ঘুম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। এই ঘুমের মধ্যেই মানুষ নানা ধরনের স্বপ্ন দেখে। কিছু স্বপ্ন হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়, আবার কিছু স্বপ্ন দেখার পর ভয়, দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা তৈরি হয়। অনেকেই ভীতিকর স্বপ্ন দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং মনে করেন, হয়তো এটি কোনো অশুভ ঘটনার পূর্বাভাস। অথচ ইসলাম এ বিষয়ে অত্যন্ত সহজ ও বাস্তবসম্মত নির্দেশনা দিয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আর দুঃস্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। কেউ যদি অপছন্দের কোনো স্বপ্ন দেখে, তবে সে যেন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং নিজের বাঁ দিকে তিনবার থুতু ফেলে। তাহলে ওই স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (সহিহ বুখারি: ৬৯৮৪)
মন্দ স্বপ্ন দেখে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। একজন মুমিন যদি নবীজি (সা.)-এর শেখানো আমলগুলো পালন করেন, তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় ওই স্বপ্ন তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
আমাদের সমাজে মন্দ স্বপ্ন নিয়ে নানা কুসংস্কার প্রচলিত আছে। কেউ মনে করেন, অমুক স্বপ্ন দেখলে অমঙ্গল হবেই, কেউবা আবার স্বপ্নের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফেলেন। ইসলামে এসবের কোনো ভিত্তি নেই। শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মন্দ স্বপ্ন মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে না। মানুষের কল্যাণ ও অকল্যাণ একমাত্র আল্লাহর হাতে।
তাই ভীতিকর স্বপ্ন দেখলে জ্যোতিষী, গণক বা কথিত স্বপ্ন-বিশারদদের দ্বারস্থ হওয়ার পরিবর্তে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা উচিত। বেশি বেশি আয়াতুল কুরসি, সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুললে আল্লাহর ইচ্ছায় শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা যায়। এসব আমলের ব্যাপারে সহিহ হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
অপছন্দের স্বপ্ন কাউকে বলা উচিত নয়। এতে অযথা ভয় ও কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেক সময় ভুল ব্যাখ্যা মানুষের মনে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে ভালো স্বপ্ন হলে তা বিশ্বস্ত, সৎ ও শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তির কাছে বলা যেতে পারে।