হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

‘শুধু হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না’, ইসরায়েলকে জেডি ভ্যান্স

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মিউনিখ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: এএফপি

ইরানের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত মার্কিন চুক্তির বিরোধিতা করায় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের নজিরবিহীন ভাষায় সমালোচনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো দেশ কেবল সহিংসতা বা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে এবং মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ সমালোচকদের জবাব দিয়ে ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তির পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁদের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া উচিত।’

ইসরায়েলি মন্ত্রীদের ক্ষোভের জবাব দিতে গিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি যদি ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তবে বিশ্বের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের ওপর এভাবে হামলা চালাতাম না।’

ইসরায়েলের সামরিক নীতির সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘নয় বা দশ মিলিয়নের (জনসংখ্যা) একটি দেশ কেবল হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না।’

তবে এই তীব্র বাদানুবাদের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখেছেন। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যুদ্ধের কঠিন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ দাঁড়িয়েছিল।

এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েল দাবি করছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইটি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে হিজবুল্লাহও এই চুক্তির শর্তাবলি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই প্রসঙ্গে জেডি ভ্যান্স কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বৈরুতের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিক হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই এই শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ অবসানের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে, বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। অনেকেই ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের বিধান নিয়ে ক্ষুব্ধ।

রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই চুক্তিকে ‘গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, ‘ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যায়নি, বরং তারা বুঝে গেল যে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিলে কাজ হয়।’

এই সমালোচনার জবাবে জেডি ভ্যান্স বলেন, এই চুক্তির ফলে ইরান কোনো ছাড় পাবে না যদি না তারা শর্ত পূরণ করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ট্রাম্পের কোটি ডলারের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প শেষ হতে না হতেই ধরা পড়ল ত্রুটি

ইন্দো-প্যাসিফিক থেকে শুধু প্যাসিফিক কমান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব কমছে!

মোদি শান্ত, ধীরস্থির এবং একজন জাঁদরেল খেলোয়াড়, আমি তেমন নই: ট্রাম্প

পছন্দ না হলে আবার হামলা শুরু করব—ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চুক্তির নথি ইসরায়েলকে দেখাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র

আমি পাশে না থাকলে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গেছে: ট্রাম্প

ট্রাম্প-ইরান চুক্তি: নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক দুঃস্বপ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে: ট্রাম্প