হোম > চাকরি > ক্যারিয়ার পরামর্শ

সবার সামনে কথা বলার ভয় কাটাবেন যেভাবে

ক্যারিয়ার ডেস্ক

প্রতীকী ছবি: এআই

অন্যদের সামনে কথা বলতে গেলেই কি বুক ধড়ফড় করে? অনেকে জনসমক্ষে কথা বলতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন না। অথচ এটি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। চাকরির সাক্ষাৎকার, ক্লাসে উপস্থাপনা, সভায় মতামত প্রকাশ কিংবা নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় অনেকের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। অথচ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে পারাই বড় একটি শক্তি। তবে চিন্তার কিছু নেই। কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে জনসমক্ষে কথা বলার ভয় অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আজ থাকছে এমনই পাঁচটি কার্যকর পরামর্শ।

উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক

জনসমক্ষে কথা বলার সময় ভয় বা অস্বস্তি অনুভব করা খুবই স্বাভাবিক। এর পেছনে কাজ করে প্রাচীন এক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। আদিম যুগে এই ব্যবস্থা মানুষকে শিকারি প্রাণী বা বিপদ থেকে বাঁচতে সাহায্য করত। তবে আধুনিক সময়ে আমরা যখন নিজেকে সবার নজরের কেন্দ্রে অনুভব করি, তখন সেই একই প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে মঞ্চে বা অন্যের সামনে কথা বলার সময় নার্ভাস হওয়া, হাত ঘেমে যাওয়া, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা অস্থিরতা কাজ করে। তাই এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করুন। এটিকে ভয় নয়, বরং প্রস্তুতির একটি অংশ হিসেবে দেখুন।

অনুশীলনের বিকল্প নেই

আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো অনুশীলন। মানুষের মস্তিষ্ক বাস্তব ও কল্পিত অভিজ্ঞতার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য করে না। তাই হাঁটতে হাঁটতে বক্তৃতা অনুশীলন করা, বন্ধুদের সামনে উপস্থাপন করা কিংবা একা আয়নার সামনে কথা বলা—সবই কাজে দেয়। বারবার অনুশীলনের ফলে মস্তিষ্ক বুঝতে শেখে যে নার্ভাস লাগলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। বিষয়টি অনেকটা বিমানের পাইলটদের প্রশিক্ষণের মতো। তাঁরা সরাসরি আকাশে উড়ে শেখেন না; আগে প্রশিক্ষণ নেন। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি আর অচেনা মনে হয় না।

আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে দাঁড়ান

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও একটি ভঙ্গি ঠিক করুন। কল্পনা করুন, মাথায় একটি মুকুট রয়েছে, কাঁধে একটি ভারী চাদর এবং পেছনে ড্রাগনের একটি লেজ। দেখবেন, আপনার ঘাড় সোজা হবে, কাঁধ পেছনে যাবে এবং চোখ থাকবে সামনের দিকে। কুঁজো হয়ে দাঁড়ানো বা হাত গুটিয়ে রাখা শ্রোতাদের সঙ্গে আপনার সংযোগ স্থাপন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই স্বচ্ছন্দ ও আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে দাঁড়ালে আপনার বক্তব্য শ্রোতাদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।

শরীরের পেশিগুলো শক্ত করুন

কথা বলার সময় অনেকের হাত বা কণ্ঠস্বর কেঁপে ওঠে। এর কারণ সাধারণত অতিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন নামক হরমোন।। এ ক্ষেত্রে শরীরের বড় পেশিগুলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য শক্ত করে রাখা উপকারী হতে পারে। এতে অতিরিক্ত শক্তি অন্যদিকে সঞ্চালিত হয় এবং হাত বা কণ্ঠস্বর তুলনামূলক স্থির থাকে। ফলে কথা বলার সময় নিজেকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও আত্মবিশ্বাসী মনে হয়।

সামনে ডায়েরি বা নোট রাখুন

আত্মবিশ্বাস রাতারাতি তৈরি হয় না। এটি ধীরে ধীরে অভ্যাস ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। আপনি যেমন জুতার ফিতা বাঁধতে আত্মবিশ্বাসী; কারণ, কাজটি বহুবার করেছেন, তেমনি কথা বলার আত্মবিশ্বাসও নিয়মিত চর্চার ফল। একটি নোটস অ্যাপ, ডায়েরি বা ছোট একটি খাতা রাখতে পারেন। সেখানে প্রতিদিনের ছোট ছোট সাফল্য লিখে রাখুন—রেস্তোরাঁয় নিজে অর্ডার দেওয়া, নতুন কারও সঙ্গে কথা বলা কিংবা ক্লাসে প্রশ্ন করা। এসব ছোট পদক্ষেপই ভবিষ্যতের বড় আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি করবে।

আত্মবিশ্বাস কোনো জন্মগত গুণ নয়; এটি চর্চার মাধ্যমে অর্জন করা যায়। তাই ভয়কে বাধা হিসেবে নয়, শেখার অংশ হিসেবে গ্রহণ করুন। নিয়মিত অনুশীলন ও ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী বক্তা।

ডায়না অ্যাওয়ার্ড জয়ের স্বপ্ন যাঁদের

চাকরির সাক্ষাৎকারে সফল হওয়ার ১০ পরামর্শ

এআইয়ের যুগে ফার্মায় ক্যারিয়ার কেমন হবে

জীবন বদলে দিতে পারে ‘পোমোডোরো টেকনিক’

নমুনা ভাইভা: সুনীল অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী

ব্যবস্থাপনায় উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার

আর্থিক সফলতার ১০টি শিক্ষা

সফল ব্যক্তিদের জীবনের দশটি অভ্যাস

ট্যাক্স আর কাস্টমসের মধ্যে পার্থক্য কী

চাকরি দ্রুত পাওয়ার সহজ উপায়