মানুষের জীবনে রিজিক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অর্থ-সম্পদের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য, মানসিক প্রশান্তি, নেক সন্তান, সময়ের বরকতও রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত এমন কিছু আমল আছে, যেগুলোর পাবন্দি করলে রিজিকে বরকত আসে। এমন গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি আমল হলো—
এক. নামাজের মাধ্যমে রিজিক বৃদ্ধি পায়। যারা নিয়মিত নামাজ আদায় করে, আল্লাহ তাদের জীবনে প্রশান্তি ও রিজিকে বরকত দান করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি তোমার পরিবারের লোকদের নামাজের আদেশ দাও এবং নিজেও এর ওপর দৃঢ় থাকো। আমি তোমার কাছে রিজিক চাই না। রিজিক তো আমিই দেব।’ (সুরা তহা: ১৩২)
দুই. ইস্তিগফার এমন একটি আমল, যা মানুষের গুনাহ মাফ করার পাশাপাশি রিজিক বৃদ্ধি করে। ইস্তিগফারের ফলে আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষিত হয়। সম্পদ ও সন্তানাদি বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। (এর ফলে) তিনি আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি বাড়িয়ে দেবেন।’ (সুরা নুহ: ১০-১২)
তিন. দান-সদকা মানুষের বিপদাপদ দূর করে, গুনাহ মাফ করে এবং আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যমে রিজিকের বরকত নিয়ে আসে। হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘দান-সদকার ফলে সম্পদ কমে না, তোমরা (অধিক পরিমাণে) সদকা করো।’ (মুসনাদে আহমদ: ১৬৭৪)
চার. আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা প্রকাশের মাধ্যমে রিজিক বৃদ্ধি পায়। হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথ ভরসা করতে, তাহলে তিনি পাখির মতো তোমাদের রিজিক দিতেন। পাখি সকালে খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।’ (জামে তিরমিজি: ২৩৪৪)
পাঁচ. আল্লাহভীতির মাধ্যমে রিজিকে বরকত আসে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার জন্য সংকট থেকে উত্তরণের পথ সহজ করে দেবেন এবং তাকে ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন।’ (সুরা তালাক: ২-৩)