বর্তমান সময়ে ইংরেজি শেখার জন্য শুধু শ্রেণিকক্ষ, বই কিংবা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কল্যাণে শেখার সুযোগ এখন অনেকটাই হাতের মুঠোয়। এর মধ্যে চ্যাটজিপিটি হতে পারে ইংরেজি শেখার ব্যক্তিগত অনুশীলনসঙ্গী। তবে শুধু অনুবাদ বা উত্তর পাওয়ার জন্য এটি ব্যবহার না করে সঠিক কৌশলে ব্যবহার করলেই সুফল বেশি পাওয়া সম্ভব।
ইংরেজিতে কথা বলার ভয় কাটাতে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথন করা যায়। দৈনন্দিন জীবন, পড়াশোনা, ভ্রমণ কিংবা পছন্দের বিষয় নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। যেমন ‘Talk to me in English and correct my mistakes.’ এভাবে অনুশীলন করলে বাক্য তৈরির দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
ইংরেজিতে একটি অনুচ্ছেদ বা ডায়েরি লিখে চ্যাটজিপিটিকে ভুল শনাক্ত করতে বলা যায়। শুধু সংশোধিত বাক্য নেওয়ার বদলে কেন ভুল হয়েছে, সেটিও জানতে হবে। এতে একই ভুল পুনরায় করার প্রবণতা কমবে।
শব্দভান্ডার বাড়াতে চ্যাটজিপিটির সাহায্যে প্রতিদিন পাঁচ থেকে দশটি নতুন শব্দ শেখা যায়। শব্দের অর্থের পাশাপাশি synonym, antonym, pronunciation এবং example sentence জানতে হবে। এরপর নতুন শব্দ দিয়ে নিজে বাক্য তৈরি করলে শেখা আরও স্থায়ী হবে।
Tense, article, preposition কিংবা subject-verb agreement-এর মতো বিষয় বুঝতে চ্যাটজিপিটিকে ব্যক্তিগত শিক্ষক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কোনো গ্রামার রুল ব্যাখ্যা করার পর এআইকে অনুশীলনী তৈরি করে দিতে বলা যেতে পারে। এতে শেখার পাশাপাশি নিজের দুর্বলতাও শনাক্ত করা সম্ভব।
বাস্তব পরিস্থিতিতে ইংরেজিতে কথা বলার প্রস্তুতির জন্য রোল-প্লে কার্যকর। চ্যাটজিপিটিকে চাকরির সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী, বিদেশের বিমানবন্দরের কর্মকর্তা কিংবা রেস্টুরেন্টের কর্মী হিসেবে অভিনয় করতে বলা যায়। এভাবে বাস্তব পরিস্থিতির চাপ ছাড়াই স্পিকিং অনুশীলন করা সম্ভব।
সবার ইংরেজির দুর্বলতা এক নয়। কেউ speaking-এ, কেউ grammar বা vocabulary-তে পিছিয়ে থাকতে পারেন। নিজের বর্তমান দক্ষতা জানিয়ে চ্যাটজিপিটির কাছে ৩০ দিনের learning plan চাওয়া যায়। এতে প্রতিদিনের অনুশীলন আরও গোছানো হবে।
শেখার সময় চ্যাটজিপিটি সব উত্তর দিয়ে দিলে নিজের চিন্তার সুযোগ কমে যায়। তাই বলা যেতে পারে, ‘Don’t give me the answer immediately. Give me hints first.’ এতে শিক্ষার্থী নিজে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবে এবং ভুল থেকে শেখার সুযোগ পাবে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, চ্যাটজিপিটি কোনো জাদুর কাঠি নয়, এটি শেখার একটি সহায়ক মাধ্যম। এআইয়ের দেওয়া তথ্য সব সময় নির্ভুল ধরে না নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী অভিধান, বই ও শিক্ষকের সাহায্যে তা যাচাই করা উচিত। নিয়মিত অনুশীলন, ভুল বিশ্লেষণ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি হতে পারে ইংরেজি শেখার একটি কার্যকর ডিজিটাল সহযাত্রী।