যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এরই মধ্যে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে কোটি কোটি ডলার খরচ করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। এমন বিপর্যয়কর ফলাফলের পরও এখন নীরব রয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘনঘন পোস্ট দিলেও এখনো তিনি সম্পূর্ণ নীরব।
নির্বাচনের প্রচারণায় অভাবনীয় অঙ্কের অর্থ ঢালার পর ফল প্রকাশের রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ইলন মাস্কের এই নীরবতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সামাজিক মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সক্রিয় হিসেবে পরিচিত মাস্ক ভোটগ্রহণের দিনেও একটি পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আজ লাল দলকে (রিপাবলিকান পার্টি) ভোট দিন।’ তবে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করার পর থেকে টানা সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তিনি এক্স-এ আর কোনো পোস্ট বা মন্তব্য করেননি।
চলতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে মোট ৪৭ কোটি ৪০ লাখ (৪৭৪ মিলিয়ন) ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন এই প্রযুক্তি ধনকুবের।
বিশেষ করে টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের প্রচারণায় মাস্ক একাই ২১ কোটি ২০ লাখ ডলার ঢেলেছেন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার এবং নেতিবাচক বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্যই তিনি খরচ করেন প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ (১৫৮ মিলিয়ন) ডলার।
তবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত ফলাফল না মেলা এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয় সুনিশ্চিত হওয়ায় ইলন মাস্কের কৌশলগত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
‘রাজনৈতিক প্রভাব’ নাকি ব্যর্থ বিনিয়োগ?
প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক মাধ্যম এক্স-কে ব্যবহার করে ডানপন্থী ও রিপাবলিকান ভাবধারা প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন মাস্ক। নির্বাচনের দিন ফল ঘোষণার মধ্যরাতে তাঁর এই আচমকা নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া মূলত তাঁর রাজনৈতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে নির্বাচনী ফল চূড়ান্ত হওয়া এবং মাস্কের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন ওয়াশিংটনের রাজনীতি পর্যবেক্ষণকারীরা।