মধ্যপ্রাচ্য সফরের শুরুতে আজ শুক্রবার ইসরায়েলে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি কমানোর দিকে দৃষ্টি দিতেই তেল আবিব সফর করছেন ব্লিঙ্কেন।
ইসরায়েলে যাওয়ার আগে ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন , ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য ইসরায়েলের কাছ থেকে ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ চাইবেন তিনি। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজায় চলমান সংঘাতে মানবিক বিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক প্ল্যাটফর্মে এক্সে পোস্ট দিয়ে ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন, ‘এক অবিশ্বাস্য রকমের চ্যালেঞ্জিং সময়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে তেল আবিব যাচ্ছি। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও সংঘাতের বিস্তার রোধ করতে আমরা আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব। আমরা দুই রাষ্ট্র এবং এই অঞ্চলে বৃহত্তর শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার দিকে মনোনিবেশ করছি।’
এদিকে গাজায় এখনো পুরোদমে চলছে ইসরায়েলই বাহিনীর স্থল ও বিমান হামলা। গত বৃহস্পতিবার রাতজুড়ে জাবালিয়া, বুরেজি, বেইত লাহিয়া ও গাজা শহরের পাশে অবস্থিত আল-জায়তুন ও তাল আল-হাওয়ায় চলেছে ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) স্থল ও বিমান হামলা। লাগাতার বোমাবর্ষণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। পশ্চিম তীরেও চলেছে আইডিএফের অভিযান। ফিলিস্তিনের একটি টিভি চ্যানেলের সংবাদকর্মী মোহাম্মাদ আবু হাতাব তাঁর নিজ বাসায় পরিবারের ১০ সদস্যসহ নিহত হয়েছেন এই হামলায়।
আল জাজিরা জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বুরেজি শরণার্থী শিবিরে আঘাত হেনেছে ১০টি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গতকালই এই ক্যাম্পে ১৫ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মুহুর্মুহু হামলায় অন্ধকার হয়ে গেছে পুরো এলাকা।
গত ৭ অক্টোবর সকালে ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা শুরু করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এই হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলও যুদ্ধ ঘোষণা করে হামাসের বিরুদ্ধে। এর পর থেকেই দফায় দফায় গাজায় বিমান ও স্থল হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
এসব হামলায় প্রতিনিয়তই প্রাণ হারাচ্ছে গাজাবাসী, হচ্ছে গুরুতর আহত। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজা ও পশ্চিম তীরে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯ হাজার। আহত হয়েছে ২৩ হাজারেরও বেশি। এসব হামলায় নিহতদের প্রায় শতভাগই বেসামরিক নাগরিক। তাদের মধ্যে আবার অধিকাংশই নারী ও শিশু।