ক্যারিয়ার নিয়ে মাঝেমধ্যে দ্বিধায় পড়া খুবই স্বাভাবিক। মনে হতে পারে, বর্তমান চাকরিটা বদলানো দরকার। আবার মনে হতে পারে, একটু ধৈর্য ধরলেই হয়তো পরিস্থিতি বদলাবে। কেউ চাকরি বদলাতে চান, কেউ আবার নতুন কোনো পেশার কথা ভাবেন। তবে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের অবস্থাটা বোঝা জরুরি। আপনি কী চান, কোন কাজে ভালো লাগছে, আর কোন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে—এসব নিয়ে একটু ভাবুন। এ জন্য বড় কোনো আয়োজনেরও প্রয়োজন নেই। কয়েকটি সহজ অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারেন।
কর্মজীবনকে তিন বা চারটি অধ্যায়ে ভাগ করুন। এখানে চাকরির নাম বা প্রতিষ্ঠানের নাম লেখার দরকার নেই; বরং প্রতিটি সময় কেমন কেটেছে, সেটি ভাবুন। যেমন ‘নিজেকে খোঁজার সময়’, ‘নিজেকে প্রমাণ করার সময়’, ‘চলছিল যেমন চলুক’ বা ‘আরও এগিয়ে যাওয়ার সময়’। অধ্যায়ের নাম নিয়ে বেশি ভাববেন না। মনে প্রথম যে কথাটি আসে, সেটিই লিখুন। এরপর দেখুন, এসব অধ্যায়ের মধ্যে কোনো মিল আছে কি না। হয়তো বুঝতে পারবেন, কোন পরিবেশে আপনি ভালো কাজ করেন। কোন কাজে আগ্রহ পান, আর কোন পরিস্থিতিতে আপনার কাজের গতি কমে যায়, সেটিও পরিষ্কার হতে পারবেন।
এই মুহূর্তে আপনার কর্মজীবন কেমন লাগছে? ভবিষ্যতে কী হবে, তা নয়; বরং এখনকার অনুভূতিটা বোঝার চেষ্টা করুন। এ জন্য তিনটি শব্দ লিখুন। যেমন ‘আটকে আছি’, ‘কৌতূহলী’, ‘ক্লান্ত’। এরপর প্রতিটি শব্দের পাশে একটি করে বাক্য লিখুন। কেন শব্দটি বেছে নিয়েছেন? কর্মক্ষেত্রের কোন বিষয় আপনাকে এমন অনুভূতি দেয়? সম্ভব হলে কথাগুলো কাউকে বলুন। নিজের মুখে নিজের কথা শুনলে অনেক সময় সমস্যাটা আরও পরিষ্কার হয়। সবশেষে একটি বাক্য লিখুন ‘ক্যারিয়ার নিয়ে আমার ভাবনা বদলাতে হলে, আমার দরকার আরও ... এবং কম ...।’ এই একটি বাক্য আপনাকে নিজের অবস্থাটা বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
আপনি এখন কোথায় আছেন, তা জানা যেমন জরুরি; তেমনি কোথায় যেতে চান, সেটিও জানা দরকার। একটি কাগজে চারটি অংশ করুন।
চারটি অংশ পূরণ করার পর পুরো বিষয়টি একবার দেখুন। আপনার বর্তমান অবস্থার সঙ্গে ভবিষ্যতের ইচ্ছার মিল কতটা? কোথায় পরিবর্তন দরকার? এখান থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
একটি কাগজে তিনটি বৃত্ত আঁকুন। প্রতিটি বৃত্তে আপনার ক্যারিয়ারের একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ কল্পনা করুন। একটি হতে পারে একেবারে নতুন পেশা। অন্যটি হতে পারে বর্তমান চাকরিরই নতুন কোনো রূপ। আরেকটি হতে পারে এমন কোনো কাজ, যা এখনো করার সুযোগ পাননি।
এবার প্রতিটি ভবিষ্যৎ নিয়ে এক মিনিট ভাবুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন—
যে ভবিষ্যৎ আপনাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয়, সেটিই হয়তো আপনার পরবর্তী পথের একটি ইঙ্গিত।
সবশেষে ছয় থেকে দশটি ছোট বাক্য লিখুন। বাক্যগুলোতে আপনার ভবিষ্যৎকে এমনভাবে লিখুন, যেন সেটি ইতিমধ্যে বাস্তব। যেমন: ‘আমি এমন একজন মানুষ, যিনি প্রতি শুক্রবার নিজের জন্য সময় রাখেন।’
‘আমি এমন কাজ করি, যার কথা অন্যদের বলতে ভালো লাগে।’
‘আমি নিয়মিত নতুন কিছু শিখছি।’
এখানে ভবিষ্যৎ কাল নয়, বর্তমান কাল ব্যবহার করুন। এতে ভবিষ্যৎকে শুধু ইচ্ছা হিসেবে নয়, বাস্তব সম্ভাবনা হিসেবে ভাবতে সুবিধা হবে।
এই অনুশীলনগুলো করার উদ্দেশ্য নিজের অবস্থা নতুন করে দেখা। আপনি কোথা থেকে এসেছেন, এখন কোথায় আছেন এবং কোথায় যেতে চান; এসব বুঝতে পারাই মূলকথা। মনে রাখতে হবে, ক্যারিয়ারে পরবর্তী পদক্ষেপ মানেই নতুন চাকরি নয়। কখনো নতুন কিছু শেখা, দায়িত্ব বদলানো কিংবা বর্তমান কাজটিকে নতুনভাবে দেখাও হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ। নিজেকে একটু সময় দিন। নিজের কথা নিজেই শুনুন। হয়তো সেখানেই লুকিয়ে আছে আপনার ক্যারিয়ারের পরবর্তী পথ।