এ পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের একটিতে মানুষের ভোটে (পপুলার ভোট) জয়ী হওয়ার অর্থ একজন প্রার্থী সেই অঙ্গরাজ্যের সব কটি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়ে যাবেন। ইলেকটোরাল কলেজের মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। যে প্রার্থী ২৭০ বা তার বেশি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পান, তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ফলে পপুলার ভোটের পাশাপাশি এই ইলেকটোরাল কলেজের দিকেও নজর রাখতে হয় প্রার্থীদের।
এবারের নির্বাচনে প্রধান দুই প্রার্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের জরিপে দেখা গেছে, দুই প্রার্থীই সমানে সমান।
উভয়ের প্রতিই ভোটারদের সমর্থন ছিল ৪৮ শতাংশ করে। তবে এটিই একমাত্র জরিপ নয়। সম্প্রতি এমন বেশ কিছু জরিপের ফল সামনে এসেছে। সেগুলোতেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। কোনো কোনোটিতে আবার ট্রাম্প এগিয়ে আছেন। উদাহরণস্বরূপ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের জরিপে তিন পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী। অন্যদিকে তাঁকে দুই পয়েন্ট এগিয়ে রেখেছে সিএনবিসি।
বিভিন্ন জরিপে ইঙ্গিত মিলছে, পপুলার ভোটে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে গত আট নির্বাচনের মধ্যে সাতটিতেই সর্বোচ্চসংখ্যক ভোট পান ডেমোক্র্যাটরা। কিন্তু এই পপুলার ভোটের কল্যাণে সব সময় হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি দলটি। ফলে ভবিষ্যতেও যে এর পুনরাবৃত্তি হবে না; তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ট্রাম্প যদি এবার পপুলার ভোটে জয়ী হন, তাহলে সেটি ব্যাখ্যা করা খুব কঠিন হবে না। তবে বর্তমানে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিসের জন্য এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কেননা মাত্র ২৮ শতাংশ ভোটার মনে করছেন, দেশ সঠিক পথে রয়েছে। এর আগে ভোটারদের এত কম অংশের সন্তুষ্টি নিয়ে কোনো দলই হোয়াইট হাউস ধরে রাখতে পারেনি।
ভোটারদের মধ্যে বর্তমানে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অ্যাপ্রুভাল রেটিং মাত্র ৪০ শতাংশ। রয়েছে অর্থনৈতিক সংকটের মতো বিষয়গুলো। ফলে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হিসেবে এগুলো কমলা হ্যারিসের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। স্বভাবতই এর ফল ঘরে তুলতে চাইবে ট্রাম্প শিবির। তবে শেষ পর্যন্ত ইলেকটোরাল কলেজের সমীকরণই প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।