কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে মানুষের বড় ভয় হলো, এটি চাকরি কেড়ে নেবে। তবে ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন হতে পারে। এআইয়ের ব্যবহার ব্যবসার পরিধি বাড়ালে নতুন কর্মীর প্রয়োজনও তৈরি হতে পারে। এআইকে কর্মী কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে কাজ সহজ করার প্রযুক্তি হিসেবে ভাবুন।
অনেক ছোট ব্যবসার এখনো নিজস্ব ওয়েবসাইট নেই। এআই এসব কাজ সহজ করে দিয়েছে। ব্যবসায় এত দিন করা হয়নি, এমন কাজ এআইয়ের সাহায্যে করা যায় কি না, খুঁজে দেখুন।
প্রতিদিনের কাজে কোন সমস্যা সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট করছে? কোন কাজটি করতে গিয়ে কর্মীরা বারবার আটকে যাচ্ছেন? সেখান থেকে এআই ব্যবহারের পথ খুঁজে নেওয়া যায়।
কর্মীদের বাদ না দিয়ে এআই ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা যেতে পারে। কোন কাজে এআই ব্যবহার করলে সময় বাঁচবে, তা কর্মীরাই ভালো বলতে পারেন।
সময় কম, লোকবল সীমিত, কাজের চাপ বেশি। ছোট ব্যবসায় এই তিনটি সমস্যা প্রায়ই পাশাপাশি থাকে। এআই এখানে কাজের গতি বাড়াতে পারে। খুচরা ব্যবসায় ক্রেতার পছন্দ ও চাহিদা বুঝতে এআই ব্যবহার করা যায়। পেশাদার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান খসড়া তৈরি, তথ্য খোঁজা ও গবেষণায় এআই ব্যবহার করতে পারে।
ব্যবসার আড়ালে থাকে হিসাব, কর, বুককিপিং, বিপণন ও সম্ভাব্য ক্রেতার তথ্য সংগ্রহের মতো নানা কাজ। এসবের কিছু অংশ এআইয়ের সাহায্যে দ্রুত করা যায়।
নতুন কর্মীকে প্রতিষ্ঠানের কাজ শেখাতে সময় লাগে। এআই এই কাজেও সহায়তা করতে পারে। ভয়েস রেকর্ড ও ট্রান্সক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরোনো কর্মীদের অভিজ্ঞতা লিখিত আকারে রাখা যায়। সেগুলো দিয়ে নতুন কর্মীর জন্য ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করা যায়।
অনলাইনে এখন অনেক এআই টুল পাওয়া যায়। সব এআইয়ের কাজ এক নয়। তাই আগে ঠিক করুন, কী কাজ করতে চান। তারপর সেই কাজের জন্য উপযুক্ত এআই বেছে নিন।
এআই ব্যবহারের সঙ্গে তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িয়ে আছে। ব্যবসার হিসাব, আর্থিক তথ্য, কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা ক্রেতার তথ্য এআইয়ে ব্যবহারের আগে সতর্ক হতে হবে। কোন প্ল্যাটফর্ম কীভাবে তথ্য সংরক্ষণ করে, তা জেনে নেওয়া দরকার।
শুধু বই পড়ে বা ক্লাস করে এআই শেখা যায় না। বাস্তব কাজের সঙ্গে প্রযুক্তিকে মিলিয়ে দেখার সুযোগও দরকার। নিজের ব্যবসার কাজেই এআই ব্যবহার করুন। ধীরে ধীরে বুঝে নিন, কোথায় এটি ভালো কাজ করছে আর কোথায় মানুষের সিদ্ধান্ত দরকার।
ব্যবসার কাজে কোনো উন্নত এআই নিয়মিত ব্যবহার করে যদি সময় বাঁচে, বিক্রি বাড়ে কিংবা খরচ কমে, তাহলে সেখানে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। খরচের আগে হিসাব করুন, টুলটির খরচের তুলনায় ব্যবসায় কতটা লাভ হচ্ছে।
ছোট ব্যবসায় এআই শুধু খরচ কমানোর কাজে সীমাবদ্ধ নয়।
এর সঙ্গে নতুন কাজের সম্ভাবনা, দ্রুত সেবা এবং ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে। সঠিক কাজটি বেছে নিয়ে এআই ব্যবহার করলে একজন কর্মী কম সময়ে বেশি কাজ করতে পারেন। প্রযুক্তি তখন মানুষের জায়গা নেয় না; বরং মানুষকে আরও ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। ছোট ব্যবসার জন্য এআইয়ের শক্তি এখানেই।