কোরবানি ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কোরবানি আদায় করা ‘ওয়াজিব’ দায়িত্ব। তবে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে বা বিশেষ কোনো কারণে কোরবানি দেওয়া সম্ভব হয় না। সামর্থ্য থাকার পরও যদি কোরবানি না দেওয়া হয়, তবে করণীয় কী?
যাঁদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব ছিল, কিন্তু ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে তাঁরা কোরবানি দিতে পারেননি, তাঁদের জন্য শরিয়ত নিম্নোক্ত বিকল্প পথ বাতলে দিয়েছে—
যদি আপনার ওপর কোরবানি ওয়াজিব থাকে, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনি পশু কিনতে বা কোরবানি দিতে না পারেন, তবে তার কাফফারা বা বিকল্প হিসেবে একটি কোরবানির উপযোগী ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। এ ক্ষেত্রে কেবল তওবা করলেই হবে না, বরং সমপরিমাণ অর্থ দরিদ্রদের দান করে দিতে হবে।
যদি কেউ কোরবানির জন্য পশু কিনেছিলেন, কিন্তু কোনো অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে সেটি জবাই করতে পারেননি এবং কোরবানির সময় (১২ জিলহজ সূর্যাস্ত) পার হয়ে গেছে, তবে ওই পশুটিই জীবিত অবস্থায় সদকা করে দিতে হবে।
যদি কেউ কোরবানির নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর পশু জবাই করেন, তবে ওই পশুর পুরো গোশত সদকা করে দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই গোশত কোরবানিদাতা বা তাঁর পরিবার খেতে পারবে না। এমনকি যদি জবাই করা পশুর গোশতের বাজারমূল্য জীবিত পশুর চেয়ে কমে যায়, তবে বাকি অংশের টাকাও সদকা করতে হবে।
কোরবানি মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
‘যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে, কিন্তু কোরবানি করে না—সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৩৫১৯)
পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ তাআলা ত্যাগের এই মহিমাকে বড় করে দেখেছেন, ‘তাদের মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; বরং তোমাদের তাকওয়া তাঁর কাছে পৌঁছায়।’ (সুরা হজ: ৩৭)
ইসলাম সাধ্যের বাইরে কোনো বোঝা চাপিয়ে দেয় না। যদি কোরবানির ওই তিন দিন আপনার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে, তবে কোরবানি না দিলেও কোনো গুনাহ হবে না। সে ক্ষেত্রে আপনি অন্যান্য উপায়ে সওয়াব অর্জন করতে পারেন:
কোরবানি কেবল পশু জবাইয়ের নাম নয়, এটি একটি মহান ইবাদত। তাই সামর্থ্য থাকলে কোনোভাবেই এতে অবহেলা করা উচিত নয়। যদি কোনো কারণে সময়মতো আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে দ্রুত উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী সদকা করে ওয়াজিবের জিম্মাদারি থেকে মুক্ত হওয়া জরুরি।