হোম > চাকরি > ক্যারিয়ার পরামর্শ

মেডিকেল থেকে বিসিএস, অর্নব হাসানের পরামর্শ

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান 

অর্নব হাসান। ছবি: সংগৃহীত

মো. অর্নব হাসান (রতন) ৪৮তম বিসিএসে সহকারী সার্জন পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

স্বপ্নের পেছনে

পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় একদিন ক্রিকেট খেলতে গিয়ে কনুইয়ে আঘাত পান অর্নব। বাবা তখন পদ্মার চরে কাজে ব্যস্ত। মা তাঁকে কোলে তুলে অনেক দূরের উপজেলা সদরের হাসপাতালে নিয়ে যান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর একজন চিকিৎসকের দেখা মেলে। সেই অভিজ্ঞতাই ছোট্ট অর্নবের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেদিনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বড় হয়ে চিকিৎসক হবেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। সেই শৈশবের স্বপ্নই আজ তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে গর্বিত এক অবস্থানে।

আগেভাগে প্রস্তুতি নিন

অর্নব হাসানের মতে, যাঁরা মেডিকেলে পড়ার সময় বা পড়া শেষ করে বিসিএস দিতে চান, তাঁদের আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। তৃতীয় বা চতুর্থ বর্ষ থেকে প্রস্তুতি নিলে শেষ সময়ে চাপ অনেকটাই কমে যায়। মেডিকেলে পড়াশোনার চাপ অত্যন্ত বেশি। ফলে বিসিএসে নন-মেডিকেল অংশে ভালো করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আগে থেকে এই অংশের প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও গণিতের মতো বিষয়গুলো ধারাবাহিক অনুশীলন অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত চর্চা ছাড়া এসব অংশে ভালো করা কঠিন।

মাত্র সাত দিনের প্রস্তুতি

স্পেশাল বিসিএস অনেক সময় হঠাৎ করেই ঘোষণা করা হয়। অর্নবের ক্ষেত্রেও এমনই ঘটেছিল। প্রস্তুতির জন্য তিনি পেয়েছিলেন মাত্র সাত দিন। এমবিবিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাত্র ৯ দিন পরই অনুষ্ঠিত হয় ৪৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এই স্বল্প সময়ে ভালো ফল অর্জন সম্ভব হয়েছিল কেবল আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার কারণে। তিনি মেডিকেলে পড়াকালে বিসিএসের পূর্ণ সিলেবাস অন্তত একবার শেষ করেছিলেন এবং বিশেষভাবে নন-মেডিকেল অংশে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এই প্রস্তুতিই পরীক্ষার সময় তাঁকে এগিয়ে রাখে।

সময় ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব

ভবিষ্যৎ প্রার্থীদের উদ্দেশে অর্নবের পরামর্শ, সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেডিকেলের পড়াশোনার পাশাপাশি বিসিএস প্রস্তুতিও সমান গুরুত্ব দিয়ে চালিয়ে যেতে হবে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

পরিশ্রমই একমাত্র পথ

অর্নব হাসান মনে করেন, নিয়মিত অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা সাধারণত নিজেদের পেশাগত পড়াশোনার চাপের কারণে নন-মেডিকেল অংশকে অবহেলা করেন। কিন্তু বিসিএসে ভালো ফল করতে হলে এই অংশেও সমান মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং দৃঢ় মনোবল থাকলে লক্ষ্য অর্জন কঠিন নয়—এমনটাই মনে করেন তিনি।

জার্মানির ‘আউসবিল্ডুং’ প্রোগ্রামে আবেদনের এ টু জেড

চাকরি ছাড়াও অভিজ্ঞতা অর্জনের ৫ উপায়

সফল হতে চাইলে আগে সঠিকভাবে চিন্তা করা শিখুন

ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট বৈশ্বিক বাণিজ্যে আগামীর সুযোগ ও নতুন কর্মসংস্থান

নতুন চাকরিতে ভয় কাটাবেন যেভাবে

বিসিএস নমুনা ভাইভা: ফিশারিজে পড়াশোনা করে প্রশাসনে আসতে চান কেন

ফলাফল নাকি দক্ষতা, কর্মক্ষেত্রে কোনটি বেশি জরুরি

১৮তম বিজেএস পরীক্ষা: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি কৌশল

তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে ‘দ্য টুলেট’

বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর করণীয়