জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের দর্শকসারিতে বসা ছিলেন রুবি চেন। তিনি ইসরায়েলি সেনা ও হামাসের হাতে মৃত অবস্থায় জিম্মি হওয়া ইতাই চেনের বাবা। তিনি নিউইয়র্কে এসেছিলেন একটাই আশা নিয়ে—বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখে গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের খবর শোনার জন্য। কিন্তু নেতানিয়াহু তাদের নিয়ে কোনো আশার বাণী শোনাননি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী—ইতাই ছিলেন দেশটির সেনা এবং তাঁর মার্কিন-ইসরায়েল নাগরিকত্ব ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালালে তিনি নিহত হন। পরে তাঁর মরদেহ গাজায় নিয়ে যায় হামাস। ছেলের ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত উত্তর পেতে এখনো মরিয়া রুবি চেন।
কিন্তু নেতানিয়াহু যখন গাজায় আটক জিম্মিদের নাম পড়ছিলেন, তখন তালিকায় ছেলের নাম খুঁজে পাননি তিনি। কারণ, নেতানিয়াহু কেবল জীবিতদের নামই পড়ছিলেন। বিবিসির ওএস প্রোগ্রামে চেন বলেন, ‘তাঁর বক্তৃতা শুনতে শুনতে দেখলাম তিনি গাজায় আটক ২০ জন জিম্মির নাম বললেন। কিন্তু আমার ছেলের নাম নিলেন না। এতে আমি কোনো সম্মান পাইনি।’
অবহেলিত মনে হওয়ায় তিনি উঠে দাঁড়িয়ে সভা ত্যাগ করেন এবং বাইরে থাকা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন। চেন বলেন, ‘এখন সময় এসেছে এই দুই বছরের অন্তহীন যুদ্ধ নিয়ে ভেবে দেখার। এখানে দুই পক্ষেরই অনেক কষ্ট হয়েছে। অনেক বেদনা জমেছে।’
এর আগে, গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ শুরু করতেই হল থেকে বেরিয়ে যান সেখানে উপস্থিত বেশির ভাগ কর্মকর্তা ও কূটনীতিক। ঘটনাটি ছিল নজিরবিহীন কূটনৈতিক প্রতিবাদ।
দেখা গেছে, জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে উপস্থিত প্রতিনিধিদের একটি বিশাল অংশ, নেতানিয়াহুর বক্তব্য চলাকালীন ওয়াকআউট করেন। ওয়াকআউটে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ছিলেন প্রায় সমস্ত আরব ও মুসলিম দেশের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি আফ্রিকান এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় দেশের কূটনীতিকেরাও তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে হল ত্যাগ করেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ টির বেশি দেশের শতাধিক কূটনীতিক ওয়াকআউট করেছেন। যারা চেয়ারে বসে ছিলেন তাঁদেরও অনেককে হাততালি দিয়ে উদ্যাপন করতে দেখা যায়। একাধিক গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বাংলাদেশের জন্য সংরক্ষিত চেয়ারগুলোও ফাঁকা। তবে আজকের পত্রিকা এটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে পারেনি।