হোম > ইসলাম

হজরতজি ইলিয়াস কান্ধলভি (রহ.) : তাবলিগ জামাতের সূচনা যার হাতে

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আন নোমান আরীফী

হজরতজি ইলিয়াস কান্ধলভি (রহ.)

ইসলামি দাওয়াতের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম হজরতজি মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি (রহ.)। বিংশ শতাব্দীতে মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে দ্বীনি জজবা জাগ্রত করতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত তাবলিগ জামাত আজ বিশ্বব্যাপী এক বিশাল মহিরুহে পরিণত হয়েছে।

জন্ম ও বংশ পরিচয়

মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভারতের উত্তর প্রদেশের কান্ধালা নামের গ্রামের এক বিখ্যাত আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নাম ছিল ‘আখতার ইলিয়াস।’ তাঁর পিতা মাওলানা ইসমাইল (রহ.) ছিলেন একজন বড় মাপের আলেম। তাঁর বড় ভাই মাওলানা ইয়াহইয়া কান্ধলভিও ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক। শৈশব থেকেই তিনি এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন।

তাঁর নানি প্রায়ই বলতেন, ‘আখতার, আমি তোমার থেকে সাহাবায়ে কেরামের সুঘ্রাণ পাই।’ এমনকি শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দি (রহ.) বলতেন, তাঁকে দেখলে সাহাবায়ে কেরামের কথা স্মরণ হয়।

শিক্ষাজীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনা

কান্ধালাতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করার পর উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি বিশ্বখ্যাত বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন। সেখানে তিনি মাওলানা খলিল আহমাদ সাহারানপুরি ও শায়খুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দির মতো প্রখ্যাত স্কলারদের সান্নিধ্য লাভ করেন।

আধ্যাত্মিকতার পথে তিনি হজরত রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহি (রহ.)-এর কাছে বায়াত গ্রহণ করেন। গাঙ্গুহি (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি মাওলানা সাহারানপুরি (রহ.)-এর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং শায়খুল হিন্দ (রহ.)-এর হাতে আল্লাহর পথে লড়াইয়ের বায়াত নেন।

তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠা ও দাওয়াতি মিশন

মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর জীবনের শ্রেষ্ঠ অবদান হলো তাবলিগ জামাতের সূচনা। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে মেওয়াত এলাকার মানুষের ধর্মীয় উদাসীনতা দেখে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন।

  • মক্তব প্রতিষ্ঠা: শুরুতে তিনি মেওয়াতে শত শত মক্তব চালু করেন। এটি ছিল পাহাড় কেটে বাঘ বের করার মতো কঠিন কাজ।
  • নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন: তিনি অনুভব করলেন, শুধু মক্তব দিয়ে সাধারণ মানুষকে দ্বীনের পথে আনা সম্ভব নয়। তাই তিনি বেতনভুক্ত মুবাল্লিগ নিয়োগের চিন্তা ত্যাগ করে সাহাবায়ে কেরামের পদ্ধতিতে স্বেচ্ছাসেবী জামাত গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
  • জনগণের দোরগোড়ায় দ্বীন: তিনি ছোট ছোট জামাত গঠন করে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার পদ্ধতি চালু করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল—আল্লাহ থেকে বিমুখ মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া এবং আলেমদের সাধারণ মানুষের মাঝে নিয়ে আসা।

মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)-এর সংগ্রাম ও ইন্তেকাল

শেষ বয়সে শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও দাওয়াতি কাজে মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) ছিলেন অজেয় হিম্মতের অধিকারী। তিনি বলতেন, দ্বীনের এই কাজ আলেমদেরই জিম্মাদারি। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি এই মিশন চালিয়ে গেছেন। অবশেষে ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই মধ্যরাতে তিনি মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে এই নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করেন।

আজ বিশ্বের আনাচে-কানাচে তাবলিগের যে জোয়ার দেখা যায়, তার বীজ বপন করেছিলেন মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)। তাঁর বিনয়, ইখলাস ও নিরলস মেহনত আজও কোটি কোটি মানুষের ইমানি পথপ্রদর্শক।

আত্মশুদ্ধির অনন্য অধ্যায় রমজান

মহানবী (সা.) ও খাদিজা (রা.)-এর বিয়ে হয়েছিল যেভাবে

রোজার নিয়ত কি মুখে বলা জরুরি?

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রমজান মহাপ্রাপ্তির মনোহর আয়োজন

মক্কার নীরব রাতে এক অলৌকিক জন্ম

মাতৃভাষার প্রতি নবী (সা.)-এর ভালোবাসা ও আমাদের করণীয়

কায়রোর অলিগলিতে রমজান বরণের আয়োজন

ফরজ গোসল না করে কি সেহরি খাওয়া যাবে?

তারাবি নামাজের নিয়ম ও ফজিলত