ডোপামিন ড্রেসিং খুব চর্চা হচ্ছে এখন। তা-ও একটু বলে নিই, ডোপামিন ড্রেসিং হচ্ছে এমন ধরনের পোশাক পরা, যা আপনার মস্তিষ্কে ভালো অনুভূতির হরমোন ডোপামিন ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে মন ঝরঝরে হয়ে ওঠে। অলংকারের ক্ষেত্রেও এই একই কথা প্রযোজ্য। একটু মনে করে দেখুন, ছোটবেলায় মা, দাদি-নানিরা বাড়ির ছোট মেয়েদের কানে, গলায় বা পায়ে কোনো না কোনো অলংকার পরিয়ে রাখতেন। তাঁরা বিশ্বাস করতেন, গয়না পরার সঙ্গে মন ভালো থাকার সম্পর্ক রয়েছে। আর মন ফুরফুরে রাখতে কোন কোন গয়না পরা যেতে পারে, তা জানতে পড়ে ফেলুন এই ফিচার।
গয়না শুধু সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ নয়, এটি আপনার মনের কথা বলে। রঙের মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী জেনে নিন কেমন গয়না পরলে মন চনমনে থাকবে—
উজ্জ্বল রঙিন পাথরের গয়না
গয়নার বাক্সে উজ্জ্বল রঙিন পাথরের গয়না একটু একটু করে জমাতে থাকুন। হলুদ পাথরের গয়না রাখতে পারেন। এটি যেকোনো ধরনের পোশাকের সঙ্গে পরা যায়। তা ছাড়া হলুদ রংকে মনে করা হয় আনন্দ ও আশাবাদের প্রতীক। এমন পাথর বসানো অলংকার পরলে মন চনমনে হয়ে ওঠে। হলুদ রং পরতে না চাইলে পান্না বা সবুজ রঙের পাথরের আংটি, লকেট বা অন্য যেকোনো অলংকার পরতে পারেন। সবুজ রং প্রকৃতি ও শান্তির বার্তা দেয়। এটি মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া অ্যাকুয়ামেরিন রত্নের অলংকার দেখতেও সুন্দর। এটি পরলেও মন চনমনে হয়ে উঠবে। ধারণা করা হয়, অ্যাকুয়ামেরিনের গয়না পরলে মানসিক প্রশান্তি ও স্থিরতা আসে।
একটু বড় আকারের গয়না
হালকা গয়না প্রতিদিন পরার জন্য ভালো। কিন্তু যেদিন আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ করবেন, সেদিন একটু বড় আকারের বোল্ড মেটাল চেইন, মোটা বালা বা বড় কানের দুল পরুন। ফ্যাশন সাইকোলজিস্টদের মতে, এই ধরনের গয়না পরিধানকারীকে তাৎক্ষণিক সাহসিকতা ও আত্মবিশ্বাস জোগায়, যা মন উদ্দীপ্ত করে।
স্মৃতি জড়ানো গয়না
যে গয়নাগুলোর সঙ্গে আপনার কোনো সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে আছে, সেগুলো মন ভালো করার মহৌষধ। মায়ের দেওয়া কোনো আংটি, প্রিয় মানুষের উপহার দেওয়া লকেট কিংবা নিজের কোনো বিশেষ অর্জনের দিনে কেনা ব্রেসলেট অবচেতনভাবেই আপনার মস্তিষ্ককে নিরাপদ ও সুখী অনুভূতি তৈরি করবে, যা নিমেষে মানসিক চাপ কমিয়ে দিতে পারে।
অ্যাংজাইটি রিং বা স্পিনার রিং
যাঁরা একটু বেশি দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তাঁরা সাজ বাক্সে বিভিন্ন ধরনের স্পিনার রিং রাখতে পারেন। এই আংটিগুলোর ভেতরের বা বাইরের অংশটি আঙুল দিয়ে ঘোরানো যায়। যখনই মন অস্থির লাগে বা দুশ্চিন্তা হয়, তখন নখ খোঁটা, দাঁত দিয়ে নখ কাটার পরিবর্তে এটি ঘোরানোর মাধ্যমে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতে পারেন। একে বলা হয় গ্রাউন্ডেড থেরাপি, যা মনের অস্থিরতা কমায়।
রিনিঝিনি টুংটাং শব্দের গয়না
নূপুর বা চুড়ির হালকা মিষ্টি আওয়াজ মানুষের মন শান্ত করতে সাহায্য করে। এই মৃদু শব্দ শ্রবণেন্দ্রিয় সজাগ করে এবং নেতিবাচক চিন্তা থেকে মন দূরে সরিয়ে আনে। মাঝেমধ্যে এমন গয়না পরুন। মন চনমনে থাকবে।
প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতি অনুযায়ী, সোনা প্রাকৃতিকভাবে একটি উষ্ণ ধাতু, যা শরীরের স্পর্শে এলে একধরনের শান্তিদায়ক অনুভূতি তৈরি করে। এটি রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করেন অনেকে। রক্তসঞ্চালন ঠিক থাকলে শরীর শিথিল হয়, ফলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমে যায়। সোনার তৈরি তাই ছোট নাকফুল, কানের টপ, গলার চেইন বা আংটি সব সময় পরে থাকতে পারেন।
বলছি, পরেরবার যখনই মনটা একটু মেঘলা থাকবে, বাক্স থেকে বের করে নিন আপনার পছন্দের কোনো উজ্জ্বল গয়না এবং নিজেকে ফিরে আনুন নতুন করে।
সূত্র: টার্কিশ ব্লিং, লা টেলিটা মুড বুস্টিং গাইড, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক ও অন্যান্য