দৈনন্দিন জীবনে নিজেকে পরিপাটি রাখা এবং আয়নায় নিজের চেহারা দেখা মানুষের একটি স্বাভাবিক স্বভাব। তবে একজন মুমিনের জন্য এই সাধারণ কাজটিও ইবাদতে পরিণত হতে পারে, যদি তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী করা হয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজে আয়না দেখতেন এবং চেহারার বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বা আত্মিক চরিত্র সুন্দর করার জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া ও প্রার্থনা জানাতেন। একাধিক সাহাবির সূত্রে হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে আয়না দেখার সময় এবং সাধারণ অবস্থায় পড়ার মতো বেশ কিছু চমৎকার দোয়া বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহর কৃতজ্ঞতা
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন আয়নায় নিজের অবয়ব দেখতেন তখন এই দোয়াটি পাঠ করতেন—‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি হাসসানা খালক্বি ওয়া খুলুক্বি ওয়া যানা মিন্নি মা শানা মিন গাইরি।’ অর্থ: ‘সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমার চেহারা ও আচরণে সৌন্দর্য দিয়েছেন এবং অন্যদের মধ্যে যেসব ত্রুটি দিয়েছেন তা থেকে আমাকে মুক্ত করে সুন্দর করেছেন।’ (মুসনাদে আবু ইয়ালা: ২৬১১)
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন আয়নায় নিজের মুখমণ্ডল দেখতেন, তখন আল্লাহর অপার নেয়ামতের শুকরিয়া এভাবে প্রকাশ করতেন—‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি সাওয়া খালক্বি ফাআদালাহু ওয়া সাওয়ারা সুরাতা ওয়াজহি ফাহাসসানাহা ওয়া জাআলানি মিনাল মুসলিমিন।’ অর্থ: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে সুগঠন ও পূর্ণতা দিয়েছেন, আমার মুখাবয়ব সুন্দরভাবে তৈরি করেছেন এবং আমাকে মুসলিম বানিয়েছেন।’ (তাবরানি ফিল আওসাত: ৭৮৭)
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি রেওয়ায়েতে এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন হাতে আয়না নিয়ে নিজের চেহারার দিকে তাকাতেন, তখন বলতেন—‘আলহামদুলিল্লাহ, আকমালা খালক্বি ওয়া হাসসানা সুওরাতি ওয়া যানা মিন্নি মা শানা মিন গাইরি।’ অর্থ: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমার অঙ্গ-সৌষ্ঠবের পূর্ণতা দিয়েছেন, আমার অবয়ব সুন্দর করেছেন এবং অন্যের অসুন্দরতা বা ত্রুটি থেকে আমাকে রক্ষা করে সৌন্দর্য দিয়েছেন।’ (জাওয়ায়েদুজ জুহদ: ১১৭৪)