হোম > ইসলাম

আপনার জিজ্ঞাসা

দাড়ি কীভাবে রাখলে সুন্নত পালন হবে

মুফতি শাব্বির আহমদ

প্রশ্ন: ইসলামে দাড়ি রাখার বিধান কী? কীভাবে দাড়ি রাখলে সুন্নত পালন হবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

শামীম মোল্লা, কিশোরগঞ্জ

উত্তর: দাড়ি রাখা নবী-রাসুলদের চিরন্তন সুন্নত এবং ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন অর্থাৎ শিআরে ইসলাম। মানবজাতির শুরু থেকেই দাড়ি ছিল পুরুষত্বের প্রতীক ও আভিজাত্যের চিহ্ন। সেই ধারাবাহিকতায় ইসলাম ধর্মেও দাড়ি রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। দাড়ি আঁচড়ানো, তেল লাগানো এবং পরিচ্ছন্ন রাখা সুন্নত। রাসুল (সা.) অজুতে দাড়ি ধোয়ার সময় আঙুল দিয়ে খিলাল করতেন।

দাড়ি রাখার ধর্মীয় গুরুত্ব ও হুকুম

ইসলামি ফিকহবিদ ও আলেমদের মতে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব (আবশ্যক)। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে দাড়ি লম্বা করার এবং গোঁফ খাটো করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু রাসুল (সা.)-এর সরাসরি আদেশ রয়েছে, তাই দাড়ি কাটা বা মুণ্ডন করা ‘ওয়াজিব’ তরক করার শামিল, যা কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ।

পবিত্র কোরআনে দাড়ি রাখার সরাসরি নির্দেশ না থাকলেও নবী-রাসুলদের দাড়ি রাখার বর্ণনা রয়েছে। এ ছাড়া রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের নির্দেশ কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে দেওয়া হয়েছে।

দাড়ির সঠিক পরিমাপ

দাড়ি রাখার সুন্নতি বা শরয়ি পরিমাপ হলো এক মুষ্টি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) যখন হজ বা ওমরাহ করতেন, তখন তিনি নিজের দাড়ি মুঠ করে ধরতেন এবং অতিরিক্ত অংশটুকু কেটে ফেলতেন। মুহাদ্দিসিনদের মতে, তিনি এটি সব সময়ই করতেন। হজরত ওমর (রা.)-ও এক ব্যক্তির এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি নিজ হাতে কেটে দিয়েছিলেন।

পবিত্র কোরআনের বর্ণনা, হাদিসের নির্দেশ এবং সাহাবিদের আমলের ভিত্তিতে ইসলামবিষয়ক গবেষকগণ মত দিয়েছেন: ১. দাড়ি এক মুষ্টি পরিমাণ লম্বা রাখা ওয়াজিব। ২. এক মুষ্টির কম রাখা বা একদম চেঁছে ফেলা কোনো কোনো ফকিহ বলেছেন হারাম, কেউ বলেছেন মাকরুহে তাহরিমি। ৩. এক মুষ্টির বেশি হয়ে গেলে তা কাটা বা ছাঁটা জায়েজ।

ফিকহবিদদের মতে, দুই চোয়ালের হাড়ের ওপর গজানো পশম, কান ও চোখের মধ্যবর্তী স্থানের পশম এবং থুতনির নিচের অংশ—সবই দাড়ির অন্তর্ভুক্ত।

দাড়ি রাখা কেবল বাহ্যিক কোনো বিষয় নয়, এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ। এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখা প্রত্যেক মুমিন পুরুষের জন্য আবশ্যক। এটি যেমন দুনিয়াতে একজন মুসলিমের সম্মান বৃদ্ধি করে, তেমনি আখিরাতেও রাসুল (সা.)-এর শাফায়াত পাওয়ার উসিলা হতে পারে।

তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, ফাতহুল বারি, ফতোয়ায়ে শামি।

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৪ জুন ২০২৬

মায়ের মর্যাদা ও সন্তানের দায়িত্ব

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

চামড়ার কারুশিল্পে বেলুচি মুসলমানদের মুনশিয়ানা

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর করণীয় ৫ আমল

হজ থেকে ফিরে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার উপায়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৩ জুন ২০২৬

ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়েছিল যেভাবে

সুরা ফাজর অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ

কোরবানির মাংস কত দিন রাখা যায়