হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

আরবীয়দের আধুনিক চুলের যত্নে প্রাচীন রহস্য

ফিচার ডেস্ক

ছবি: পেক্সেলস

মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত মানুষের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হলো উজ্জ্বল, স্বাস্থ্যকর চুল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরব উপদ্বীপজুড়ে নারীরা তাঁদের চুলের যত্ন নিতে প্রাকৃতিক প্রতিকার এবং ঐতিহ্যবাহী রীতির ওপর নির্ভর করে আসছেন। আরবীয়দের চুলের পরিচর্যার প্রাচীন রহস্য আসলে কী? উজ্জ্বল ও মজবুত চুলের জন্য তাঁরা কীভাবে যত্ন নেন, তা নিয়েই এবারের আয়োজন।

তেলের ব্যবহার

আরবীয় নারীরা চুলকে পুষ্টি জোগাতে এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করে থাকেন। এসব তেলের মধ্য়ে রয়েছে অর্গান তেল, যাকে ‘তরল সোনা’ বলা হয়। আর্গানগাছের বীজ থেকে প্রাপ্ত এই তেলটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ‘ই’তে ভরপুর, যা মাথার ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং চুলের গোড়া মজবুত করে। তাঁদের চুলের যত্নের আরেকটি অপরিহার্য উপাদান হলো বাদামের তেল, যা চুলের কোঁকড়া ভাব কমানো, উজ্জ্বলতা বাড়ানো এবং পরিবেশগত ক্ষতি থেকে চুলকে রক্ষা করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। রোজমেরি বা ল্যাভেন্ডারের মতো অত্যাবশ্যকীয় তেলের সঙ্গে মিশিয়ে বাদামের তেল প্রায়ই চুলের বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করতে এবং মসৃণভাব বজায় রাখতে সাপ্তাহিক পরিচর্যার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে মেহেদির ব্যবহার

মেহেদি মধ্যপ্রাচ্যের চুলচর্চা বহুল ব্যবহৃত একটি উপাদান। এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শুধু চুল রং করার জন্যই নয়, চুলকে শক্তিশালী করার জন্যও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ট্যানিনে সমৃদ্ধ হওয়ায়, মেহেদি চুলের কেরাটিনের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা চুল ভাঙা কমায় এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়। যদিও মেহেদি প্রায়ই এর লালচে আভার জন্য পরিচিত, তবে নিরপেক্ষ বা বর্ণহীন মেহেদির জাতগুলোও এখানে জনপ্রিয়, যা চুলের রং পরিবর্তন না করেই কন্ডিশনিংয়ের সুবিধা দেয়। সেরা ফলাফলের জন্য দই বা চায়ের মতো উপাদানের সঙ্গে মেহেদি মিশিয়ে একটি পুষ্টিকর হেয়ারমাস্ক তৈরি করেন নারীরা।

চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ভেষজ নির্যাস

আরবীয় চুলের যত্নের রীতিতে ভেষজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেজ, থাইম এবং মেথির মতো উপাদান পানিতে ভিজিয়ে এমন দ্রবণ তৈরি করা হয়, যা চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া রোধ করে। বিশেষ করে মেথি একটি শক্তিশালী উপাদান, যা প্রোটিন এবং আয়রনে সমৃদ্ধ; এই দুটি পুষ্টিগুণই ঘন ও স্বাস্থ্যকর চুল বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।

এই ভেষজ নির্যাস চুল শ্যাম্পু করার পর ব্যবহার করা হয়, যা মাথার ত্বক ও চুলে পুষ্টি জোগায় এবং চুলকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে।

ছবি: পেক্সেলস

মাথার ত্বকে মালিশ এবং চুলের সুরক্ষা

আরবীয় চুলের যত্নের একটি মূল ভিত্তি হলো এই বিশ্বাস যে মাথার ত্বক সুস্থ থাকলে চুলও সুস্থ থাকে। তেল দিয়ে নিয়মিত মাথার ত্বকে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং চুলের গোড়ার স্বাস্থ্য উন্নত করে। এ ছাড়া, আরবীয় নারীরা দীর্ঘকাল ধরে রেশমি স্কার্ফ বা হিজাব দিয়ে চুল ঢেকে মরুভূমির রুক্ষ পরিবেশ থেকে নিজেদের রক্ষা করে আসছেন। এই আবরণগুলো চুলকে শুধু রোদ ও ধুলো থেকে রক্ষা করে না, বরং আর্দ্রতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে, ফলে চুল শুষ্কতা ও আগা ফাটা থেকে রক্ষা পায়।

ছবি: পেক্সেলস

সাপ্তাহিক রুটিনে এই পরীক্ষিত কৌশলগুলো—যেমন তেল মালিশ, ভেষজ পানি দিয়ে চুল ধোয়া বা ভেষজ মাস্ক—অন্তর্ভুক্ত করলে আরবীয়দের মতো মজবুত, উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যকর চুল পাওয়া যেতে পারে। আসছে গ্রীষ্মকাল থেকেই এই উপায়গুলো মেনে চলতে পারেন।

সূত্র: দ্য অ্যারাব টুডে

ভিন্ন স্বাদের টুনা ফিশ কাবাব

সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন? জেনে নিন সঠিক পথ বেছে নেওয়ার সহজ উপায়

চশমা পরলে কেমন হবে চোখের মেকআপ?

আজকের রাশিফল: জীবন-জীবিকার ব্যালেন্স খুঁজতে গিয়ে সার্কাসের জোকার হয়ে যাবেন

ক্যাঙারু আইল্যান্ড: যে দ্বীপ কোয়ালাদের টিকে থাকার শেষ ভরসা

ভোজনরসিক পর্যটকদের সেরা গন্তব্য যে আটটি দেশ

ওটমিলের চেয়ে বেশি আঁশ আছে যেসব খাবারে

ভদ্রতা ও উদারতার মধ্যে পার্থক্য বুঝছেন তো?

পেয়ারার টক-মিষ্টি চাটনি

গ্রীষ্মকালে ত্বকের যত্নে মনে রাখুন কিছু বিষয়