রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি কাজই ছিল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল রাতের ইবাদত ও শোওয়ার আগের বিশেষ আমলসমূহ। নবীজি (সা.) কীভাবে রাত কাটাতেন এবং ঘুমের আগে কোন সুরাগুলো পড়তেন, তা প্রতিটি মুমিনের জন্য অনুসরণীয়।
নবীজি (সা.) ঘুমানোর আগে বেশ কিছু আমল করতেন, যা আমাদের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত কার্যকর:
হাদিস শরিফে ঘুমানোর আগে চার কুল (সুরা কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক ও নাস) পড়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
সুরা কাফিরুন
আরবি: قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ
উচ্চারণ: কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন
অর্থ: বলুন, হে কাফিরগণ,
২.
আরবি: لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ
উচ্চারণ: লা আবুদু মা তাবুদুন
অর্থ: তোমরা যার উপাসনা করো, আমি তাঁর উপাসনা করি না।
৩.
আরবি: وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ
উচ্চারণ: ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আবুদ
অর্থ: আর আমি যাঁর ইবাদত করি, তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও।
৪.
আরবি: وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ
উচ্চারণ: ওয়ালা আনা আবিদুম মা আবাদতুম
অর্থ: আর তোমরা যাঁর উপাসনা করে আসছ, আমি তাঁর উপাসনাকারী নই।
৫.
আরবি: وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ
উচ্চারণ: ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আবুদ
অর্থ: আর আমি যাঁর ইবাদত করি, তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও।
৬.
আরবি: لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ
উচ্চারণ: লাকুম দিনুকুম ওয়া লিয়া দিন
অর্থ: তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম আর আমার জন্য আমার ধর্ম।
শিক্ষা: এই সুরা কাফিরদের সঙ্গে আদর্শিক আপস না করার শিক্ষা দেয়।
সুরা ইখলাস
১.
আরবি: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
উচ্চারণ: কুল হুয়াল্লাহু আহাদ
অর্থ: বলুন, তিনি আল্লাহ—এক ও অদ্বিতীয়।
২.
আরবি: اللَّهُ الصَّمَدُ
উচ্চারণ: আল্লাহুস সামাদ
অর্থ: আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন, বরং সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী।
৩.
আরবি: لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
উচ্চারণ: লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ
অর্থ: তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।
৪.
আরবি: وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ: ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ
অর্থ: এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।
ফজিলত: এই সুরা একবার পাঠ করলে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠের সওয়াব পাওয়া যায়।
সুরা ফালাক
১.
আরবি: قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
উচ্চারণ: কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক
অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় চাই ভোরের রবের কাছে।
২.
আরবি: مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: মিন শাররি মা খালাক
অর্থ: তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে।
৩.
আরবি: وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
উচ্চারণ: ওয়া মিন শাররি গাসিকিন ইজা ওয়াকাব
অর্থ: এবং অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয়।
৪.
আরবি: وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
উচ্চারণ: ওয়া মিন শাররিন নাফ্ফাসাতি ফিল উকাদ
অর্থ: এবং গিঁটে ফুঁ দেয়—এমন জাদুকরদের অনিষ্ট থেকে।
৫.
আরবি: وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
উচ্চারণ: ওয়া মিন শারবি হাসিদিন ইজা হাসাদ
অর্থ: এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।
উপকারিতা: এটি জাদু-টোনা ও হিংসুকদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে।
সুরা নাস
১. আরবি: قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
উচ্চারণ: কুল আউজু বিরাব্বিন নাস
অর্থ: বলুন, আমি মানুষের রবের কাছে আশ্রয় চাই।
২.
আরবি: مَلِكِ النَّاسِ
উচ্চারণ: মালিকিন নাস
অর্থ: মানুষের অধিপতির কাছে।
৩.
আরবি: إِلَٰهِ النَّاسِ
উচ্চারণ: ইলাহিন নাস
অর্থ: মানুষের উপাস্যের কাছে।
৪.
আরবি: مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
উচ্চারণ: মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস
অর্থ: সেই কুমন্ত্রণা দানকারীর অনিষ্ট থেকে, যে গোপনে কুমন্ত্রণা দেয়।
৫.
আরবি: الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
উচ্চারণ: আল্লাজি ইউওয়াসউইসু ফি সুদুরিন নাস
অর্থ: যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়।
৬.
আরবি: مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
উচ্চারণ: মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস
অর্থ: সে জিনদের মধ্য থেকে হোক বা মানুষের মধ্য থেকে।
উপকারিতা: শয়তান ও মানুষের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে এই সুরা অত্যন্ত কার্যকর।
নবীজির সুন্নতি পদ্ধতিতে রাত কাটানো কেবল সওয়াবের কাজই নয়, এটি দুশ্চিন্তামুক্ত ও গভীর ঘুমের জন্য এক মহৌষধ। রাতে ঘুমানোর আগে কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে আমল করলে পুরো রাত রহমতের নিচে থাকা যায়।