পবিত্র রমজানে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকা ফরজ। তবে অনেক সময় আমরা ধূমপান বা কয়েল-আগরবাতির ধোঁয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সংশয়ে থাকি। ইসলামি শরিয়তের আলোকে ধূমপান এবং রোজা ভঙ্গের বিভিন্ন কারণ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. রোজা অবস্থায় ধূমপান ও ধোঁয়ার বিধান
রোজা রেখে সামান্য পরিমাণ ধূমপান করলেও রোজা ভেঙে যায়। এর বিস্তারিত বিধান হলো:
কাজা ও কাফফারা: কেউ যদি স্বেচ্ছায় ধূমপান (সিগারেট, বিড়ি, হুক্কা বা ই-সিগারেট) করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং এর জন্য কাজা ও কাফফারা (টানা ৬০টি রোজা) উভয়ই আদায় করা আবশ্যক।
অন্যের ধোঁয়া: অনিচ্ছায় অন্যের সিগারেটের ধোঁয়া নাক-মুখে ঢুকে গেলে রোজা ভাঙবে না। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃত অন্যের ধোঁয়া নাক দিয়ে টেনে নেয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে।
কয়েল ও আগরবাতি: মশার কয়েল, ধূপ বা আগরবাতির ধোঁয়া অনিচ্ছায় নাকে গেলে সমস্যা নেই, কিন্তু ঘ্রাণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত ধোঁয়া টানলে রোজা নষ্ট হবে।
২. যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায় এবং ‘কাজা ও কাফফারা’ উভয়ই লাগে
যদি কোনো ব্যক্তি রমজানের দিনের বেলা নিচের কাজগুলো স্বেচ্ছায় করে, তবে তাকে ওই রোজার কাজা করার পাশাপাশি কাফফারাও দিতে হবে:
ক. ইচ্ছাকৃত যৌনমিলন করা।
খ. ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার (খাওয়া বা পান) করা।
কাফফারা আদায়ের নিয়ম:
১. একটি দাস মুক্ত করা (বর্তমানে সম্ভব নয়),
২. ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজা রাখা,
৩. যদি রোজা রাখতে অক্ষম হয়, তবে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা তৃপ্তিসহকারে আহার করানো।