ক্যারিয়ারে সফল হতে চাইলে কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। তবে সারাক্ষণ শুধু কাজের মধ্যে ডুবে থাকাও সফলতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। দীর্ঘ সময় একা কাজ করা, অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়া এবং কাজের চাপ ধীরে ধীরে তৈরি করতে পারে মানসিক ক্লান্তি বা বার্নআউট। তাই ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ ফ্রিপোর্ট মার্কেটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান রিডের অভিজ্ঞতা এর একটি উদাহরণ। নিউইয়র্কে বসবাসকারী ২৪ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তা বিজনেস ইনসাইডারের সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, নিজের দৈনন্দিন রুটিন নিয়ে অসুখী ছিলেন। বেশির ভাগ সময় একাই কাজ করতেন। তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারও আলাদা কাজ সামলাতেন।
রিড বলেন, কয়েক মাস ধরে তিনি তীব্র মানসিক ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। একটানা কাজ ও জটিল প্রযুক্তিগত সমস্যা সামলাতে গিয়ে তাঁর ওপর চাপ বাড়ছিল। ফলে কাজের প্রতি আগ্রহও কমে যাচ্ছিল।
এ অভিজ্ঞতা অনেক কর্মজীবীর কাছেই পরিচিত। দীর্ঘ সময় অফিসে থাকা, সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কম থাকা কিংবা সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া কাজকে ধীরে ধীরে আনন্দের বদলে চাপের কারণ করে তুলতে পারে।
রিডের জীবনে পরিবর্তন আসে তিন কলেজপড়ুয়া ইন্টার্নকে নিয়োগ দেওয়ার পর। শুরুতে তাঁদের কাজ ছিল মার্কেটিংয়ে সহায়তা করা। কিন্তু তাঁদের উপস্থিতি রিডের কর্মজীবনে বড় পরিবর্তন আনে।
ইন্টার্নদের নতুন ভাবনা, প্রাণবন্ত আচরণ ও ইতিবাচক মনোভাব কর্মপরিবেশ বদলে দেয়। কাজের পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বও তৈরি হয়। একসঙ্গে খাওয়া, জিমে যাওয়া, সিনেমা দেখা কিংবা বই পড়ার মতো নানা কাজ তাঁরা করতেন। ফলে কর্মস্থলের একাকিত্ব কমে যায়। কাজের জায়গাটি আর নীরব মনে হয়নি। বরং সেখানে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়।
ক্যারিয়ারে এগোতে গিয়ে অনেকে মনে করেন, সব কাজ নিজেকে করতে হবে। কিন্তু সব দায়িত্ব নিজের কাছে রাখলে চাপ বাড়ে। তাই কাজ ভাগ করে নেওয়া দরকার। রিড ইন্টার্নদের মধ্যে কিছু দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছিলেন। এতে তাঁর নিজের কাজের চাপ কমে যায়। একই সঙ্গে জটিল কাজের জন্য তাঁর পক্ষে বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হয়। দলের সদস্যদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ ভাগ করে দিলে চাপ কমে। পাশাপাশি তাঁদের দক্ষতাও বাড়ে। এতে পুরো দলের কাজও আরও ভালোভাবে এগিয়ে যায়।
ক্যারিয়ারে ভালো করতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনকে বাদ দেওয়া ঠিক নয়। কাজের বাইরে বন্ধু, সহকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিকভাবে সতেজ থাকতে সাহায্য করে। রিডের অভিজ্ঞতাও তা দেখিয়েছে। ইন্টার্নদের সঙ্গে কাজের বাইরে ব্যায়াম, সিনেমা দেখা কিংবা বই পড়ার মতো কাজে যুক্ত হতেন তিনি। এতে কাজের পাশাপাশি তাঁর সামাজিক জীবনও সক্রিয় হয়ে ওঠে। বার্নআউট এড়াতে সব সময় ছুটি নিয়ে দূরে কোথাও যেতে হবে, এমন নয়। প্রতিদিনের জীবনেই ছোট ছোট আনন্দের মুহূর্ত তৈরি করা যায়।
অনেকে মনে করেন, বেশি সময় কাজ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে। বাস্তবে দীর্ঘ সময় কাজ করা আর ভালো কাজ করা এক বিষয় নয়। মানসিকভাবে ক্লান্ত একজন কর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্কে বসে থাকতে পারেন। কিন্তু মনোযোগ ও সৃজনশীলতা কমে গেলে সেই সময়ের অনেকটাই কাজে আসে না। অন্যদিকে ভারসাম্যপূর্ণ জীবন কাজে মনোযোগ বাড়াতে পারে। কাজের প্রতি আগ্রহ ফিরলে একই সময়ে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
অবশ্যই করবেন। তবে সেই পরিশ্রম যদি আপনাকে একা করে ফেলে এবং কাজের আনন্দ কেড়ে নেয়, তাহলে নিজের কাজের ধরন নিয়ে ভাবা দরকার।