হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে চুক্তির ‘কাঠামো’ প্রস্তুত, ইউরোপের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে আলোচনার পর গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন। ট্রাম্প বলেন, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ‘খুবই ফলপ্রসূ বৈঠকের’ পর গ্রিনল্যান্ড এবং ‘সমগ্র আর্কটিক অঞ্চল’ নিয়ে একটি ‘ভবিষ্যৎ কাঠামো’তে তিনি একমত হয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ‘দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি’ ঘোষণার পর ট্রাম্প যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের ওপর প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করেন। ইউরোপীয় মিত্ররা এর আগে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার তাঁর পরিকল্পনাকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্পের দুই ঘণ্টার দীর্ঘ বক্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প এই বিষয়টি জানালেন। বক্তৃতায় তিনি ডেনমার্কের কাছ থেকে অবিলম্বে গ্রিনল্যান্ড কেনার অধিকার দাবি করেছিলেন। তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির বিরোধিতা করা ইউরোপীয় মিত্রদের তীব্রভাবে সমালোচনা করেন এবং বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের পরাজিত করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড পাওয়ার অধিকারী।

বুধবার রাতে দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চুক্তির শর্ত ব্যাখ্যা করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি ‘খুব দীর্ঘমেয়াদি’ এবং ‘অনন্তকালীন’ একটি চুক্তি। দাভোসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা এমন একটি চুক্তি, যেটার জন্য সবাই লাফিয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দারুণ। আমরা যা যা চেয়েছিলাম, সবই এতে আছে—বিশেষ করে প্রকৃত জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা।’

তিনি আরও জানান, রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য গ্রিনল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্প নিয়েও একটি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্য টেলিগ্রাফকে সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করার বিষয়টি নেই। এর পরিবর্তে, দাভোসে যে কাঠামোতে একমত হওয়া হয়েছে, তাতে গ্রিনল্যান্ডের কিছু অংশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

এই প্রস্তাবটি ব্রিটেনের সঙ্গে সাইপ্রাসের চুক্তির আদলে তৈরি। ওই ঘাঁটিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান, গোয়েন্দা কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ চালাতে পারবে। পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়নও হবে, যার মধ্যে বিরল খনিজ উত্তোলনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটে বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের মূল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেননি। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তিনি মূলত এটাই দেখছেন—এই বিশাল আর্কটিক অঞ্চলে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, যেখানে এখন দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং চীন ও রাশিয়া ক্রমেই সক্রিয় হচ্ছে। কীভাবে আমরা এটাকে সুরক্ষিত রাখব।’

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া আকস্মিক ঘোষণায় ট্রাম্প লেখেন, ‘ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে আমার খুবই ফলপ্রসূ বৈঠকের ভিত্তিতে আমরা গ্রিনল্যান্ড এবং আসলে পুরো আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে ভবিষ্যৎ একটি চুক্তির কাঠামো তৈরি করেছি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এই সমঝোতার ভিত্তিতে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যে শুল্ক আরোপের কথা ছিল, আমি তা আর কার্যকর করছি না। গ্রিনল্যান্ডে গোল্ডেন ডোম প্রকল্পের বিষয়েও অতিরিক্ত আলোচনা চলছে।’

ন্যাটোর এক মুখপাত্র বলেন, রুটে ও ট্রাম্পের বৈঠকটি ‘খুবই ফলপ্রসূ’ ছিল। তিনি জানান, রাশিয়া ও চীন যেন অর্থনৈতিক বা সামরিকভাবে গ্রিনল্যান্ডে কোনো অবস্থান তৈরি করতে না পারে, সে জন্য ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট যে কাঠামোর কথা উল্লেখ করেছেন, তা নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের আলোচনা মূলত আর্কটিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরই কেন্দ্রীভূত থাকবে, বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলের দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

ডেনমার্ক এই চুক্তি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি। তবে বুধবার ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, ট্রাম্পের শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। তবুও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা বৃহস্পতিবার একটি জরুরি শীর্ষ সম্মেলন করবেন। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা সমন্বয়ের জন্যই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের হুমকি থেকে সরে আসার পর ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা যায়। সপ্তাহের শুরুতে বড় পতনের পর বাজার ঘুরে দাঁড়ায়।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা দাভোসে দেওয়া তাঁর বহুল আলোচিত ভাষণের সতর্কবার্তার সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। ওই ভাষণে তিনি অবিলম্বে গ্রিনল্যান্ড কেনার আলোচনা শুরুর দাবি জানান এবং বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপকে বাঁচানোর জন্য ইউরোপের উচিত দ্বীপটি আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া। ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘তাৎক্ষণিক আলোচনা’ চান, যাতে ‘বড়, সুন্দর বরফের টুকরোটি’ অধিগ্রহণ করা যায়। তিনি আরও বলেন, ডেনমার্ক যদি না বলে, তবে ওয়াশিংটন তা ‘মনে রাখবে।’

তিনি ডেনমার্ককে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে সুরক্ষা দিয়েছে, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ নয়। দাভোসে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা না থাকলে, এখন আপনারা সবাই জার্মান ভাষায় কথা বলতেন, হয়তো একটু জাপানিও।’ ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে সামরিক আগ্রাসনের সম্ভাবনা নাকচ করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্বীপটি তিনি কিনতেই চান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো লিজ চুক্তি চান না, বরং ‘মালিকানা ও শিরোনাম’ চান। তিনি মন্তব্য করেন, ‘কে চায় একটা লাইসেন্স চুক্তি রক্ষা করতে?’

একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, ‘অতিরিক্ত শক্তি ও বলপ্রয়োগ না করলে আমরা হয়তো কিছুই পাব না।’ এরপরই তিনি যোগ করেন, ‘আমাকে শক্তি ব্যবহার করতে হবে না। আমি শক্তি ব্যবহার করতে চাই না। আমি শক্তি ব্যবহার করব না।’

এই ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি সামরিক হুমকি থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোনোর ইঙ্গিত দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ও চীন থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই সক্ষম। আর সেটিই শেষ পর্যন্ত মার্ক রুটের সঙ্গে হওয়া চুক্তির পথ তৈরি করে।

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ‘সনিক উইপন’ ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প, বিশেষ অস্ত্রটি যেভাবে কাজ করে

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল ঠেকানোর সাধ্য কারও নেই, তবে বল প্রয়োগ করব না: ট্রাম্প

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ন্যাটোতে মার্কিন অংশগ্রহণ কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, লাগবে কয়েক বছর

যদি কিছু ঘটে, ওদের পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলব—কাকে এমন হুমকি দিলেন ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে পিছু হটার সুযোগ নেই, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ট্রাম্প

এবার ব্রিটেনের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে ‘নজর’ ট্রাম্পের, অস্বস্তিতে স্টারমার

গ্রিনল্যান্ড দখলে বল প্রয়োগ করবেন কি না—প্রশ্নে ট্রাম্পের ‘নো কমেন্ট’

৮টি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পুরস্কার পাইনি, শান্তির আর তোয়াক্কা করি না: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও যৌনব্যবসা, ভারতীয় দম্পতি গ্রেপ্তার