ইসলামে ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার প্রধান শর্ত হলো নিয়ত বা সংকল্প। বিশেষ করে রমজানের রোজার ক্ষেত্রে নিয়ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সংকল্প করা, ইচ্ছা করা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি: ১)
রোজার নিয়ত আসলে কী?
রোজার নিয়ত করার অর্থ হলো—সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকার দৃঢ়সংকল্প করা। এটি মূলত অন্তরের বিষয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর মতে, ‘যে ব্যক্তি মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় যে সে আগামীকাল রোজা রাখবে, তার নিয়ত হয়ে গেছে।’ (আল-ইখতিয়ারাত)
নিয়ত ছাড়া রোজা শুদ্ধ হয় না। যদি কেউ সারা দিন না খেয়ে থাকেন, কিন্তু মনে রোজা রাখার কোনো ইচ্ছা বা সংকল্প না থাকে, তবে তা রোজা হিসেবে গণ্য হবে না। তাকে অবশ্যই ওই রোজার কাজা আদায় করতে হবে। (তাতারখানিয়া)
মুখে নিয়ত করা কি আবশ্যক?
অনেকে মনে করেন আরবিতে নির্দিষ্ট দোয়া পড়ে নিয়ত করা জরুরি। এ ধারণা সঠিক নয়। মনে মনে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নিলেই নিয়ত হয়ে যাবে। মুখে বলা বাধ্যতামূলক নয়, তবে মনস্থির করার জন্য বলা যেতে পারে। (ফাতাওয়ায়ে শামি)
নিয়ত যেকোনো ভাষায় হতে পারে। যারা আরবি বোঝেন না, তাদের জন্য নিজ ভাষায় নিয়ত করাই উত্তম। কারণ, নিয়ত মানে হলো ‘বোঝা ও সংকল্প করা’, শুধু মুখস্থ কিছু শব্দ উচ্চারণ করা নয়। (জাওয়াহিরুল ফিকহ)
পুরো মাসের নিয়ত কি একবারেই করা যায়?
ফকিহদের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী, রমজানের প্রতিটি রোজার জন্য পৃথক পৃথক নিয়ত করা জরুরি। প্রথম রমজানে পুরো মাসের জন্য একবার নিয়ত করা যথেষ্ট নয়। (ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া)