অস্ট্রেলিয়ার ১৫টি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল চার দিনের কর্মসপ্তাহ মডেল। দুই বছর পর এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৪টিই এই মডেল চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো প্রতিষ্ঠানই উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার অভিযোগ করেনি। বরং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এই মডেল নিয়ে একটি গবেষণা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘নেচার হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স কম্যুনিকেশন্স’-এ প্রকাশিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণায় ১৫টি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ‘১০০: ৮০: ১০০’ মডেলে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছিল। এই মডেলে কর্মীরা আগের মতোই ১০০ শতাংশ বেতন পান, তবে কাজ করেন আগের সময়ের ৮০ শতাংশ। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে আগের মতোই ১০০ শতাংশ উৎপাদনশীলতা পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিল কোম্পানিগুলো।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘ইনডিপেনডেন্ট’ জানিয়েছে, চার দিনের কর্মসপ্তাহের ধারণা নতুন নয়। ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মানুষ হয়তো একসময় সপ্তাহে মাত্র ১৫ ঘণ্টা কাজ করবে। যদিও বাস্তবে এখনো তা ঘটেনি। বরং অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, কর্মীদের নিয়মিতই বেতন ছাড়া অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে।
করোনা মহামারির পর বিশ্বজুড়ে কর্মপরিবেশ ও কাজের ধরন নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়। সেই সময় থেকেই চার দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকে।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রসারের কারণেও বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওপেনএআই সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চার দিনের কর্মসপ্তাহ পরীক্ষামূলকভাবে চালুর আহ্বান জানায়, যাতে এআই থেকে আসা উৎপাদনশীলতার সুফল কর্মীদের মধ্যেও বণ্টন করা যায়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল স্বাস্থ্যসেবা, প্রকাশনা, লজিস্টিকস ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানি। গবেষকদের মতে—উৎপাদনশীলতা বাড়ানো নয়, বরং কর্মীদের মানসিক চাপ ও কর্মক্লান্তি কমানোই ছিল অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য।
একটি স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, কর্মীদের অসুস্থতাজনিত ছুটি, মানসিক চাপে ছুটি নেওয়া এবং কর্মী ছেড়ে যাওয়ার হার কমেছে কি না—এসব সূচক দিয়ে তারা এই উদ্যোগের সফলতা মূল্যায়ন করেছেন। অন্য এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নারী প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘কর্মীদের ভালো জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানে একই পরিবেশ না তৈরি করা ভণ্ডামির মতো হতো।’
গবেষণায় অংশ নেওয়া ৬টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর পর তাদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। বাকিরা বলেছে, উৎপাদনশীলতা আগের মতোই রয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানই উৎপাদনশীলতা কমার কথা বলেনি। সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো এই মডেলকে ১০-এর মধ্যে গড়ে ৮ দশমিক ৫ নম্বর দিয়েছে।