হোম > চাকরি > ক্যারিয়ার পরামর্শ

‘অভিজ্ঞতা নেই’ ফ্রেশাররা কীভাবে নিজের গুরুত্ব তৈরি করবে

ক্যারিয়ার ডেস্ক

মুত্তাকিন হাসান।

দেশের চাকরির বাজারে সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা একজন তরুণের কাছে সবচেয়ে বড় রহস্যের নাম ‘অভিজ্ঞতা’। চাকরির বিজ্ঞপ্তিগুলোর দিকে তাকালে মনে হয়, জন্ম নেওয়ার পরপরই সিভি হাতে কোনো ইন্টার্নশিপে যোগ দেওয়া উচিত ছিল। যোগ্য প্রার্থী আহ্বান করা হচ্ছে—পড়েই একজন ফ্রেশার আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু পরক্ষণেই যখন বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় অভিজ্ঞতা ন্যূনতম তিন বছর, তখনই আনন্দ বদলে যায় হতাশায়।

চাকরিপ্রার্থীর সহজ সমীকরণ হলো চাকরি পাইনি বলে অভিজ্ঞতা নেই, আর অভিজ্ঞতা নেই বলে চাকরি পাচ্ছি না। এই দুশ্চিন্তার সঙ্গে এখন আবার যুক্ত হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআইয়ের ভয়। আগে প্রতিযোগিতার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল পাশের বাড়ির মেধাবী ছেলেটি, আর এখন যুক্ত হয়েছে নতুন সফটওয়্যার। ফলে একজন ফ্রেশার প্রতিনিয়ত নিজেকে নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন। তবে বাস্তব সত্য হলো, অভিজ্ঞতা না থাকাটা কোনো অপরাধ নয়, এটি একটি স্বাভাবিক পর্যায়। প্রতিষ্ঠানের চাহিদা আর বিজ্ঞপ্তির শর্ত দেখে ঘাবড়ে না গিয়ে, চতুর ও কৌশলগত উপায়ে একজন ফ্রেশার নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারেন। কীভাবে ‘অভিজ্ঞতাহীন’ হয়েও চাকরির বাজারে নিজেকে অন্য ও প্রয়োজনীয় করে তুলবেন, তার কয়েকটি কার্যকর উপায় নিচে আলোচনা করা হলো:

১. ডিগ্রি নয়, দক্ষতাকে ‘অভিজ্ঞতা’ হিসেবে উপস্থাপন করুন: প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু বছরের হিসাব চায় না, তারা জানতে চায় আপনি কাজটি পারেন কি না। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকার পাশাপাশি আপনার বাস্তব দক্ষতা কতটা, সেটিই আসল। আপনার যদি ভালো লেখনী দক্ষতা, ডেটা অ্যানালাইসিস, ভিডিও এডিটিং, প্রেজেন্টেশন বা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জ্ঞান থাকে, তবে সেগুলোকে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ উপস্থাপন করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প, প্রেজেন্টেশন বা গবেষণার কাজকে সিভিতে কাজের নমুনা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

২. পোর্টফোলিও তৈরি করুন: ‘কোথাও কাজ করিনি’ না বলে দেখান আপনি কী তৈরি করতে পেরেছেন। একজন ফ্রেশারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও। আপনি যে ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তা ডিজাইন, কোডিং, কনটেন্ট রাইটিং বা ফাইন্যান্স—যা-ই হোক না কেন, নিজের উদ্যোগে কিছু প্রকল্প বানিয়ে একটি পোর্টফোলিও তৈরি করুন। এটি চাকরিদাতাকে বুঝিয়ে দেবে যে আনুষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও আপনার কাজের বাস্তব সামর্থ্য রয়েছে।

৩. ইন্টার্নশিপ ও ভলান্টিয়ারিংকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিন: বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকা, উৎসব বা ইভেন্ট সামলানো, কোনো সামাজিক সংস্থায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা কিংবা এক-দুই মাসের ছোট ইন্টার্নশিপ—এগুলো কোনোটিই ফেলে দেওয়ার মতো নয়। বিজ্ঞপ্তিতে যে ‘যোগাযোগ দক্ষতা’ কিংবা ‘চাপের মধ্যে কাজ করার ক্ষমতা’ বা ‘টিমওয়ার্ক’-এর কথা বলা হয়, আপনি ক্লাব ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ঠিক এই দক্ষতাগুলোই অর্জন করেছেন। সিভিতে এগুলোকে পেশাদার ভাষায় তুলে ধরুন।

৪. প্রযুক্তির ভয় কাটিয়ে এআইকে বন্ধু বানান: এআই আসার ফলে চাকরি হারিয়ে যাবে—এই ভয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এআইকে নিজের কাজে ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করুন। যে প্রার্থীর সাধারণ দক্ষতার পাশাপাশি এআই টুলস ব্যবহার করে কাজ দ্রুত করার সক্ষমতা আছে, আধুনিক চাকরির বাজারে তাঁর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এআই আপনাকে প্রতিস্থাপন করার আগেই আপনি নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলুন, যেন এআই চালনা করার জন্য আপনাকেই প্রয়োজন হয়।

৫. নেটওয়ার্কিং ও সফট স্কিলসে জোর দিন: চাকরির বাজারে শুধু ‘সিভি জমা দিয়ে’ অপেক্ষা করার দিন শেষ। লিংকডইনের মতো পেশাদার প্ল্যাটফর্মে নিজের উপস্থিতি বাড়ান। আপনি যে ফিল্ডে কাজ করতে চান, সেই বিষয়ের পেশাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করুন, তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন এবং নিজের কাজ বা চিন্তাভাবনা সেখানে শেয়ার করুন। অনেক সময় শক্ত নেটওয়ার্কিং অভিজ্ঞতার ঘাটতিকেও সামলে দেয়। এর পাশাপাশি প্রবলেম সলভিং, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং নতুন কিছু দ্রুত শেখার মানসিকতা নিজের মধ্যে গড়ে তুলুন।

শেষ কথা, একজন ফ্রেশারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর শেখার আগ্রহ, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের সহজতা এবং কাজের অদম্য উৎসাহ। চাকরির বাজার প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে; তাই নিজেকে সময়ের সঙ্গে আপডেট রাখাই হতে পারে ফ্রেশারদের সবচেয়ে নিরাপদ এবং শক্তিশালী অভিজ্ঞতা।

মুত্তাকিন হাসান, প্ল্যান্ট এইচআর হেড, রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড

১৯তম বিজেএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা: শেষ সময়ের প্রস্তুতি যেমন হবে

শুধু চিপ ডিজাইন নয়, নিজস্ব প্রযুক্তি ও পণ্য তৈরি করাই লক্ষ্য

তৃতীয়বারের চেষ্টায় সিভিল জজ শরিফুল

অফিসের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদ: পরীক্ষার শেষ সময়ের প্রস্তুতি

ক্যারিয়ার নিয়ে সুন্দর পিচাইয়ের পরামর্শ

ডাক্তারি পড়াশোনা বদলে বিচারক হলেন শাওলিন

১৮তম বিজেএস: প্রথমবার ব্যর্থ, দ্বিতীয়বারে প্রথম হলেন সিয়াম

গুণগত গবেষণায় সঠিক প্রশ্নই সঠিক পথ দেখায়: ড. মোহাম্মদ আসিফ কামাল

পরপর দুই বিসিএসে ক্যাডার: মাসুদ আলীর পরামর্শ