শুকিয়ে নিয়ে আলগাভাবে ক্লিপ ব্যবহার করা ভালো।
ক্লিপ লাগানোর জায়গায় বারবার চুল ভাঙা, ছোট ছোট চুল দেখা, মাথার ত্বকে ব্যথা বা টান অনুভূত হওয়া কিংবা কপালের পাশ ও চুলের গোড়ায় ধীরে ধীরে চুল পাতলা হয়ে গেলে সতর্ক হওয়া উচিত। সমস্যা বাড়তে থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সূত্র: হেয়ার কেয়ার সিএন