আচার-আচরণে বাহ্যিক ভদ্রতা প্রকাশ করলেও অন্তরে হিংসা, পরশ্রীকাতরতা ও অহংকার পুষে রাখলে প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। সমাজে যখন পরনিন্দা, গিবত ও পারস্পরিক বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে; তখন নীতিনৈতিকতার চূড়ান্ত অবক্ষয় ঘটে। তাই সুস্থ সমাজ ও সুন্দর আত্মিক জীবন গঠনে হৃদয়ের সৌন্দর্য ও পরিশুদ্ধি একান্ত জরুরি।
আত্মিক ব্যাধি ও গিবতের ভয়াবহতা: মনুষ্যত্বের প্রকৃত বিকাশ ঘটে মন থেকে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি ও দায়বদ্ধতা সৃষ্টির মাধ্যমে। হিংসা থেকে তৈরি হয় বিদ্বেষ, আর বিদ্বেষ থেকে পরনিন্দা ও পরমতের অসহিষ্ণুতা, যা সম্পর্কের অবসান ঘটায়। পবিত্র কোরআনে পরনিন্দা বা গিবতকে চরম ঘৃণ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের কেউ যেন কারও গিবত না করে।’ (সুরা হুজুরাত: ১২)
নবী করিম (সা.) গিবতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার এমন কোনো কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে—তা গিবত। (সহিহ মুসলিম)। কোরআনে এটিকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে।
হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন ও ভ্রাতৃত্বের তাগিদ: মানুষ হিসেবে অন্তরে হিংসা বা ক্ষোভ জাগা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু তা লালন করা মারাত্মক পাপ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরের প্রতি হিংসা করো না, বিদ্বেষ পোষণ করো না, সম্পর্ক ছিন্ন করো না; বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো।’ (সহিহ মুসলিম)
হাদিস শরিফে এসেছে, প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয় এবং সবাইকে ক্ষমা করা হয়; কেবল সেই দুজনকে ছাড়া যাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ বিদ্যমান। যতক্ষণ না তারা মীমাংসা করে, ততক্ষণ তাদের ক্ষমা স্থগিত রাখা হয়। (সহিহ মুসলিম)। এ ছাড়া কোনো মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখা সুন্নাহ পরিপন্থী।
হিংসা ও ঘৃণা উপড়ে ফেলার দোয়া: হৃদয় থেকে সব ধরনের হিংসা ও ঘৃণা উপড়ে ফেলতে পবিত্র কোরআনে সুন্দর দোয়া শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের আগের ইমানদার ভাইদেরও ক্ষমা করুন। আর মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না।’ (সুরা হাশর: ১০)