সফল হতে কে না চায়? অফিসে কাজ করতে গিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, সবার ইনক্রিমেন্ট হচ্ছে, আমার হচ্ছে না কেন? হতাশা নিয়ে দিনের পর দিন কাজ করেন। কিন্তু একবারও ভাবেন না, উন্নতি হচ্ছে না কেন? সমস্যাটা কোথায়, নিজের মধ্যে, নাকি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায়?
নিজের ভুল আমরা সহজে দেখতে চাই না; বরং অন্যের ভুল নিয়ে আলোচনা করতেই বেশি স্বচ্ছন্দবোধ করি। অথচ কর্মজীবনে এগিয়ে যেতে হলে প্রথম কাজটিই হলো নিজেকে প্রশ্ন করা।
সফলতা কোনো সরল পথ নয়। কখনো গতি বাড়বে, কখনো থামতে হবে, কখনো পথ বদলাতে হবে। তবে গন্তব্যের দিকে হাঁটা থামানো যাবে না।
আপনি যে কাজই করুন, সেটি গুছিয়ে করার অভ্যাস করুন। প্রতিদিনের, সাপ্তাহিক ও মাসিক কাজের তালিকা তৈরি করুন। ডেডলাইন লিখে রাখুন। সম্ভব হলে এমন ফরম্যাট বানান, যেখানে তথ্য দিলেই প্রয়োজনীয় রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়। এতে সময় বাঁচবে, ভুলও কমবে।
‘কোম্পানির ক্ষতি, আমার কী’ এই মানসিকতা বাদ দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানকে নিজের জায়গা মনে করে কাজ করুন। নিজের ব্যবসা হলে যেভাবে ভাবতেন, সেভাবেই প্রতিষ্ঠানের কাজকেও গুরুত্ব দিন। দায়িত্ব নিয়ে করা কাজ একদিন না একদিন চোখে পড়বেই।
শুধু নিয়মিত কাজ করে গেলে নিয়মিত ফলই আসবে। নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন। কম সময়ে ভালো কাজ করার উপায় খুঁজুন। বসকে এমন কিছু করে দেখান, যাতে আপনার কাজ আলাদা করে মনে থাকে। প্রযুক্তি এবং এআই ব্যবহার করে কাজকে আরও সহজ ও কার্যকর করার চেষ্টা করুন।
কাজ শুরুর আগে বুঝে নিন, আসলে কী চাওয়া হয়েছে। ব্যবস্থাপক কোন ধরনের কাজ দেখতে পছন্দ করেন, কীভাবে রিপোর্ট দেখেন, কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেন, তা বোঝার চেষ্টা করুন। সভায় শুধু বসে না থেকে নোট নিন। সেখান থেকে অনেক কিছু শেখা যায়।
বসের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আপনার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। তাই রিপোর্ট তৈরি করে আগে তাঁকে দেখান। পরামর্শ নিন। এতে আপনার মর্যাদা কমবে না, বরং
দায়িত্বশীলতার পরিচয় মিলবে।
সমালোচনায় কান দেবেন না
ভালো কিছু করতে গেলে কথা হবেই। গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করুন। অকারণ কথাকে গুরুত্ব দেবেন না। সহকর্মী বা বসের নামে বদনাম করাও এড়িয়ে চলুন। সময় অনেক ভুল ধারণার উত্তর দিয়ে দেয়।
প্রযুক্তির যুগে শেখার শেষ নেই। প্রতিদিন অন্তত একটি নতুন দক্ষতা শেখার চেষ্টা করুন। অনলাইন কোর্স করুন, এআই দিয়ে কাজ শিখুন, নিজের কাজের ক্ষেত্রের অন্যদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করুন। তবে প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য কখনো প্রকাশ করবেন না।
কী করেছেন, কোথায় ভুল হয়েছে, আর কী করলে আরও ভালো হতো, লিখে রাখুন। পরের মাসের জন্য নতুন পরিকল্পনা করুন। মনে রাখুন, অফিসে বকা খাওয়া, সমালোচনা শোনা কিংবা বাধার মুখে পড়া অস্বাভাবিক নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেখান থেকে কী শিখলেন। আরেকটি বিষয় খুব জরুরি, কাউকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখুন। যে সময়ের মধ্যে কাজ দেওয়ার কথা, সেই সময়েই দিন। কারণ, শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থাপক ফলই দেখতে চান।
নিজের ডেস্ক পরিচ্ছন্ন রাখুন। কাজের মাঝে একটু বিরতি নিন। কিছুক্ষণ হাঁটুন, দূরে তাকান।
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে আরামদায়ক চেয়ার ও প্রয়োজনীয় কুশনের ব্যবস্থা করুন। সবশেষে নিজের জন্য একটি লক্ষ্য ঠিক করুন। আগামী এক বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান,
তা স্পষ্ট করুন। তারপর
প্রতিদিন একটু একটু করে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যান। পথ কঠিন
হতে পারে। বাধাও আসবে।
থেমে গেলে পথ শেষ, লেগে
থাকলে একদিন গন্তব্য
পাবেনই।