ইউক্রেনীয়রা সাহসিকতার সঙ্গে রুশ আক্রমণের জবাব দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমেই দেশটির ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া এক ভার্চুয়াল ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘কিয়েভে প্রতিদিনই রুশ সৈন্যরা ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি।’
একজন দোভাষীর সাহায্যে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, তাঁর দেশ ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে।’
জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনের জনগণ, সাহসী এবং স্বাধীনতাকামী মানুষদের পক্ষ থেকে আপনাদের সামনে আসতে পেরে আমি সম্মানিত। ইউক্রেনীয়রা আট বছর ধরে রুশ আগ্রাসনকে প্রতিহত করে আসছেন। তাঁরা রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ করতে তাঁদের পুত্র-কন্যাদের উৎসর্গ করেছে।’
জেলেনস্কি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের দেশের ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে। নির্ধারিত হচ্ছে আমাদের জনগণের ভাগ্য যেখানে ইউক্রেনীয়রা স্বাধীন থাকবে কি না, তাঁরা তাদের গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারবে কি না তা নির্ধারিত হচ্ছে। রাশিয়া কেবল আমাদের নয়, আমাদের ভূমি, শহর, আমাদের মূল্যবোধ, মৌলিক মানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে নৃশংস আক্রমণ করেছে।’
এ দিকে, কংগ্রেসে জেলেনস্কিকে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখান কংগ্রেস সদস্যরা।
জেলেনস্কি তাঁর ভাষণে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবারও ইউক্রেনের আকাশসীমাকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার দাবিসহ ইউক্রেনকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান। কেবল তাই নয়, রাশিয়ার আক্রমণের নৃশংসতা তুলে ধরতে গিয়ে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণকে পার্ল হারবার হামলা, কুখ্যাত ৯ / ১১ এর সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে তুলনা করেন।
এ ছাড়া, জেলেনস্কি রাশিয়াকে শাস্তি দিতে আরও কঠোর অবরোধ আরোপের আহ্বান জানান তাঁর ভাষণে।