বিংশ শতাব্দীর মুসলিম উম্মাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক, প্রখ্যাত সাহিত্যিক সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.)। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের রায়বেরেলির এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সাইয়েদ আবদুল হাই ছিলেন ‘নুজহাতুল খাওয়াতির’-এর মতো কালজয়ী গ্রন্থের রচয়িতা।
মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতাকে হারানোর পর বড় ভাই সাইয়েদ আবদুল আলি তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষা জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
আলি মিয়া নদভি (রহ.)-কে তাঁর নিরন্তর সফরের কারণে অনেকে ‘দ্বিতীয় ইবনে বতুতা’ বলে অভিহিত করেন। ১৯৩৫ সালে নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেও তাঁর মূল কর্মক্ষেত্র ছিল পুরো পৃথিবী।
সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.) প্রায় পৌনে এক শতাব্দী ধরে অবিশ্রান্তভাবে লিখে গেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম শুধু তথ্য নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণের হাতিয়ার।
মা জা খাসিরাল আলাম বি ইনহিতাতিল মুসলিমিন: এটি তাঁর বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ, যা পৃথিবীর প্রায় সকল প্রধান ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
জ্ঞানের এই মহিরুহ তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মুসলিম বিশ্বের নোবেল খ্যাত ‘বাদশা ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার’-এ ভূষিত হন। ১৪২১ হিজরি সালের ২২ রমজান জুমার প্রাক্কালে সুরা ইয়াসিন তিলাওয়াতরত অবস্থায় এই মহান মনীষী ইন্তেকাল করেন। রায়বেরেলির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।