ইসলামি পরিভাষায় দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে সব সদকা সমান নয়। কিছু দান এমন রয়েছে, যার সওয়াব দাতার মৃত্যুর পরও কবরে পৌঁছাতে থাকে। একেই বলা হয় সদকায়ে জারিয়া। আজকে আমরা সদকায়ে জারিয়ার সংজ্ঞা, গুরুত্ব এবং এর সেরা কিছু উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করব।
সদকায়ে জারিয়া একটি আরবি শব্দ। সদকা অর্থ দান এবং জারিয়া অর্থ প্রবহমান বা চলমান। অর্থাৎ, যে দান বা কল্যাণমূলক কাজের উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী এবং যার সওয়াব কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তাকে সদকায়ে জারিয়া বলে।
পৃথিবীতে ওই কাজ বা স্থাপনাটি যত দিন বিদ্যমান থাকবে এবং মানুষ তা থেকে উপকৃত হবে, সদকাকারী ব্যক্তি কবরে শুয়ে শুয়ে এর সওয়াব পেতে থাকবেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, কেবল তিনটি আমল ছাড়া—সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান—যা থেকে মানুষ উপকৃত হয় অথবা এমন নেক সন্তান—যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ্ মুসলিম: ১৬৩১)
অনেকে সাধারণ দান ও সদকায়ে জারিয়াকে গুলিয়ে ফেলেন। দুটির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো স্থায়িত্ব।
আপনি যদি নিজের বা মৃত আত্মীয়স্বজনের নামে সদকায়ে জারিয়া করতে চান, তবে নিচের কাজগুলো করতে পারেন:
সদকা কবুল হওয়ার মূল শর্ত হলো ইখলাস বা নিষ্ঠা। দান কাউকে দেখানোর জন্য বা বাহবা পাওয়ার জন্য নয়, বরং শুধু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে করতে হবে। লোকদেখানো দান সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহের কারণ হতে পারে। মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু সদকায়ে জারিয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের সওয়াবকে চিরস্থায়ী করতে পারি।