আমাদের মধ্যে অনেকের উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস রয়েছে। ইসলামে এভাবে ঘুমানোকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তুমি বিছানায় যাবে, তখন নামাজের অজুর মতো অজু করে নেবে। এরপর ডান পাশ হয়ে শুয়ে পড়বে।’ (সহিহ বুখারি: ২৪৭)
উপুড় হয়ে ঘুমানো সরাসরি কোনো হারাম বা কবিরা গুনাহের কাজ না হলেও, এটি ‘মাকরুহ তানজিহি’ বা অপছন্দনীয় কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) উপুড় হয়ে শুতে নিষেধ করেছেন। হাদিস শরিফে এর প্রধান দুটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে: ১. মহান আল্লাহ তাআলা এই ভঙ্গিতে ঘুমানো বা শুয়ে থাকা মোটেও পছন্দ করেন না। ২. এটি মূলত জাহান্নামিদের শোয়ার ভঙ্গি।
ইবনে তিখফা আল-গিফারি (রহ.) তাঁর বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, একদা শেষ রাতে আমি মসজিদে উপুড় হয়ে ঘুমে বিভোর ছিলাম। এমন সময় একজন আগন্তুক এসে পায়ের সাহায্যে আমাকে নাড়া দিয়ে বললেন, ‘ওঠো, এই উপুড় হয়ে ঘুমানোতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।’ আমি মাথা তুলে তাকিয়ে দেখি যে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার শিয়রে দাঁড়িয়ে আছেন। (আদবুল মুফরাদ: ১১৯৯)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখে বললেন, ‘নিশ্চয়ই এ ধরনের শয়ন আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন না।’ (জামে তিরমিজি: ২৭৬৮)
আবু জর গিফারি (রা.) বলেন, আমি উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় নবী (সা.) আমার পাশ দিয়ে গেলেন। তিনি আমাকে তাঁর পা দিয়ে খোঁচা মেরে বলেন, ‘হে জুনাইদিব (আবু জরের আসল নাম), এটা তো জাহান্নামের শয়ন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৭২৪)
তবে কেউ যদি গুরুতর অসুস্থ হন, পিঠে বা কোমরে কোনো আঘাতের কারণে সোজা বা কাত হয়ে ঘুমাতে না পারেন কিংবা চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ থাকে; তবে চিকিৎসার খাতিরে বা নিরুপায় অবস্থায় উপুড় হয়ে শোয়ায় কোনো দোষ নেই।