ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক ৪ বিলিয়ন (৪০০ কোটি) ডলারের আর্থিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর চুক্তি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের এখন আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, কিছু ডেমোক্র্যাট ও বামপন্থী রাজনীতিক রিপাবলিকানদের সমালোচনা করতে ইসরায়েলকে দেওয়া আর্থিক সহায়তার বিষয়টি ব্যবহার করছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও আমি একটি চুক্তি করেছি। আমরা ইসরায়েলকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলার দিই এবং কয়েক মাস আগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এটি বন্ধ করা হবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সম্মত হয়েছি যে, এ বছরের শেষ নাগাদ আমরা ইসরায়েলকে অর্থ দেওয়া বন্ধ করব। তবে ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে আমরা তাদের সহায়তা করব।’
ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ট্রাম্প ঠিক কোন অর্থায়নের কথা বলেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। ইসরায়েলকে বছরে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে। সেটির মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। এরপর ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা চলছে।
‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল চাইলে নিজের প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম কিনতে পারবে। ইউরোপও একইভাবে অস্ত্র কিনতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ভালো অস্ত্র তৈরি করি।’
এর আগে মে মাসে সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে তিনি ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা থেকে বের করে আনতে চান। জুনে এক মার্কিন কংগ্রেস সদস্যকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েলের ‘সহায়তা গ্রহণকারী থেকে অংশীদারে’ পরিণত হওয়ার সময় এসেছে।
এদিকে ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন কমেছে, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে। জুনে কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির এক জরিপে ৪৮ শতাংশ মার্কিন ভোটার এবং ৬৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে। ২০১৭ সালে একই প্রশ্নে এই হার ছিল যথাক্রমে ১৬ ও ২০ শতাংশ।
ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নেওয়া প্রার্থীরাও দলটির প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পাচ্ছেন। এমনকি মধ্যপন্থী আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ইসরায়েল-সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা বাড়ছে।
ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘৪ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থের বিষয়টি সবাই জানে। এটি কোনো গোপন বিষয় নয়, তবে বামপন্থীরা এটিকে অন্যভাবে ব্যবহার করছে। আমরা এটা হতে দিতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের ৪ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছি, কিন্তু বছরের শেষে এটি বন্ধ হয়ে যাবে। কেন? কারণ তাদের এটির প্রয়োজন নেই।’