ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন মো. মোত্তালেব হোসেন। স্নাতক সম্পন্ন করে তিনি ১৫তম বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। মেধাতালিকায় অর্জন করেন অষ্টম স্থান। ভাইভা বোর্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি। গ্রন্থনা করেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার।
অনুমতি নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করলাম। চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে সালাম দিলাম। মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয় বসতে বললেন। বোর্ডে মোট সাতজন সদস্য ছিলেন।
প্রশ্ন: একটি কবিতার চারটি চরণ শুনিয়ে কবিতা ও কবির নাম জিজ্ঞেস করলেন।
উত্তর: স্যার, এটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দারিদ্র্য’ কবিতার চরণ।
প্রশ্ন: জীবনানন্দ দাশের একটি কবিতা আবৃত্তি করুন।
উত্তর: ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি আবৃত্তি করলাম। আবৃত্তি শেষে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন স্যার প্রশংসা করলেন।
প্রশ্ন: টিউশন করেন?
উত্তর: জি স্যার। তবে পরীক্ষার জন্য আপাতত করছি না।
প্রশ্ন: কেন জজ হতে চান?
উত্তর: স্যার, কলেজে পড়ার সময় মোস্তফা কামাল সরকার নামের একজন শিক্ষক আমাকে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখান। তিনি বিচারকের সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে ধারণা দেন। অল্প কিছু নম্বরের জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়তে পারেননি, তাই বিচারকও হতে পারেননি। তিনি চেয়েছিলেন, আমার মাধ্যমে তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হোক।
প্রশ্ন: Democracy-এর একটি পরিচিত সংজ্ঞা বলুন।
উত্তর: Sir, according to former US President Abraham Lincoln, ‘Democracy is government of the people, by the people and for the people.’
প্রশ্ন: আপনার বন্ধু এসে আপনাকে হঠাৎ একটি অপবাদ দিল। কী করবেন?
উত্তর: স্যার, তাকে শান্তভাবে বুঝিয়ে বলব, মিথ্যা অভিযোগ করা উচিত নয়। এতে অন্যের যেমন ক্ষতি হয়, নিজেরও ক্ষতি হয়।
প্রশ্ন: Joinder of Parties, Joinder of Causes of Action এবং Joinder of Charges কী? এদের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: স্যার, কোনো মোকদ্দমায় বাদী বা বিবাদীকে পক্ষভুক্ত করাই Joinder of Parties। The Code of Civil Procedure, 1908-এর প্রথম তফসিলের আদেশ ১, বিধি ১০ অনুযায়ী পক্ষভুক্তির আবেদন করা যায়।
মোকদ্দমার Cause of Action একত্রীকরণকে বলা হয় Joinder of Causes of Action। মোকদ্দমার আধিক্য এড়াতে প্রথম তফসিলের আদেশ ২, বিধি ৩ অনুযায়ী এটি করা যায়।
আর Joinder of Charges হলো একাধিক অভিযোগ একত্র করে একটি বিচার পরিচালনার প্রক্রিয়া। The Code of Criminal Procedure, 1898-এর ২৩৩, ২৩৪ ও ২৩৫ ধারায় এ বিষয়ে বিধান রয়েছে।
প্রথম দুটি দেওয়ানি মোকদ্দমায় প্রযোজ্য, আর Joinder of Charges ফৌজদারি মামলায় প্রযোজ্য।
প্রশ্ন: স্মার্টফোন আছে? কী করেন স্মার্টফোনে?
উত্তর: জি স্যার। কথা বলা এবং পড়াশোনার কাজেই বেশি ব্যবহার করি।
প্রশ্ন: বিচার বিভাগে এসে কীভাবে কাজ করবেন?
উত্তর: স্যার, দ্রুত ও অধিকসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা করব।
প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি আরেকজনকে খুন করল। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেবেন, নাকি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড?
উত্তর: স্যার, সাধারণ নিয়ম হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেব। তবে mitigating factors থাকলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেব।
প্রশ্ন: Mitigating factor কী?
উত্তর: স্যার, যেসব পরিস্থিতির কারণে একজন দণ্ডিত ব্যক্তিকে তুলনামূলক কম শাস্তি দেওয়া যেতে পারে, সেগুলোই mitigating factors। যেমন: অল্প বয়স, প্রথমবার অপরাধ করা, অনুতপ্ত হয়ে দোষ স্বীকার করা অথবা অপরাধ সংঘটনে তুলনামূলক কম ভূমিকা থাকা।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ছাড়া আর কোনো দেশের সংবিধান পড়েছেন?
উত্তর: স্যার, একাডেমিক পড়াশোনার অংশ হিসেবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রাসঙ্গিক অনুচ্ছেদগুলো পড়েছি।
প্রশ্ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান আছে, নাম কী?
উত্তর: স্যার, জাতীয় গণগ্রন্থাগার।
প্রশ্ন: (সন্তুষ্ট না হয়ে) আর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই? আচ্ছা, ক্লু দিচ্ছি—টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর।
উত্তর: স্যার, বাংলা একাডেমি।
প্রশ্ন: বাংলা একাডেমির কাজ কী?
উত্তর: স্যার, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করা এবং বিভিন্ন জার্নাল ও সাময়িকী প্রকাশ করা। (আমি ভুলে যাওয়ায় স্যার মনে করিয়ে দিলেন, অমর একুশে বইমেলার আয়োজনও তাদের অন্যতম কাজ।)
প্রশ্ন: ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র’—এটি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে?
উত্তর: স্যার, এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে রয়েছে। পুরো অনুচ্ছেদ হুবহু বললাম।
প্রশ্ন: মদিনা সনদ পড়েছেন?
উত্তর: জি স্যার।
প্রশ্ন: নবাব সলিমুল্লাহ কে ছিলেন? তাঁর অবদান কী?
উত্তর: স্যার, তিনি ঢাকার নবাব পরিবারের সদস্য এবং ঢাকার চতুর্থ নবাব ছিলেন। নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
প্রশ্ন: ঠিক আছে। আপনি উঠতে পারেন।
উত্তর: সালাম দিয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে এলাম।