ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম। এটি এমন একটি ইবাদত, যাতে শারীরিক ও আর্থিক উভয় শ্রমের সমন্বয় রয়েছে। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ।
আভিধানিক অর্থ: হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ইচ্ছা করা, সংকল্প করা, সফর বা ভ্রমণ করা।
পারিভাষিক অর্থ: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত স্থানে বিশেষ কিছু আমল বা কর্মকাণ্ড সম্পাদন করাকে হজ বলে।
পালনের পদ্ধতি অনুযায়ী হজ প্রধানত তিন প্রকার। যথা—
১. হজে ইফরাদ: শুধু হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করাকে হজে ইফরাদ বলে। এই হজে ওমরাহ পালন করা হয় না। যাঁরা মক্কার স্থায়ী বাসিন্দা, তাঁরা সাধারণত এই হজ পালন করেন। তবে দূরবর্তী হাজিরাও এটি পালন করতে পারেন। এতে কোরবানি দেওয়া মুস্তাহাব (ঐচ্ছিক)।
২. হজে কিরান: একই সফরে হজ ও ওমরাহর জন্য একত্রে ইহরামের নিয়ত এবং তা সম্পন্ন করাকে হজে কিরান বলে। মক্কায় পৌঁছে প্রথমে ওমরাহ পালন করতে হয়, কিন্তু ইহরাম খোলা যায় না। সেই একই ইহরামে ১০ জিলহজ পর্যন্ত হজের যাবতীয় কাজ শেষ করতে হয়। তিন প্রকার হজের মধ্যে এটি সবচেয়ে কষ্টসাধ্য, কিন্তু ফজিলতপূর্ণ। এতে ‘দমে শোকর’ বা কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব।
৩. হজে তামাত্তু: একই সফরে প্রথমে ওমরাহর ইহরাম বেঁধে তা সম্পন্ন করে ইহরামমুক্ত হওয়া এবং পরে হজের সময় (৮ জিলহজ) নতুন করে হজের ইহরাম বেঁধে হজ পালন করাকে হজে তামাত্তু বলে। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অধিকাংশ হাজি এই পদ্ধতিতে হজ পালন করেন। এই হজেও কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব।
হজ সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক:
১. কাবা শরিফ: তাওয়াফের জন্য।
২. সাফা ও মারওয়া: সায়ি করার জন্য।
৩. মিনা: অবস্থান ও শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য।
৪. আরাফাহ: অবস্থানের জন্য।
৫. মুজদালিফা: রাত যাপন ও পাথর সংগ্রহের জন্য।