হোম > চাকরি > ক্যারিয়ার পরামর্শ

পরপর দুই বিসিএসে ক্যাডার: মাসুদ আলীর পরামর্শ

জসিম উদ্দীন

মাসুদ আলী।

স্বপ্ন কখনো কখনো পথ বদলায়, তবে লক্ষ্য বদলায় না। মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন মাসুদ আলী। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে পরপর দুই বিসিএসে ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। ৪৬তম বিসিএসে লাইভস্টক ও ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পান। বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন জসিম উদ্দীন

জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল দ্বিতীয়বারের চেষ্টার পরও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ না পাওয়া। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, কাঙ্ক্ষিত কিছু পাওয়ার আর সুযোগ নেই। পরে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগও পান। এরপর নিজেকে গুছিয়ে নতুনভাবে শুরু করেন। সেই নতুন শুরুর পথ ধরেই শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ক্যাডারে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেন তিনি।

স্বপ্নপূরণ

৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার মধ্য দিয়ে মাসুদ আলীর কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ৪৫তম বিসিএস ছিল তাঁর প্রথম বিসিএস। অ্যাপিয়ার্ড প্রার্থী হিসেবে এতে অংশ নেন তিনি। তবে সাফল্য আসেনি। ৪৬তম বিসিএসে লাইভস্টক ক্যাডারে সুপারিশ পান। তবে তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রশাসন ক্যাডার। সেই লক্ষ্য পূরণ হয় ৪৭তম বিসিএসে। সর্বশেষ ৫০তম বিসিএসে ভাইভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি অংশ নেননি।

শৈশবের শিক্ষা ও স্বপ্ন

মাসুদ আলীর জন্ম মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার বটনীঘাট গ্রামে। সেখানে তাঁর বেড়ে ওঠা। বটনীঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক, হাজী ইনজাদ আলী উচ্চবিদ্যালয়ে মাধ্যমিক এবং ইম্পিরিয়েল কলেজ, মৌলভীবাজার থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ছোটবেলায় সবার মতো তাঁরও শিক্ষক, চিকিৎসক বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে চিকিৎসক হওয়ার আগ্রহ ছিল বেশি।

বিসিএসের প্রস্তুতি

সিনিয়র ভাইদের দেখে বিসিএসের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় মাসুদ আলীর। করোনা মহামারির সময় ইংরেজির ভিত্তি শক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে মাস্টার্সের পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্তের চেষ্টা করেন। নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়ার চেয়ে কোনো বিষয় ভালোভাবে আয়ত্ত করাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এটা ছিল তাঁর প্রস্তুতির অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

প্রস্তুতির কৌশল

বিসিএস প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় কৌশল হলো নিজের দুর্বলতা ও শক্তির জায়গাগুলো চিহ্নিত করা। শুরুতে সিলেবাস নিজের মতো করে গুছিয়ে নেন মাসুদ আলী। দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে, সেগুলোতে বেশি সময় দিতেন। আর শক্তিশালী বিষয়গুলো থেকে বেশি নম্বর পাওয়ার চেষ্টা করতেন। এটিকে কার্যকর কৌশল হিসেবে নিয়েছিলেন তিনি।

চয়েস লিস্টের পেছনের কারণ

ইংরেজিতে দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহের কারণে পররাষ্ট্র ক্যাডার প্রথম পছন্দ দিয়েছিলেন মাসুদ আলী। তাঁর আশা ছিল, এতে ভাইভায় নিজের দক্ষতা তুলে ধরতে পারবেন এবং কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন। এখন আর বিসিএস দেওয়ার ইচ্ছা নেই তাঁর। নিজের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করতে চান তিনি।

প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা অভিজ্ঞতা

  • প্রিলিমিনারি: ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি প্রশ্ন সাম্প্রতিক বিসিএসগুলোর মধ্যে কঠিন মনে হয়েছে মাসুদ আলীর কাছে। সঠিক উত্তর বাছাই করা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে তিনি ভালো পরীক্ষা দিয়েছিলেন। প্রিলিমিনারির প্রস্তুতিতে বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলাদা করে পড়েছেন। যেসব বিষয় ভালোভাবে পারতেন, সেগুলোতে বেশি সময় দেননি; বরং কঠিন ও অপরিচিত বিষয়গুলোতে বেশি সময় দিয়ে নিজের বিভ্রান্তি দূর করেছেন।
  • লিখিত: ৪৭তম বিসিএসের লিখিত প্রশ্নও ছিল নতুন ধাঁচের ও জটিল। সময় ব্যবস্থাপনা করে সব প্রশ্নের আশানুরূপ উত্তর করতে পারাকে তৃপ্তির বিষয় মনে করেন তিনি।
  • লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাজারের গতানুগতিক বইয়ের ওপর নির্ভর করেননি। বিভিন্ন পত্রিকা, বিগত বছরের প্রশ্ন এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিয়েছেন। উত্তর উপস্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন তথ্য, উক্তি ও উদ্ধৃতি ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি নিয়মিত ইংরেজি শব্দভান্ডার অনুশীলন করেছেন।
  • ভাইভা: ইংরেজিতে দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে ভালো দখল থাকায় চয়েস ফরমে পররাষ্ট্র ক্যাডারকে প্রথম পছন্দ দিয়েছিলেন। দু-একটি প্রশ্ন বাংলা ছাড়া পুরো ভাইভা ইংরেজিতে হয়েছে।

মাসুদ আলী বলেন, ‘আমি যে রকম ভাইভা আশা করেছিলাম, ঠিক সে রকমই হয়েছিল। ভাইভার জন্য নিয়মিত পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি বিগত ভাইভার সাক্ষাৎকারগুলো দেখতাম। নিজে নিজে, বন্ধুদের সঙ্গে এবং মাঝেমধ্যে চ্যাটজিপিটির সঙ্গেও নিয়মিত অনুশীলন করতাম।’

নতুনদের জন্য পরামর্শ

বিসিএসের প্রস্তুতির শুরুতে সিলেবাস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন। নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি কৌশলী হোন। প্রতিদিন পত্রিকা পড়ুন এবং বিশ্লেষণের ক্ষমতা বাড়ান। পাশাপাশি প্রচুর মডেল টেস্ট দিন।