হোম > জীবনধারা > সাজসজ্জা

দেশজ রূপে শরতের অন্দরসজ্জা

ফারিয়া রহমান খান 

ছবি সৌজন্য: রিনিশ

ঋতু বদলালে নতুন নতুন কেনাকাটায় ঘর ভরে তুলতে হবে—এমন কৃত্রিম ভাবনা থেকে বের হয়ে আসার সময় এসেছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে দীর্ঘ শীত আগমনের আগে শরতে কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। তবে বাঙালির আবহমান সংস্কৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের আবহাওয়াগত অভিঘাত তেমন নয়। বর্ষার ঘন কালো মেঘ কেটে শরতের নীল আকাশ উঁকি দিলে কাশফুলের স্নিগ্ধতা ঘরের মধ্যে আনার তাগিদ জাগে।

আমাদের দেশের জলবায়ু পশ্চিমা দেশগুলোর মতো নয়। তাই ইন্টারনেট ঘেঁটে অটাম হোম লুক খুঁজে লাভ নেই। বলছি, শরতের এই সময়ে ঘর সাজাতে আলো-বাতাসের সহজ চলাচল, প্রাকৃতিক টোন এবং দেশীয় টেকসই উপকরণকে প্রাধান্য দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

ছবি সৌজন্য: রিনিশ

মাটির টোন ও দেশজ উপকরণের মেলবন্ধন

শরতে অন্দরমহলে রঙের ভারসাম্য রাখতে ব্যবহার করুন টেরাকোটা, অলিভ গ্রিন, মাস্টার্ড ইয়েলো, বেজ কিংবা কফি ব্রাউনের মতো উষ্ণ টোন। গৃহসজ্জায় আধুনিক প্লাস্টিক বা কৃত্রিম সামগ্রীর বিকল্প হিসেবে আনতে পারেন দেশীয় হস্তশিল্প ও প্রাকৃতিক উপাদান।

» ঘরের ফ্যাব্রিকস নির্বাচনে: পাতলা সুতির বদলে সোফায় খাদি, হ্যান্ডলুম বা নকশিকাঁথার কুশন কভার ব্যবহার করতে পারেন। সোফার এক কোণে একটি নকশিকাঁথা ‘থ্রো’ হিসেবে ফেলে রাখলে, তা যেমন দেখতে সুন্দর লাগবে, তেমনি ঘরের আমেজেও এনে দেবে আলাদা এক নান্দনিকতা।

» পাট, বেত ও মাটির ছোঁয়া: প্লাস্টিকের শোপিসের বদলে পাটের টেবিল রানার, বেতের ঝুড়ি, বাঁশের ট্রে কিংবা মাটির মোমদানি ব্যবহারে ঘর হয়ে ওঠে স্নিগ্ধ। মেঝেতে ভারী কার্পেট তুলে পেতে দিতে পারেন প্রশান্তিদায়ক শীতলপাটি বা মোটা বুননের পাটের ডুরি রাগস, যা ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমেও স্বস্তি দেবে।

ছবি সৌজন্য: রিনিশ

দেয়ালে লোকজ ঐতিহ্য ও ইনডোর প্ল্যান্ট

ঘরের সাদা একঘেয়ে দেয়ালে ঐতিহ্যবাহী মোটিফ ফুটিয়ে তোলা বেশ সহজ। ফ্রেম করা নকশিকাঁথা, রিকশা আর্টের রঙিন ওয়াল প্লেট কিংবা নান্দনিক ফ্রেম একটি সাধারণ দেয়ালকে নিমেষে করে তুলতে পারে ঘরের মূল আকর্ষণ।

এর পাশাপাশি শরতের স্নিগ্ধ পরশ ঘরে ফিরিয়ে আনতে ইনডোর প্ল্যান্টগুলোকে নতুনভাবে গুছিয়ে নিতে পারেন। জানালার ধারে বা লিভিং রুমের ফাঁকা কোণে সিরামিক কিংবা পোড়ামাটির টবে রাখা মানি প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, এরিকা পাম বা জেড প্ল্যান্ট ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করার পাশাপাশি চমৎকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য এনে দেয়। আবার সেন্টার টেবিলে কাচের পাত্রে গুচ্ছাকারে রাখা কিছু শুকনা কাশফুল বা শুকনা ঘাসও হতে পারে শরতের প্রতীক।

ছবি সৌজন্য: রিনিশ

আলোর খেলা ও সুবাসের স্নিগ্ধতা

ঘরের আলো ও সুবাস মানুষের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। দিনের বেলায় যতটা সম্ভব পর্দা সরিয়ে দিয়ে ঘরের ভেতর প্রাকৃতিক আলো আসতে দিন। তবে সন্ধ্যার পর তীব্র ও কড়া সাদা আলোর বদলে ব্যবহার করুন ওয়ার্ম হোয়াইট আলো, সুন্দর টেবিল ল্যাম্প, লণ্ঠন কিংবা বেতের তৈরি ল্যাম্পশেড। নরম ও উষ্ণ আলোয় সন্ধ্যার পর পুরো অন্দরমহলে তৈরি হবে এক দারুণ শান্ত পরিবেশ।

এর সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন সুবাসের ছোঁয়া। দৃশ্যের পাশাপাশি ঘরের অনুভূতি বদলাতে লেমন গ্রাস, দারুচিনি, লবঙ্গ বা ভ্যানিলার মতো প্রাকৃতিক এসেনশিয়াল অয়েল অথবা ডিফিউজার ব্যবহার করতে পারেন।

ঘর সাজানো মানে অতিরিক্ত দামি জিনিস দিয়ে ঘর ভরিয়ে ফেলা নয়। অপ্রয়োজনীয় বস্তু সরিয়ে ঘর খোলামেলা ও পরিচ্ছন্ন রাখাই আসল শিল্প। কৃত্রিম উপকরণের দিকে না ঝুঁকে আমাদের ঐতিহ্য; যেমন পাটের রানার বা টেরাকোটা আর মাটির ফুলদানির মতো জিনিসপত্রের মেলবন্ধনে সাজানো অন্দরমহল এনে দেবে শরতের প্রকৃত প্রশান্তি।

সূত্র: আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট অবলম্বনে