হোম > ইসলাম

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত ও দোয়া

ইসলাম ডেস্ক

মসজিদে নামাজ আদায় করছেন একজন মুসল্লি। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে সব ধরনের নফল ইবাদতের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত ও মর্যাদা সর্বাপেক্ষা বেশি। শেষ রাতের নিভৃত প্রহরে বান্দা যখন ঘুম ভেঙে আল্লাহর দরবারে সিজদাবনত হয়, তখন তার সঙ্গে মহান আল্লাহর সরাসরি সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এই নামাজ কেবল শয়তানের কুমন্ত্রণা ও শত্রুর অপকারিতা থেকে রক্ষা করে এবং মানুষের আত্মার আত্মিক উন্নয়ন ঘটায়।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত

অন্যান্য সব ইবাদতের মতো তাহাজ্জুদ নামাজের জন্যও অন্তরের সংকল্প বা নিয়তই প্রধান। মুখে নির্দিষ্ট আরবি শব্দ উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়; মনে মনে ‘আমি দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করছি’ এমন সংকল্প নিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজে দাঁড়ালেই নিয়ত হয়ে যাবে।

তবে মুখে নিয়ত বলতে চাইলে নিম্নোক্ত নিয়তটি করা যায়:

আরবি:

نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلَّهِ تَعَالَى رَكْعَتَيْ صَلَاةِ التَّهَجُّدِ، مُتَوَجِّهًا إِلَى الْقِبْلَةِ الشَّرِيفَةِ، اللَّهُ أَكْبَرُ

বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকআতাই সালাতিত তাহাজ্জুদি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলাল কিবলাতিশ শারিফাতি। আল্লাহু আকবার।

অর্থ: আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহ তাআলার জন্য দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত করলাম। আল্লাহু আকবার।

তাহাজ্জুদের উদ্দেশ্যে উঠে রাসুল (সা.) যে আয়াত তিলাওয়াত করতেন

হাদিস শরিফে এসেছে, প্রিয় নবী (সা.) গভীর রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশ্যে উঠে সুরা আলে ইমরানের শেষ অংশের আয়াতগুলো পাঠ করতেন:

আরবি:

رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ–رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ–رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلإِيمَانِ أَنْ آمِنُواْ بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الأبْرَارِ

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করোনি। পবিত্রতা তোমারই জন্য। আমাদের তুমি জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচাও। হে প্রতিপালক! নিশ্চয়ই তুমি যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো, তাকে অপমানিত করো। আর জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। হে আমাদের প্রভু! আমরা ইমান আনার জন্য একজন আহ্বানকারীকে আহ্বান করতে শুনে ইমান এনেছি। হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দাও। আমাদের সকল দোষ-ত্রুটি দূর করে দাও। আর নেক লোকদের সঙ্গে আমাদের মৃত্যু দাও।’

তাহাজ্জুদে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশেষ প্রারম্ভিক দোয়া

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশ্যে যখন দাঁড়াতেন, তখন তিনি এই দোয়াটি পাঠ করতেন:

আরবি:

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ، لَكَ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ الْحَقُّ، وَوَعْدُكَ الْحَقُّ، وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ، وَقَوْلُكَ حَقٌّ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ، وَمُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ، اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ، فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ ـ أَوْ لاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আন্তা কাইয়্যিমুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফিহিন্না ওয়া লাকাল হামদু। লাকা মুলকুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফিহিন্না। ওয়া লাকাল হামদু আন্তা নুরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি। ওয়া লাকাল হামদু আন্তাল হাক্কু। ওয়া ওয়াদুকাল হাক্কু। ওয়া লিকাউকা হাক্কু। ওয়াল জান্নাতু হাক্কু। ওয়ান নারু হাক্কু। ওয়ান নাবিয়্যুনা হাক্কু। ওয়া মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা হাক্কু। ওয়াস সাআতু হাক্কু। আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু, ওয়া বিকা আমান্তু, ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু, ওয়া ইলাইকা আনাবতু, ওয়া বিকা খাসামতু, ওয়া ইলাইকা হাকামতু; ফাগফিরলি মা কাদদামতু ওয়া মা আখখারতু, ওয়া মা আসরারতু ওয়া মা আ’লান্তু। আন্তাল মুকাদ্দিমু ওয়া আন্তাল মুআখখিরু, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা—আও লা ইলাহা গাইরুকা। (সহিহ বুখারি)

অর্থ: হে আল্লাহ, সব প্রশংসা আপনারই, আপনিই আসমান-জমিন ও উভয়ের মাঝে বিদ্যমান সবকিছুর নিয়ামক এবং আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আসমান-জমিন এবং এর মাঝে বিদ্যমান সবকিছুর কর্তৃত্ব আপনারই। আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আপনি আসমান-জমিনের নুর। আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আপনি আসমান-জমিনের মালিক, আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আপনিই চির সত্য। আপনার ওয়াদা চির সত্য। (পরকালে) আপনার সাক্ষাৎ সত্য। আপনার বাণী সত্য। আপনার জান্নাত সত্য। আপনার জাহান্নাম সত্য। আপনার (প্রেরিত) নবীগণ সত্য। মুহাম্মাদ (সা.) সত্য, কেয়ামত সত্য।

হে আল্লাহ! আপনার কাছেই আমি আত্মসমর্পণ করলাম, আপনার ওপর ইমান আনলাম, আপনার ওপরই ভরসা করলাম, আপনার দিকেই রুজু করলাম, আপনার (সন্তুষ্টির জন্যই) শত্রুতায় লিপ্ত হলাম, আপনাকেই বিচারক মেনে নিলাম। তাই আপনি আমার আগের-পরের, প্রকাশ্য ও গোপন সব পাপ/অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনিই শুরু এবং আপনিই শেষ মালিক। আপনি ব্যতীত সত্য কোনো প্রকৃত ইলাহ নেই অথবা আপনি ব্যতীত (ইবাদতের উপযুক্ত) অন্য কেউ নেই।