হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ট্রাম্পের ইউটার্ন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের ইরান হামলা নিয়ে তাঁর অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছিলেন, এটি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান পরমাণু আলোচনাকে ভেস্তে দেবে। কিন্তু হামলার পরপরই তিনি সুর পাল্টে এই হামলাকে ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করেছেন। এর জন্য ইরানকেই দায়ী করেছেন তিনি।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে, ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইসরায়েল এমন পদক্ষেপ নিক সেটি তিনি চান না, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনাকে ভেস্তে দেবে। কিন্তু হামলার পরপরই ট্রাম্প অবস্থান পরিবর্তন করে বলেন, এই হামলাগুলো, তাঁর ভাষায়, ‘চমৎকার’।

এরপর ট্রাম্প ইসরায়েল এই হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করে বলেন, এটি ঘটেছে, কারণ ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে নেয়নি।

ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে আরও সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে আরও ‘নৃশংস’ হামলা হবে এবং ইরানের জন্য এখন চুক্তিতে আসার সময় হয়েছে।

ট্রাম্প দুটি পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখাচ্ছেন। অবশ্য রিপাবলিকান পার্টির বিভিন্ন অংশের মধ্যেও এই দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে। এমন কিছু মানুষ আছেন যারা চান ট্রাম্প তাঁর অভিষেক ভাষণে দেওয়া প্রতিশ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী কূটনৈতিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবির্ভূত হোন। অন্যদিকে, কিছু যুদ্ধবাজের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানে বোমাবর্ষণে জড়িয়ে যাক। ট্রাম্প নিজেও এ ধরনের হুমকি দিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, তিনি এবং তাঁর প্রশাসন হামলার বিষয়ে আগে থেকেই অবগত ছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সবকিছু জানতাম এবং আমি ইরানকে অপমান ও মৃত্যু থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলাম। আমি অনেক চেষ্টা করেছি কারণ আমি একটি চুক্তি সম্পন্ন হওয়া দেখতে চেয়েছিলাম।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সবকিছু হারানোর আগে ইরানকে একটি চুক্তি করার আহ্বান জানাই। একসময় পারস্য সাম্রাজ্য নামে পরিচিত দেশটিকে রক্ষা করতে হবে। আর মৃত্যু নয়, আর ধ্বংস নয়, শুধু চুক্তিটা করতে হবে, খুব দেরি হওয়ার আগেই।’

যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে, তবে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ‘বিশ্বের সেরা এবং সবচেয়ে প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম’ ব্যবহার করেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান চুক্তি না করলে, আরও হামলা হবে।

ট্রাম্পের এই পরিবর্তিত অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অধীনে তাঁর পররাষ্ট্রনীতি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

আরও খবর পড়ুন:

তেহরানের সঙ্গে বৈঠক বাতিল, ইরানি আন্দোলনকারীদের জন্য ‘সাহায্য’ পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

মুসলিম ব্রাদারহুডের তিনটি শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

২০২৫ সালে ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

এখনো ইরানে হামলার কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের বাড়তি ২৫% শুল্ক, কপাল আরও পুড়তে পারে ভারতের

তিন হাজারের বেশি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, মার্কিন কাঠগড়ায় উবার

গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষায় ডেনমার্কের হাতে আছে মাত্র দুই কুকুরের স্লেজ: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ডোনাল্ড ট্রাম্প!

আলোচনায় বসতে চেয়েছে ইরান, তবে তার আগেই কিছু করে ফেলতে পারি: ট্রাম্প

ইরানে সামরিক হামলাসহ কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাব: ট্রাম্প