হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

২৬টি স্যাটেলাইট স্থাপনের পর প্রশান্ত মহাসাগরে ল্যান্ডিং করল স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: স্পেসএক্স

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের মেগারকেট ‘স্টারশিপ’ ১৪তম বারের মতো পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর অবশেষে সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসের স্টারবেস কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশে ২৬টি স্টারলিংক ভি-৩ স্যাটেলাইট স্থাপন করে রকেটটি। তবে থ্রাস্টার সংক্রান্ত কারিগরি জটিলতার কারণে প্রায় ১০ ঘণ্টার নির্ধারিত দীর্ঘ মিশন সংক্ষিপ্ত করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করেছে।

১২৪ মিটার (৪০৭ ফুট) দীর্ঘ এই স্পেসশিপ ও সুপার হেভি বুস্টার সোমবার নির্ধারিত সময়ে টেক্সাসের বোকা চিকা থেকে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা হয়। উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মাথায় প্রথম ধাপের ‘সুপার হেভি’ বুস্টারটি আলাদা হয়ে মেক্সিকো উপসাগরে সফলভাবে নেমে আসে। অন্যদিকে স্টারশিপের মূল মহাকাশযানটি প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করে ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করে। এর আগের ১৩টি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে এটি কেবল সাব-অরবিটাল ধাপে পৌঁছাতে পেরেছিল।

মহাকাশে অবস্থানকালে স্টারশিপটি সাফল্যের সঙ্গে স্পেসএক্সের পরবর্তী প্রজন্মের ২৬টি আধুনিক ‘স্টারলিংক ভি৩’ ইন্টারনেট স্যাটেলাইট কক্ষপথে নিখুঁতভাবে স্থাপন করে। এটিই ছিল স্টারশিপের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে পে-লোড বা উপগ্রহ স্থাপনের প্রথম সফল পরিচালনা।

মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী স্টারশিপটি পৃথিবীর চারপাশে ৬ বার প্রদক্ষিণ করে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর চিলির কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে নামার কথা ছিল। এ ছাড়া ভারতের আকাশসীমার ওপর দিয়েও এর অতিক্রম করার কথা ছিল। কিন্তু মহাকাশযানের ইঞ্জিনের থ্রাস্টারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মিশন সংক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেয় স্পেসএক্সের মিশন কন্ট্রোল টিম। ফলে ভারতের ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণ এড়াতে পথ পরিবর্তন করে মহাকাশযানটি হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে।

সময়ের আগে মিশন শেষ হলেও এই পরীক্ষাটিকে অত্যন্ত সফল হিসেবে দেখছে স্পেসএক্স। প্রথমবার পূর্ণ কক্ষপথে পৌঁছানো এবং স্যাটেলাইট সফলভাবে স্থাপন করা ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের জন্য বড় অগ্রগতি। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির আওতায় চাঁদে নভোচারী পাঠানোর জন্য স্টারশিপের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে। আজকের অর্জিত তথ্য ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে পুনর্ব্যবহারযোগ্য যান পাঠানোর লক্ষ্যকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।