হোম > ইসলাম

অমুসলিমদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা

ড. আবু সালেহ মুহাম্মদ তোহা

ইসলাম সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ ও শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। কোরআন ও সুন্নাহতে মুসলমানদের শুধু নিজেদের মধ্যে নয়, বরং অমুসলিমদের সঙ্গেও ন্যায়, সদাচার ও মানবিক আচরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্ম পালনে ইসলাম স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো জবরদস্তি নেই বলে ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়, ইসলামি সমাজব্যবস্থা সর্বজনীন কল্যাণে সমৃদ্ধ এবং ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট।

সবার সঙ্গে মানবিক আচরণ

ইসলামের অন্যতম শিক্ষা হলো, সব মানুষের প্রতি উদার মনোভাব পোষণ ও মানবিক আচরণ প্রদর্শন করা। কারণ মানুষ হিসেবে সবাই সমান; ধর্ম বা বর্ণের পার্থক্য থাকলেও সৃষ্টিগতভাবে সব মানুষই আদম ও হাওয়া (আ.)-এর সন্তান। তাই আর্থিক লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবার আদান-প্রদান সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে পরিচালনা করতে কোনো বাধা নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) অনেকবার ইহুদিদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন এবং যথাসময়ে তা পরিশোধ করেছেন। পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা ও অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা ইসলামি সমাজব্যবস্থার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। প্রতিবেশী যে ধর্মেরই হোক, তার প্রতি সদয় আচরণ ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করা ইসলামের নির্দেশ। এমনকি অমুসলিম রোগীকে দেখতে যাওয়াও নবীজি (সা.)-এর সুন্নত। মানুষ হিসেবে মানবিক আচরণে ধর্ম কোনো বাধা নয়। কারণ মহান আল্লাহ সব মানুষকে সম্মানিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি’। (সুরা বনি ইসরাইল: ৭০)

ধর্ম পালনে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা

রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় ইহুদি ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে যে ঐতিহাসিক সনদ সম্পাদন করেছিলেন, সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নেতৃত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। খলিফা উমর (রা.) বাইতুল মুকাদ্দাস জয় করার পর খ্রিষ্টানদের গির্জা অক্ষত রাখেন এবং তাদের ধর্ম পালনের নিশ্চয়তা দেন। ইসলামি আইন অনুযায়ী চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমেরা (জিম্মি) রাষ্ট্রীয়ভাবে পূর্ণ সুরক্ষা পেয়ে থাকে। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তির ওপর জুলুম করবে বা তার প্রাপ্য কম দেবে কিংবা তাকে তার সামর্থ্যের বাইরে কিছু করতে বাধ্য করবে অথবা তার সন্তুষ্টিমূলক সম্মতি ছাড়া তার কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার বিপক্ষে বাদী হব।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৩০৫২)

অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিধান

ইসলাম একদিকে অমুসলিমদের ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে, অন্যদিকে মুসলমানদের জন্য ইমান রক্ষা ও দ্বীনের অক্ষুণ্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে অমুসলিমেরা নিজেদের উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারলেও মুসলমানেরা তাতে অংশ নিতে পারে না। কারণ এতে দ্বীনের সঙ্গে আপস ঘটে। ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে ইসলামে আপসের কোনো সুযোগ নেই। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা নবী করিম (সা.)-কে ঘোষণা দিতে বলেন, ‘তোমাদের দ্বীন তোমাদের, আমার দ্বীন আমার।’ (সুরা কাফিরুন: ৬)। এ আয়াত দ্বীনের বিশুদ্ধতা রক্ষার পাশাপাশি অন্য ধর্মের স্বাধীনতাকেও স্বীকৃতি দিয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম ন্যায়, সদাচার ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছে। অমুসলিমদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, লেনদেন ও মানবিক আচরণ করা ইসলামের নির্দেশ। একই সঙ্গে ইসলাম প্রত্যেককে তার ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। তবে মুসলমানদের জন্য নিজেদের ইমান ও আকিদা রক্ষা করা অপরিহার্য; তাই অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বা শুভেচ্ছা বিনিময় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সর্বোপরি বলা যায়, ইসলাম মানবাধিকার রক্ষায় সর্বজনীন এবং ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

মৃত্যু এক অনিবার্য বাস্তবতা

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

তওবা: আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির সুনিশ্চিত পথ

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জ্ঞান চর্চার গুরুত্ব

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

বেফাক পরীক্ষা: কওমি মাদ্রাসার বছর শেষের উৎসবমুখর পড়াশোনা

সাহাবিদের অনন্য ৮ গুণ

রোগব্যাধি ও বিপদ-আপদে মুমিনের করণীয়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

গিবতের ভয়াবহ ৬ কুফল