হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

বিশ্বজুড়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ জব্দের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলির (এলএইচএ ৭) ডেকে মার্কিন মেরিন সেনারা। ছবি: ইউএস মেরিন কোর

মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে এবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরান-সংশ্লিষ্ট তেল ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় এসব জাহাজে তল্লাশি চালানো এবং সেগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযান শুরু হতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে ‘ইকোনমিক ফিউরি’ নামক একটি বিশেষ অভিযানে নেমেছে। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডসহ অন্যান্য বিভাগ এই অভিযানে অংশ নেবে।

এর আওতায় ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ বা তেহরানকে সহায়তা দেওয়া যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। বিশেষ করে ‘ডার্ক ফ্লিট’ বা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা অবৈধ জাহাজগুলো, যারা পরিচয় গোপন করে তেল বা অস্ত্র বহন করছে, তাদের তাড়া করবে যুক্তরাষ্ট্র।

গত চব্বিশ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান। কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ওয়াল স্ট্রিটকে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াশিংটন চাইছে, এই অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধের মাধ্যমে তারা ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে নমনীয় হতে এবং হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দিতে বাধ্য করবে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইরানি বন্দর ত্যাগের চেষ্টাকালে ২৩টি জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনী ফিরিয়ে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেছিলেন, ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ছাড়া ইরান কত দিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে এবং তাদের জব্দ করা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফেরত পাবে কি না—তা নিয়েও বর্তমানে দর-কষাকষি চলছে।

ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা চীন। জেনারেল কেইনের এই বক্তব্য মূলত বেইজিংয়ের জন্য একটি পরোক্ষ সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও বড় করেছে। এর মধ্যে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা প্রয়াত আলী শামখানির ছেলে মোহাম্মদ হোসেন শামখানির নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি ও জাহাজগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আগামী ২২ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যকার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানে গত সপ্তাহের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় উভয় পক্ষই নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ গুদাম থেকে ক্ষেপণাস্ত্র বের করে আনছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক অভিযান শুরু করতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনই স্থল সেনা পাঠাতে আগ্রহী নয়; বরং অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমেই সমাধান খুঁজছে।

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন পিরো জানিয়েছেন, তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানি তেল কেনাবেচাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবেন। এর আগে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরে জাহাজ জব্দ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবরোধ, ডার্ক ফ্লিট জব্দ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ চোরাচালান রোধ—এই তিন ফ্রন্টে আঘাত করে ইরানকেও আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে চাইছে ওয়াশিংটন।

হরমুজ বন্ধের ভয় দেখিয়ে ইরান ব্ল্যাকমেল করতে পারবে না: ট্রাম্প

ইরান-হরমুজ নিয়ে এক ঘণ্টায় ট্রাম্পের ৭ দাবি, সব কটিই মিথ্যা

আমার কাছে ইরান প্রসঙ্গে ‘বেশ কিছু ভালো খবর’ আছে: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি খোলার কথা শুনে সি খুব খুশি হয়েছেন: ট্রাম্প

বিয়ে করতে কেন দেশ ছাড়ছেন পশ্চিমা পুরুষেরা

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হবে: ট্রাম্প

ইরান ইস্যুতে দেশীয় গণমাধ্যমের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, প্রশংসার দাবি

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে ২০ বিলিয়ন ডলার নগদ পাচ্ছে ইরান

রাজনীতি থেকে অবসরের পর এ কেমন জীবন ট্রুডোর

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ায় ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প