দৈনন্দিন কথাবার্তায় আমরা ধর্মীয় যে শব্দগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকি, তার মধ্যে অন্যতম একটি পরিভাষা হলো ‘সুবহানাল্লাহ’। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এই জিকিরটি মুমিন বান্দার অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা বাড়িয়ে দেয়। তবে আমরা অনেকেই এর প্রকৃত অর্থ, সঠিক ব্যবহারের ক্ষেত্র এবং এর বিপুল ফজিলত সম্পর্কে পুরোপুরি জানি না।
সুবহানাল্লাহ একটি পবিত্র আরবি শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ ‘আল্লাহ পবিত্র ও সুমহান’ কিংবা ‘আল্লাহ তাআলা সব ধরনের অপূর্ণতা, মন্দ ও দোষত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র’। এটি একটি তাসবিহ, যার মাধ্যমে বান্দা স্বীকার করে যে মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা কোনো সীমাবদ্ধতা, দুর্বলতা বা অপূর্ণতার ঊর্ধ্বে।
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ৩২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে ফেরেশতাদের বক্তব্যেও এই তাসবিহর বাস্তব শিক্ষা উঠে এসেছে।
দৈনন্দিন জীবনে প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে সুবহানাল্লাহ বলা হয়ে থাকে:
১. আশ্চর্য ও নয়নাভিরাম কিছু দেখলে বা শুনলে: মহান আল্লাহ তাআলার কোনো বিস্ময়কর সৃষ্টি বা সুন্দর নিদর্শন দেখলে এই শব্দ বলা হয়। যেমন—সমুদ্রসৈকতে দাঁড়িয়ে নয়নাভিরাম সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখে বলা যেতে পারে, ‘সুবহানাল্লাহ! কত সুন্দর এই দৃশ্য!’
২. অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেলে: বড় ধরনের কোনো বিপদ বা দুর্ঘটনা থেকে কেউ অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলে বিস্ময় ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এটি বলা হয়। যেমন ‘সুবহানাল্লাহ! গাড়িটি দুর্ঘটনাক্রান্ত হলেও ভেতরের যাত্রীরা পুরোপুরি অক্ষত রয়েছেন।’
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিভিন্ন হাদিসে এই তাসবিহ পাঠের অভূতপূর্ব সওয়াব ও ক্ষমার কথা বর্ণিত হয়েছে। হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, একবার রাসুল (সা.) আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের কেউ কি প্রতিদিন ১০০০ নেকি অর্জন করতে পারো?’ একজন জানতে চাইলেন, ‘তা কীভাবে সম্ভব?’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘১০০ বার সুবহানাল্লাহ বললে তার আমলনামায় ১০০০ নেকি লেখা হয় অথবা তার ১০০০ পাপ মোচন করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম)